3 Answers

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com 3333

প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক।

 ,

সৃষ্টির আদিকালে, যখন মানুষ বিশৃঙ্খল ও নিরাপত্তাহীন জীবন-যাপন করতো। তখনই তারা একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরাপদ ও সভ্য সমাজ জীবন গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। আর তখন থেকেই মানুষের উদ্ভাবন ক্ষমতার সূচনা ঘটে যার ধারাবাহিকতা বর্তমানে অব্যাহত আছে এবং অনাদিকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। সমাজে জীবনধারণ করতে অনেক কিছুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানুষকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হয় সেই প্রয়োজন মিটানোর জন্য। বিচিত্রমুখী উদ্ভাবনের জন্য সমাজে সভ্যতার বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয়। মানুষের সীমাহীন চাহিদা মিটাতে তৈরি হয়েছে নানা রকম জিনিসপত্র। প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, বিদ্যুৎ, এরোপ্লেন, ট্রেন ইত্যাদি আবিষ্কার করেছে। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে চায় এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়। এক্ষেত্রে বিলাস বহুল উপাদান আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ তার অনাকাঙ্ক্ষিত সুখী জীবন পেয়েছে। মানুষের প্রয়োজনের গভীরতাই তার উদ্ভাবনের নেশাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ কখনো কোনো কিছু সৃষ্টির তাগিদ অনুভব করেনি। তারা দুঃখ ও যন্ত্রণা সঙ্কুল দুর্গম পথে অগ্রসর হয়েছে প্রয়োজন নিবারণের জন্য। এভাবে মানুষ তার অত্যাবশ্যক সব চাহিদা মিটাতে হাজারো জিনিসের উদ্ভাবন করেছে। যখন যে জিনিসের অভাব ও প্রয়োজনবোধ করেছে তখন সে অনুযায়ী শক্তি, সাধনা, মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে নতুন নতুন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করে। জ্ঞান আহরণের কৌতূহল মানুষের প্রয়োজনকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। প্রয়োজনের কোনো শেষ নেই তাই উদ্ভাবনের অন্ত নেই। প্রয়োজন ও উদ্ভাবন পরস্পর বিপরীতমুখী হলেও একে অপরের পরিপূরক। প্রয়োজন আছে বলেই মানুষ প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন করে চলেছে।

শিক্ষা: প্রয়োজন পূরণ করার তাগিদেই উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। তাই উদ্ভাবনের জনক হিসেবে প্রয়োজনীয়তাকে আখ্যায়িত করা হয়। যখনই প্রয়োজন দেখা দেয় তখনই উদ্ভাবনের সূচনা ঘটে।

2483 views Answered

প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক

প্রয়োজনীয়তা মানুষের নিত্যনতুন কর্মপ্রেরণা ও উদ্ভাবনী প্রয়াসের উৎস বিন্দু। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশের ধারায় মানুষের জীবনে নিত্যনতুন ‍উপযোগ সৃষ্টি হয়, মানুষ নিত্যনতুন জিনিসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সেসব প্রয়োজন মিটানোর জন্যে মানুষের নিরন্তর চেষ্টা থেকেই মানুষের প্রতিটি প্রয়োজনীয় সামগ্রী উদ্ভাবিত হয়েছে। নিত্যনতুন প্রয়োজনের অনুষঙ্গেই ঘটেছে নিত্যনতুন উদ্ভাবন।

সৃষ্টির ঊষালগ্নে প্রকৃতির সন্তান মানুষ ছিল অসহায়। অপরিচিত বৈরী পরিবেশে অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রাম করতে গিয়ে মানুষ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল হাতিয়ারের। সেই প্রয়োজনীয়তার প্রথম উদ্ভাবন আত্মরক্ষায় পাথুরে হাতিয়ার। সেই শুরু। তারপর সুদীর্ঘ কাল-পরিক্রমায় মানুষ বন্য জীবন থেকে উঠে এসেছে আধুনিক সভ্য জীবনে। মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ উন্নত জীবনধারায় নিত্যনতুন প্রয়োজনে নিত্যনতুন জিনিস আবিষ্কার করেছে। তারই সর্বশেষ উদাহরণ মহাবিস্ময়কর কম্পিউটার। জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনেই রয়েছে মানুষের প্রয়োজনীয়তার ভূমিকা। গৃহস্থালীর প্রয়োজনে উদ্ভাবন হয়েছে নানা আসবাবপত্র। নদীর ওপর ভেসে থাকার প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে ভেলা, নৌকা, জাহাজ। আকাশে উড়ার প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে বেলুন, উড়োজাহাজ। যুদ্ধের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে নানা মরণাস্ত্র। খেলাধুলার প্রয়োজনে খেলাধুলার নানা উপকরণ, রোগ নিরাময়ের প্রয়োজনে উদ্ভাবিত হয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, মহাশূন্যে বিচরণের জন্যে তৈরি হয়েছে মহাশূন্যযান। এভাবে প্রতিটি আবিষ্কারই মানুষের প্রয়োজনীয়তারই ফসল। মানুষের জীবনে প্রয়োজনের পরিসীমা ও পরিসর যতই বেড়েছে ততই সম্প্রসারিত হয়েছে উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের ক্ষেত্র। মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডই আজ পরিচালিত মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োজনকে ঘিরে। প্রয়োজনের মাত্রা ও গুরুত্ব যত বেশি, উদ্ভাবনের ‍দিকটাও গুরুত্ব পায় তত বেশি। ক্যান্সার ও এইডস নিয়ে যে ব্যাপক গবেষণা এখন হচ্ছে তার কারণ এসব জীবনঘাতী রোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা। মানুষের সমস্ত উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের লক্ষ্য মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে মনুষকে সুখ ও আনন্দ দান। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয়তার কোনো সীমা নেই। তাই উদ্ভাবনের ধারাও স্থির না হয়ে অগ্রসর হচ্ছে অব্যাহত ধারায়।

2483 views Answered

প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক

মূলভাব : পৃথিবীতে কোনো কিছুই হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দৈনন্দিন জীবনে মানুষের কাজের প্রয়োজনে সভ্যতার বিকাশ লাভ করেছে। প্রসার ঘটেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির।

সম্প্রসারিত ভাব : এ জগতে কোন কছুই আকস্মিকতায় সৃষ্টি নয়। একদিন আমাদের পূর্বপুরুষেরা বনে-জঙ্গলে বাস করত। চকমকি দিয়ে আগুন জ্বালাত। বৈজ্ঞানিকের চমকপ্রদ উদ্ভাবন তখন অজ্ঞাত ছিল। মানুষের-দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটেছে। তার চিন্তা-ভাবনা বেড়েছে। মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার বা উদ্ভাবন ঘটেছে।

মানুষ এক এক সময় এক এক জিনিসের অভাবের কথা বুঝতে পেরেছে। প্রয়োজনের কথা গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করেছে। অন্ধকার দূর করা প্রয়োজন, বিদ্যুৎ উদ্ভাবন করেছে। যাতায়াতের সুষ্ঠু ব্যবস্থঅ ছিল না, বাহন ছিল না। রাস্তা-ঘাট তৈরি করেছে, স্টীমার ইঞ্জিন, রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, এরোপ্লেন এবং আও অনেক যন্ত্রযান উদ্ভাবন করেছে। দূরাঞ্চলের মানুষের কথা শোনা দরকার। পর্দায় ছবি দেখা দরকার। তাই উদ্ভাবন হল চলচ্চিত্র, টেলিফোন, টেলিস্কোপ, টেলিগ্রাপ, টেলিভিশন, ভি,সি,আর, ইত্যাদি। প্রয়োজনীয়তা না থাকলে এগুলো উদ্ভাবনের কথা-চিন্তাও করা যেত না।

আলো জ্বালানো দরকার। তাই দেয়াশলাই, লাইটার উদ্ভাবন করেছে। আবার রোগ, শোক জরা-ব্যাধিতে দূরে নিক্ষেপ করার জন্য X-Ray, আলট্রাসনোগ্রাফীর উদ্ভাবন করেছে। নানা দূরারোগ্য ব্যাধির ঔষধ আবিষ্কার করার প্রয়োজনের কথাও তার মনে হয়েছে। সে আবিষ্কার করেছে পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন ইত্যাদি। এভাবে একটার পর একটার প্রয়োজনীতাই মানুষের আজকের সুখপ্রদ জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে।

প্রয়োজনই মানুষের চলার পথকে সহজ করছে। অর্থাৎ প্রয়োজনই উদ্ভাবকের জনক।

2483 views Answered

Related Questions

Next steps