যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন : ভাবসম্প্রসারণ?
2 Answers
যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই,
পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন
ছোট এবং নগণ্য ভেবে কোনো বস্তুকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এসব অতি ক্ষুদ্র জিনিজের মধ্যেও মহামূল্যবান রত্ন থাকতে পারে। সেজন্য বস্তুর আকার, আয়তন যাই হোক না কেন তা তাচ্ছিল্য না করে বরং গবেষণাপূর্বক এর বিস্ময়কর সম্ভাবনা খুঁজে বের করা উচিত।
এ পৃথিবীতে কোনো জিনিসকেই তুচ্ছ বলে অবহেলা ও অবজ্ঞা করা উচিত নয়। বাইরের আকৃতি ও প্রকৃতি দেখে কখনো কোনো জিনিসের প্রকৃতি ও সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক টুকরো কাগজের মধ্যে হয়ত এমন উপদেশ থাকতে পারে যার দ্বারা তোমার জীবন স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। সৃষ্টিকর্তা এ দুনিয়াকে বিভিন্ন জিনিসের সমন্বয়ে শোভিত করেছেন। সঠিকভাবে অনুসন্ধান ও অনুধাবন করতে পারলে অনেক তুচ্ছ ও নগণ্য জিনিসের মধ্যেও মহামূল্যবান রত্নের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
”ওকি চণ্ডাল! চমকাও কেন? নহে ও ঘৃণ্য জীব-
ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব।”
-সাম্যবাদী কবি, কাজি নজরুল ইসলাম
আমরা কোনো মানুষের পোষাক পরিচ্ছদ, বংশমর্যাদা ও শিক্ষাদীক্ষা দেখে তার মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করি। সাধারণ পোশাক পরিহিত গরিব, দীনহীন মানুষকে বা দারিদ্র্যের অনাদরে লালিত সন্তানকে আমরা মূল্য দিতে চাই না। কিন্তু এমনও হতে পারে, ঐ দীনহীন মানুষটির মন মানবতাবোধ ও উদারতায় ভরপুর। এক নিচু বংশের দরিদ্র সন্তানও এ বিশ্বে রেখে যেতে পারে এমন এক অবদান যা বিশ্বমানবতার পরম উপকারে আসবে; এমন নজির বিরল নয়। পৃথিবীর বহু দরিদ্র ও অবহেলিত সন্তান রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিভিন্ন শাখায় অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। এ প্রসঙ্গে ড. লুৎফর রহমান বলেন, “মানুষ যতই ছোট হোক, যতই সে অজ্ঞাত হয়ে থাকুক তার মধ্যে অসীম ক্ষমতা, অনন্ত প্রতিভা ঘুমিয়ে আছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে তার ভিতরকার রূপ ও মহিমা অনন্ত শিখায় ফুঁটে উঠবে।” হীন ও তুচ্ছ বলে কাউকে অবহেলা করা উচিত নয়। ঝিনুক একটি সাধারণ বস্তু। এমন কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তা আসে না এবং সেজন্য তা সযত্নে রক্ষিতও হয় না। অথচ মুক্তা জাতীয় অতি মূল্যবান রত্নটি ঐ ঝিনুকের মধ্যেই পাওয়া যায়। বহু অনুসন্ধান করেই এসব বহু মুল্যবান রত্নরাজি বের করতে হয়।
কোনো বস্তু আকারে ছোট হলেও তাকে তুচ্ছ করতে হবে তা নয়- কারণ স্মরণ রাখতে হবে যে অতি নগণ্য এবং ক্ষুদ্র বস্তুর মধ্যেও মূল্যবান রত্নরাজি থেকে যেতে পারে।
মূলভাব : বাইরের চাকচিক্য দেখেই কোনো কিছু সম্পর্কে সম্মক ধারণা লাভ করা যায় না। ভেতরের জগতটাকে দেখা প্রয়োজন। বাইরের জগতটা দেখতে খারাপ হলেও ভিতরে মূল্যবান কিছু থাকতে পারে। এটা পৃথিবীর অমোঘ নিয়ম।
সম্প্রসারিত ভাব : অসার ছাইয়ের নিম্নদেশে অমূল্য রত্নরাজি লুক্কায়িত থাকতে পারে। কেবল এর উপরিভাগ দেখে এ-কথা মনে করা বাঞ্চনীয় নয় যে, তার সমস্তটাই অসার পদার্থ। আমাদের উদাহরণস্বরূপ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পিতা কট্টর ব্রাহ্মণ ঠাকুর দাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা স্বরণ করা যায়। ঠাকুর দাস ছিলেন অতি সাধারণ ধরনের একজন মানুষ। তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজে তাঁর না ছিল কোন প্রতিষ্ঠা, না ছিল আভিজাত্যের গরিমা, তিনি অনেকটাই ছিলেন যেন ছাইয়ের মতো মূল্যহীন পদার্থ কিন্তু তাঁরই পুত্র-সন্তান ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজের মনীষা ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙ্গীয় সমাজে যে বিপ্লবাত্মক কর্মকাণ্ডের দ্বারা বিস্ফোরণ ঘটালেন তা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। প্রকৃতপক্ষে, একটি অসার সমাজ সংসারের ভিতর হতে বিদ্যাসাগর নামক একটি অমূল্য রত্নের অভ্যুদয় সম্ভবপর হয়েছিল। কেবল বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের মানচিত্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এরূপ ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে। কোথাও ছাই-এর গাদা দেখে তাকে অসার পদার্থ বিবেচনা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
মন্তব্য : বাইরের চেহারা দেখে কোনো জিনিসকে অবহেলা করা উচিত নয়, এর মধ্যেই মূল্যবান কিছু থাকতে পারে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy