3 Answers
প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তাহারই
 ,
মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এ জন্য মৃত্যু ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকলে জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করা যায় না। মৃত্যু ভয়ে সদা ভীত যে ব্যক্তি সে বেঁচে থেকেও মৃত। বাঁচার মতো বাঁচতে হলে মহৎ ত্যাগের মধ্য দিয়ে জীবনকে সার্থক করে তুলতে হবে। মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষের ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে সমাজ ও সভ্যতা। এই সকল ব্যক্তিরাই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার যোগ্য। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু ভয়ে ভীত যে ব্যক্তি তার জীবন অর্থঃ হীন। জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে মৃত্যু ভয় পরিত্যাগ করতে হবে। বস্তুত কাজের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মর্যাদা। আর যেকোনো কাজই কমবেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কোনো কোনো কাজে এই ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। যারা প্রকৃত মানুষ তারা কোনো কাজেই ভয় করে না বরং সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যায়। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এরাই খনি থেকে মূল্যবান সম্পদ তুলে আনে। এরাই স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর ছেড়ে যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে অকাতরে প্রাণ দেয়। পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলতে এইসব মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষেরাই যুগে যুগে প্রাণ দিয়েছে বন্য প্রাণীর হাতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। এসব মরণজয়ী সাহসী বীরের হাত ধরেই সমাজ ও জাতীয় জীবনে সফলতা আসে। যারা প্রকৃত বীর তারা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সফলতার পথে এগিয়ে যায়। এ পথে যদি তাদের মৃত্যু আসে তবু তারা হাসিমুখে সেই মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। বেঁচে থাকা তাঁদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয় বরং আসন্ন মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করার মধ্যে দিয়ে তারা লাভ করে অমরত্ব। যেমনিভাবে পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে আছেন সক্রেটিস, আইনস্টাইন, নিউটন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ প্রমুখ। এই অমরত্ব লাভের জন্য প্রয়োজন সাহসী মনোভাব, মহৎ কর্ম এবং প্রয়োজনবোধে আত্মত্যাগ।
শিক্ষা: মৃত্যুর মতো ভয়াবহ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু তাই বলে জীবনের প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্ত মৃত্যুভয়ে নষ্ট করা বোকামী। বরং মৃতুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে জীবনকে যে উপভোগ করতে পারে একমাত্র সে-ই বেঁচে থাকার স্বাদ নিতে সক্ষম।
প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত বাঁচিবার অধিকার তাহারই
ভীরুতা ও পলায়নপরতা নয়, মরণজয়ী সাহসী আত্মপ্রত্যয়ই জীবনের যথার্থ ধর্ম। এই বৈশিষ্ট্যই জীবনকে করে তোলে সার্থক, তাকে দেয় মহিমা। মরণজয়ী দুঃসাহসী মানুষরাই মৃত্যুকে বুক পেতে নিয়ে গড়ে তুলেছে মানব সভ্যতার এই মহিমান্বিত ঐশ্বর্য। মৃত্যুকে বরণ করে মৃত্যুকে জয় করেছেন তাঁরা। অমর হয়ে বেঁচে আছেন পৃথিবীতে।
মৃত্যু মানব জীবনের অনিবার্য পরিণতি। মৃত্যুকে সে যতই ভয় পাক না কেন একদিন না একদিন মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয় তাকে । তাই মৃত্যুকে ভয় পেলে চলে না। মৃত্যুভয়ে সদাসর্বদা সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত জীবনের মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। কারণ, মৃত্যুভয়ে যে চিন্তিত থাকে তার পক্ষে জীবনের সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব হয় না। তাই জীবনকে উপভোগ করতে হলে চাই মৃত্যুকে সহজভাবে গ্রহণ করার সাহসিকতা। মানুষের জীবন কর্মের জীবন। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজেরই কমবেশি ঝুঁকি থাকে। যে কাজ যত দুরূহ, যত বিপজ্জনক সে কাজে মৃত্যুর ঝুঁকি তত বেশি। তাই মৃত্যুভয়ে ভীত লোক কোনা কঠিন কাজ স্বচ্ছন্দভাবে করতে পারে না। দৃঢ়চিত্ত সাহসী লোকই পারে জীবনে ঝুঁকি নিয়ে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে। মৃত্যুভয়ে ভীত লোক সেখানে পরাজিত হয়। পলায়নী মনোভাব নিয়ে সে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এগিয়ে যেতে পারলেই তার পক্ষে সাহসের সঙ্গে বাঁচা এবং কঠিন কর্ম সম্পাদন সম্ভব হয়। সাহসী পৌরুষদীপ্ত লোকরাই জাতীয় জীবনে দুর্যোগের মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে দুর্যোগ মোকাবেলা করেন। এঁদের পক্ষেই ঝড়-ঝঞ্ঝা মোকাবেলা করে মহাসমুদ্র পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়, সম্ভব হয় মহাকাশে বিচরণের। জীবন বাজি রেখেই এঁরা খনি থেকে আকরিক সংগ্রহ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় বিপন্ন মানুষকে বাঁচাবার জন্যে এগিয়ে যান। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে এঁরাই জীবন দিয়ে চির অমরত্ব লাভ করেন। জীবন-মৃত্যুকে যাঁরা পায়ের ভৃত্য করতে পারেন তাঁরাই পান জীবনের পতাকা বয়ে নেওয়ার অধিকার। এঁদের কথা স্মরণ করেই কবি উচ্চারণ করেন :
’মৃত্যুকে যে এড়িয়ে চলে মৃত্যু তাকেই টানে,
মৃত্যু যারা বুক পেতে লয় বাঁচতে তারাই জানে।’
প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত বাঁচিবার অধিকার তাহারই
মূলভাব : ন্যায় ও সত্যের জন্য যাঁরা হাসিমুখে জীবন উৎসর্গ করেন তাঁরাই প্রকৃত পক্ষে অমরত্ব লাভের অধিকারী।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ এ পৃথিবীতে যদি যথাযোগ্য মর্যাদা সহযোগে বেঁচে থাকতে পারে তবেই জীবনের সার্থকতা ফুটে উঠতে পারে। মর্যাদা সহকারে বাঁচার অর্থ ব্যক্তিপূর্ণ জীবনের যথাযথ রূপায়ন। সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ ও সংকট সাহসের সাথে মোকাবেলা করার মধ্যেই বির্ভর করে জীবনে সাফল্য। বিপদে মানুষ যদি ভীত হয়ে পড়ে তবে তাতে জীবনের গৌরব প্রকাশ পায় না। বাঁচতে হবে সাহসের সাথে। এর জন্য জীবনে বিপদকে তুচ্ছ ভাবতে হবে। যদি জীবন পণ করারও প্রযোজন পড়ে তবে তাও করার সাহস থাকতে হবে। আত্মত্যাগের সাহস থাকলে জীবনের মূল্য বোঝা যায়। আর কোনো কিছুর ভয়ে যদি জড়োসড়ো ও নির্জীব হতে হয় তবে মানুষের বাঁচার কোনো সার্থকতা নেই। সাহসের সাথে সকল বিপদ মোকাবিলা করলেই জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষকে তাই যথার্থ সাহসী হয়ে জীবনের গৌরব প্রমাণ করতে হবে। আত্মত্যাগী সাহসী মানুষেরই বাঁচার অধিকার আছে। ভীরু কাপুরুষ ও দুর্বল চিত্তের সে অধিকার নেই। সাহসের সাথে সকল বিপদ মোকাবেলা করলেই জীবনের অধিকার প্রমাণিত হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy