1 Answers

হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে 'খাতামুন নাবিয়িন' বলা হয়, যার অর্থ হলো 'নবীদের সীলমোহর' বা 'শেষ নবী'। এই উপাধি দেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে।

১. নবুয়তের সমাপ্তি


ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন শেষ নবী। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না। আল্লাহ্‌ তাঁকে মানবজাতির জন্য সর্বশেষ এবং পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তিনি আগের সমস্ত নবী ও রাসূলদের বার্তাকে সমর্থন ও সম্পূর্ণ করেছেন। কুরআনে সূরা আল-আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:


مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَـٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًۭا

অনুবাদ: মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কারও পিতা নন, কিন্তু তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল এবং নবীদের সীলমোহর। আর আল্লাহ্‌ সবকিছুর ব্যাপারে সর্বজ্ঞ।

২. নবুয়তের পূর্ণতা


হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দেওয়া সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ জীবনব্যবস্থা মানবজাতির জন্য প্রকাশিত হয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি নবুয়তের কাজ সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

৩. ধর্মীয় ঐক্য এবং সংহতি


তাঁকে 'খাতামুন নাবিয়িন' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি বুঝায় যে ইসলামের মূল বার্তা সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি সকল যুগের জন্য প্রযোজ্য থাকবে।

উপসংহার


'খাতামুন নাবিয়িন' উপাধি দ্বারা বোঝানো হয় যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন শেষ নবী এবং তাঁর পরে কোনো নবী আসবে না। এটি ইসলামিক আকীদা (বিশ্বাস) এবং মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রেরিত নবুয়তের সমাপ্তির ঘোষণা প্রদান করে।

6 views

Related Questions

মানুষের জীবনপ্রবাহ গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। মানবসমাজে নিরবচ্ছিন্ন সুখ বা নিরবচ্ছিন্ন দুঃখ বিরাজোমান নয় । অথচ মানুষ যখন সুখসাগরে অবগাহন করে অকস্মাৎ দুঃখ এস হানা দেয়, মানুষ অসহায় ও হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু জীভনের এই ছন্দপতন সহজভাবে মেনে নিতে অভ্যস্ত হলে আরো সহজ এবং সুন্দর হয়ে উঠবে মানুষের জীবন। জীবন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে অনায়াসে । মন্দ কিংবা ভালো যাই হোক না কেন সত্যকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত । ত েসত্যকে রক্ষা করার জন্যে মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন । দৃঢ় মনোবলের মধ্যে দিয়ে, আদর্শ ও নীতি অক্ষুন্ন রেখে নিখাদ সৎ হয়ে উঠতে পারলেই প্রকৃত গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব । ক্নিতু সত্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত গন্তব্য উপনীত হওয়ার সংগ্রাম খুবই কঠিন। যেসব মনীসী পৃথিবী অমর হয়েছেন। তাঁরা নিষ্ঠূর নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও সত্যকে বর্জন বা ত্যাগ করেন নি, বরং আরো আঁকড়ড়ে ধরেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা) এর শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ। (Bangla to English)
1 Answers 12 Views
Translation: প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা উড়ে 'অচিন পাখি' (নতুন ড্রিমলাইনার) ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৯ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্ত H জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরে 'অচিন পাখিকে' ওয়াটার গান স্যালুট জানানো হয়। অত্যাধুনিক এই উড়োজাহাজটিতে মোট ২৯৮টি আসন রয়েছে যার মধ্যে ৩০টি বিজনেস ক্লাস, ২১টি প্রিমিয়াম ইকোনোমিক শ্রেণী ও ২৪৭ টি ইকোনোমি শ্রেণীর আসন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিমান বহরে বোয়িং ৭৮৭-৮ সিরিজের চতুর্থ ট্রিমলাইনার 'রাজহংস' উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ বছরেই ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুটি ড্রিমলাইনার কেনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনিই এ দুটি উড়োজাহাজের নাম দেন 'সোনার তরী' ও 'অচিন পাখি'। এর মধ্যে 'সোনার তরী' দেশে পৌছায় গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে। আর দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার বিমানটি বুঝে পেল ২৪ ডিসেম্বর। বিমানের বহরে এখন দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারসহ মোট ১৮টি উড়োজাহাজ আছে। ২৯৮ আসনের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার একবার জ্বালানি নিয়ে ১৩ হাজার ৯৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবে। পুরনো উড়োজাহাজগুলোর তুলনায় এই ড্রিমলাইনারের জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ ২৫ শতাংশ কম হবে। (Bangla to English)
1 Answers 4 Views