1 Answers

ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট কারণ ও প্রতিকার 


প্রচলিত অর্থে তারল্য (Liquidity) বলতে গ্রাহকের অর্থ চাহিবামাত্র পরিশোধের ক্ষমতাকে বুঝানো হয় । আর তারল্য সংকট (Liquidity crisis) হলো কোনো কারণে গ্রাহক যদি ব্যাংকের নিকট (তার সঞ্চিত অর্থ কিংবা বিনিয়োগের জন্য ঋণের টাকা) চেয়ে না পান তখন যে অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই অবস্থা। অর্থাৎ গ্রাহকের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর মতো টাকা ব্যাংকে জমা না থাকার মত অবস্থাকে তারল্য সংকট বলে। অর্থনীতিবিদদের মতে তারল্য সংকট বলতে এমন একটি অবস্থাকে বুঝায় যখন বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের স্বল্পতা (Scarcity) পরিলক্ষিত হয়।

তারল্য সংকট বর্তমানে আমাদের দেশে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এই অবস্থা বেশি দিন থাকলে ব্যাংকের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি উঠে যাবে। বেশ কিছু কারণে ব্যাংকিংখাতে তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। দু-একটি ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকই গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক অর্থ দিতে পারছে।

তারল্য সংকটের কারণঃ 
০১. ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করায় তাদের সাময়িক ঋণদানের ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে।

২. বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ আমানত অনুপাত কমিয়ে দিয়েছে, যা আগে ছিল সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো জন্য ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ছিল ৯০ শতাংশ। নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ছিল ৮৯ শতাংশ। প্রথম সার্কুলারে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে ঋণ আমানত অনুপাত সমন্বয় করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে । 

০৩. আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার কিনে ফলে টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চলে যায়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নগদ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নেওয়ার কারণে তারল্য সংকট দেখা দেয় ৷

০৪. বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমে যাওয়া। বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে আমাদের দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেছে। কারণ বিদেশ থেকে কর্মী ফেরত ও কর্মী না নেয়া বিভিন্ন কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেছে। ফলে তারল্য সংকট আর প্রকট আকার ধারণ করেছে।

০৫. একটি বেসরকারি ব্যাংকের কারণে বাজারে প্যানিক তৈরি হয়েছে, যার ফলে তারল্য সংকটের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সরকারি সংস্থা বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে এবং নিচ্ছে।

তারল্য সংকটের প্রতিকারঃ

০১. সরকারের অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ বন্ধ করতে হবেঃ সরকারকে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ফলে ব্যাংকগুলি তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এতে তারল্য সংকট অনেক তা কমে আসবে।

০২. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণঃ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের কাজেই সরকারকে এর প্রয়োজনীয় সময় উপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে ।

০৩. শেয়ার মার্কেটের লুট করা টাকা উদ্ধার করে শেয়ার মার্কেটকে সচল করাঃ সরকার মার্কেটের দোষীদের থেকে লুট করা টাকা উদ্ধার করে পুনরায় শেয়ার মার্কেট এ প্রদানের মাধ্যমে পুরো মার্কেটকে সচল করা। ফলে তারল্য সংকট থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে।

০৪. দেশের বাহিরে টাকা পাচার বন্ধ করাঃ অনেক সময় আমাদের দেশে কিছু অসৎ দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দেশের বাহিরে পাচার করে থাকেন। এতে বড় ধরনের একটা অঙ্ক দেশের বাহিরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে এর প্রভাব তারল্য সংকট হয়ে পুরো দেশের উপর পড়ছে।

4 views

Related Questions

শীর্ষ প্রবাসী জায় অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম হলেও গত বছর প্রবাসী আয়ে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি বরং অনেক কমেছে। প্রবাসী জায়ের এই অধোগতি অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে। কারণ অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মতো। প্রবাসী আয় কমে যাও পেশনে মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে তেলের দাম কমে যাওয়া। এটাই মূল কারণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। পাশাপাশি আমাদের বিকল্প জনশক্তির বাজার খুঁজতে হবে। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অদক্ষতাও একটি বড় কারণ। ফলে জনশক্তির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ যৌ লক্ষ শ্রমিক পাঠানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম শ্রমিক গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। (Translate into English)
1 Answers 7 Views
দেশের অর্থনীতিভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পোশাক শিল্প। যেখানে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত । এ সকলে শ্রমিকদের ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজন থাকা সত্বেও ৮০ থেকে ৯০ ভাগের কোন ব্যাংক হিসাব না থাকায় তারা সব ধেরনের ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত বেতন তুলতে হয়, গ্রামাঞ্চলে বাবা মা এবং ভাই-বোনের কাছ টাকা পাঠাতে হয়। শ্রমজীব এ বিপুল জনগোষ্ঠীয় কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌছানোর ক্ষেত্রে দেশের প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের চেয়ে উপর্জনকারী দূরে গেলেও বো অধিকতর উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। এই সেবা চালু হওয়ার পর থেকে সংসারের একমতা্র উপর্জনকারী দূরে গেলেও অনেকটাই নিশ্চিত থাকে পরিবারের অন্য সদস্যরা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে গ্রাহকসেবা পাওয়া সম্বব। এই সেবা মানুষখে সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তুলতেও সহযোগিতা করে বলে সম্প্রতি আইএফসির এক গবেষণা জানা যায়। সুতরায় মানুষের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম যত দ্রুততার সঙ্গে সম্প্রসারিত হবে তাদের আর্থিক সেবা ততই সহললভ্য হবে। (Translate in to English)
1 Answers 5 Views
নীতি এবং পন্থাগত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন আর্থিক খাতে। আশির দশক থেকে উন্নত এবং কিছু উন্নয়নশীল দেশে সবুজ অর্থায়ন গ্রহনযোগ্য হতে শুরু করে। পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপালন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র নিজেদের পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না, অন্যান্য শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। (Translate the following into English)
1 Answers 4 Views