1 Answers

মাথাপিছু আয়ের উপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক পৃথিবীর ১৯৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে । ১) নিম্ন আয়ের দেশ (২) নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ (৩) উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ (৪) উচ্চ আয়ের দেশ। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ তিনটি সূচকের উপর ভিত্তি করে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। (১) সঙ্গোপন্নত দেশগুলো (২) মধ্যম আয়ের দেশসমূহ (৩) উন্নত দেশ সমূহ। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে আছে বাংলাদেশ, MDG'র বেশির ভাগ লক্ষ্যসমূহ পূরণ করেছে এবং SDG'র লক্ষ্যসমূহ অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। এত অর্জনের পরও বাংলাদেশ বিশ্বায়নের প্রভাবে কিছু কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ও হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সমুদ্র পথে অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি । একদিকে মিয়ানমার থেকে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী বাংলাদেশে প্রবেশ করে এদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, অপরদিকে অর্থনৈতিক উন্নতি ও উচ্চাশা থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে। যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলো বলছে ২০৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলাদেশে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের মনকে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত করে তুলে। তাই সমুদ্র পথে অবৈধ অভিবাসনের কারণগুলো চিহ্নিতকরণ পূর্বক এর প্রতিকারের উপায় ও প্রতিকারের গুরুত্বসমূহ নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সময়ের দাবীই বলা চলে।

অবৈধ অভিবাসনের কারণসমূহঃ
(১) দরিদ্রতা (২) বেকারত্ব (৩) শিক্ষা ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব (৪) উন্নত জীবনের প্রত্যাশা (৫) সুশাসনের অভাব (৬) শিক্ষা ও জ্ঞানের অভাব (৭) অভিবাসননীতি বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (৮) দালালদের দৌরাত্ম (৯) রাজনৈতিক দমন-পীড়ন । (১০) উন্নত বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে পুঁজি ও সম্পদের অসম বণ্টন (১১) যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি (১৩) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব (১৪) দারিদ্র থেকে মুক্তি লাভের তীব্র উচ্চাশা (১৫) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোত দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা (১৬) কিছু কিছু উন্নত দেশ কর্তৃক অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিতকারী নীতিমালা প্রনয়ণ (১৭) তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি সাম্প্রদায়িক আচরণ ৷

অবৈধ অভিবাসনের প্রতিকারসমূহঃ(১) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপগ্রহণ (২) বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার (৩) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনায়ণ (৪) কর্মসংস্থার সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। (৫) আর্ন্তজাতিক ঐক্য গড়ে তোলা ৷

4 views

Related Questions

আধুনিক বিশ্বে শিক্ষাগত পরিবর্তন প্রক্রিয়া নানা কারণে গতিময় গয়ে উঠেছে। যোগযোগ ও আদান প্রদানের নতুন নতুন প্রযুক্তিগত মাধ্যম, আধুনিক পদ্ধতিতত্ত্ব, সর্বাধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে দ্রুত পরিবর্তনআনতে সক্ষম হচ্ছে। শিক্ষাহলো একটি সামাজিক প্রকিয়া- যে প্রক্রিয়া – যে প্রক্রিয়া দ্বারা সমাজশক্তির কর্তৃত্ব ব্যক্ত হয়। আমাদের সমাজে িএই শক্তি রাষ্ট্রকেও প্রভাবিত করে। আবার এদেশের শিক্ষার একটি বৃহত্তম অংশ রাষ্্রের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিচালিত। তাই সরকার যে শিক্ষানীতি ধার্য করেন সেই নীতি স্বাভাবিকভাবে সমজা ব্যবস্থা রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হয়। সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষার ভূমিকা স্বীকৃতি আমরা আমেরিকান প্রয়োগবাদী শিক্ষা- দার্শনিক জন ডিউইয়ের আলোচনাতেও লক্ষ করি। তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু একটি ভিত্তিহীন প্রক্রিয়া নয়, এটি সামাজিক প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়া হলো একটি আদি- অন্তহীন গতি। এই গতি নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তশীল।শিক্ষা কোন কৃত্রিম গতি নয়। এটি মানবজীবনের স্বাভাবিক গতি- প্রক্রিয়া ।এই প্রক্রিয়ার সাহায্যে সামাজিক পটভূমিকায় মানুষ তার জীবনকে পুর্গঠন করে। (Bengali to English)
1 Answers 5 Views
কর্ম মুখর পৃথিবীতে মানুষ তার কর্মময় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে। এই কর্মের সোনালি ফসল কিছু সে ভোগ করে , আর কিছু জগতের কল্যানের জন্য নিবেদন করে। এ পৃথিবীতে মানুষের জীবন নশ্বর তাই নশ্বর জীবনে যা কিছু ভোগ করা হয় , জীবন অতিবাহিত হওয়ার পথে তা নিঃশেষিত হয়ে যায়। এ জগতে যারা স্বার্থপর তাদের জীবনে ভোগের পরিমান বেশি। কিন্তু যারা কল্যানকামী , যারা ত্যাগ স্বীকার করে মানবকল্যানের জন্য নিজদের জীবনকে উৎসর্গ করে গিয়েছেন , তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে সে জীবন নিঃশেষিত হয়ে যায় না। ব্যাক্তিমানুষের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু কীর্তি বেঁচে থাকে। তাই যে ব্যাক্তি জনগনের কল্যানে কিছু করে , মানবজীবনে তা অমর হয়ে রয়ে যায়। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে দৃষ্টি নিবন্ধ করলে দেখা যায় , জগতে যারা মানবকল্যানে কিছু দিয়ে গেছেন তারাইওমর হয়ে আছেন। মহাকালের করাল গ্রাসে সবই চলে যায় , কিন্তু বেঁচে থাকে তার সুকীর্তি। সেই মহৎ কীর্তি জগতে অমর হয়ে থাকে। সকৃতজ্ঞ জনগন তার অবর্তমানে তার দানের ভার বহন করে।
1 Answers 16 Views