1 Answers

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল তৈরি হয়, যা জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে লেগে থাকে। মা ও ভ্রূণের যোগাযোগ এই গর্ভফুলের মাধ্যমে হয়। প্লাসেন্টা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা গর্ভের সন্তানকে অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান সরবরাহ এবং শিশুর রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।    

এটা জরায়ুর দেয়ালের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং শিশুর আম্বিলিক্যাল কর্ড এর থেকেই সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা জরায়ুর শীর্ষভাগে অথবা পাশে অবস্থান করে । কিন্তু গর্ভফুলটি যদি জরায়ুর একদম নিচের দিকে বা জরায়ুমুখে লেগে থাকে, তাহলে এই মেডিকেল কন্ডিশনকে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা লো লায়িং প্লাসেন্টা বলে।    

প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের মাথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরের দিকে বা আড়াআড়ি থাকতে দেখা যায় , এ অবস্থানকে  বলা হয় ব্রীচ পজিশন। এবং এ সমস্যায় সাধারণত গর্ভবতী নারীরা স্পটিং  বা হালকা থেকে ভারী রক্তপাতের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কিন্তু এ রক্তপাতের সময় কোন ব্যথা অনুভূত হয় না এবং রক্তের রং থাকে উজ্জ্বল লাল।    

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া   যদি প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল জরায়ুর পুরো মুখ জুড়ে থাকে তবে তাকে টোটাল বা কমপ্লিট  প্রিভিয়া বলে। যদি তা জরায়ুর মুখ আংশিক বন্ধ করে রাখে তাহলে সেটাকে বলা হয় মারজিনাল প্রিভিয়া বা পারসিয়াল প্রিভিয়া (যদি জরায়ুমুখের ২ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকে গর্ভফুলটি, কিন্তু জরায়ুমুখকে ঢেকে রাখেনি, এই সমস্যাকে বলা হয় লো লায়িং প্লাসেন্টা )।    

আপনার প্লাসেন্টার অবস্থান সাধারণত গর্ভধারণের ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের আলত্রাসাউন্ড এর সময় পরীক্ষা করা হয়।

2512 views