2 Answers
নরওয়েজিয়ান উড- হারুকি মুরাকামি এসময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হারুকি মুরাকামির শ্রেষ্ঠ উপন্যাস নরওয়েজিয়ান উড। এটি একটি অনবদ্য মৌলিক উপন্যাস যার পাতায় পাতায় আপনি পাবেন বিষণ্ণতা, বেদনা, যন্ত্রণা, যৌনতৃপ্তি, প্রেম, অসম সম্পর্ক সহ আরো বিভিন্ন গোপনীয় বিষয় যা মানুষ নিজের মধ্যে অনুভব করলেও তার অনেকাংশেই অপ্রকাশিত থেকে যায়। কিন্তু মুরাকামি তার লেখায় সেসব জটিল বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি বর্ণনা করা হয়েছে তরু ওয়াতানাবে নামের একজন চরিত্রের মাধ্যমে। তার স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে লেখক আমাদের দেখান যে, ঐসময় তরু দুজন ভিন্ন প্রকৃতির নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যার মধ্যে একজন হলেন, সুন্দরী কিন্তু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নাওকো, সে একসময় তার বন্ধু কিজুকির বান্ধবী ছিলো। আর একজন খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও স্বাধীনচেতা মেয়ে মিডোরি। গল্পে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের দেখা পাওয়া যাবে। তার নাম রেইকো। একজন অসাধারণ মিউজিশিয়ান। রেইকোর রহস্যাবৃত অতীতও আমাদের ভাবাবে, তার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলবে। অসাধারণ একটি প্লটের উপর লেখা হয়েছে বইটি। কৌশিক জামানের অনুবাদে যা হয়ে উঠেছে আরো ঝরঝরে, আরো প্রাণবন্ত। তার অনুবাদ পড়লে মনেই হবে না যে আপনি কোন বইয়ের অনুবাদ পড়ছেন। অসাধারন রোমান্টিক একটি উপন্যাসের স্বাদ পেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই নরওয়েজিয়ান উড বইটি পড়তে হবে। সতর্কতাঃ উপন্যাসটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পে মাত্রাতিরিক্ত যৌনতার বর্ণনা রয়েছে। গল্পের প্রয়োজনেই হয়ত লেখককে তা করতে হয়েছে। অনুবাদক কৌশিক জামান অনুবাদের সময় যৌনতা বিষয়ক বর্ণনায় অনেক কাটছাঁট করেছেন। ভূমিকায় লিখেছেন, যতটুকু না দিলেই নয় ততটুকুই দেয়া হয়েছে। এই ততটুকুই আপনার কাছে মনে হতে পারে অনেক। সবকিছু ছাপিয়ে নরওয়েজিয়ান উড হয়ে উঠেছে অসাধারণ একটি রোমান্টিক উপন্যাস। থ্রি কমরেডস - এরিখ মারিয়া রেমার্ক এরিখ মারিয়া রেমার্কের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস থ্রি কমরেডস। যুদ্ধোত্তর জার্মানীর ধ্বংসস্তুপের মধ্য দিয়ে পা ফেলে এগিয়ে চলছে তিনজন প্রাক্তন সৈনিক। সবকিছু ভেঙ্গে শুধু জেগে রয়েছে অটুট বন্ধুত্ব আর প্রেম। থ্রি কমরেডস তিনজনের বন্ধুত্বের গল্প- রবার্ট, ওটো ও গোডফ্রীডের। গল্পটা প্যাট্রিসিয়ারেও। আরেকজনের কথা না বললেই নয়, কেউ হয়েও যে একজন, সেই কার্লেরও গল্প এটা- একটি লক্করমার্কা চেহারার তেজী রেসিংকার। বইটিকে বলা যায় গল্পে গল্পে যুদ্ধের স্মৃতিচারণ কিংবা যুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের যুদ্ধের স্মৃতি থেকে বেড়িয়ে এসে, রক্তরঞ্জিত অতীত ভুলে গিয়ে, ছোট্ট সুন্দর সংসার করার আপ্রাণ চেষ্টা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুত্বের মধ্যে এই তিনজনের অসাধারণ বন্ধুত্বের কাহিনী এগিয়ে থাকবে প্রথম দিকে। লেখক এত সুন্দরভাবে গল্পের বর্ণনা দিয়েছেন যে, আপনার কাছে সবকিছু জীবন্ত মনে হবে। ঢাকার ব্যস্ত কোন এলাকার অচেনা গলিতে বা গ্রামের পুকুর পাড়ের গাছতলায় বসে বইটি পড়তে পড়তে আপনি ঘুরে বেড়াবেন জার্মানীর পথে পথে। আপনার সঙ্গী তখন রবার্ট, ওটো ও গোডফ্রীড। সাথে কার্ল। আর একজন প্যাট। তিনজনের বন্ধুত্বের মধ্যে রবার্টের জীবনে ভালোবাসার রূপে আবির্ভাব ঘটে এই প্যাটের (প্যাট্রিসিয়া হলম্যান)। মূলত প্যাটকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে গল্পের কাহিনী। এই উপন্যাস সম্পর্কে নিউওয়ার্ক টাইম লিখেছে, এটি সম্ভবত লেখকের সবচেয়ে কোমল, অনুভূতিময় এবং মর্মস্পর্শী উপন্যাস। বইটি পড়তে শুরু করার পর সবার ক্ষেত্রে প্রায় একই ব্যাপার ঘটে- পড়তে ইচ্ছা করে না বা কাহিনী টানতে চায় না। অনেকটা জোর করেই যদি কয়েক পাতা পড়ে ফেলতে পারেন আপনার আগ্রহ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকবে। বইপোকাদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য বই। যদ্যপি আমার গুরু- আহমদ ছফা চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘যদ্যপি আমার গুরু’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। বইটিতে ছফা অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের প্রতিভা এবং স্বভাবকে সরল ভাষায় খুবই সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৭০ সালে লেখক আহমদ ছফা ঠিক করলেন পি,এইচ,ডি করবেন। পেয়ে গেলেন ঢাকা ভার্সিটির ফেলোশিপ। এখন দরকার একজন অফিসিয়াল থিসিস সুপারভাইজার। বন্ধুদের পরামর্শে জাতীয় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে যান আহমদ ছফা। সেখান থেকে সখ্যতা, আস্তে আস্তে সম্পর্ক বৃদ্ধি। ১৯৭২ থেকে পরবর্তী এক যুগে প্রতি সপ্তাহে দেখা হত গুরু শিষ্যের। এই দীর্ঘদিনের পরিচিত আব্দুর রাজ্জাক স্যারকে নিয়েই আহমদ ছফার ‘যদ্যপি আমার গুরু। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের স্নেহ ছায়ায় ও দীর্ঘ সহচরে থেকে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন - দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা নির্মানে, নিষ্কাম জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে প্রচলিত জনমত উপেক্ষা করে নিজের বিশ্বাসের প্রতি স্থিত থাকার ব্যাপারে প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের মত আমাকে অন্য কোন জীবিত বা মৃত মানুষ অতো প্রভাবিত করতে পারেনি। ‘যদ্যপি আমার গুরু’ বইটিকে ছফার গুরুদক্ষিণা বলা হয়। জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প- হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদের লেখা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সেরা উপন্যাস জ্যোৎস্না এবং জননীর গল্প। এটা মূলত ঐতিহাসিক উপন্যাস। ইতিহাসের অনেক কিছুই উঠে এসেছে বইতে। বঙ্গবন্ধুর অবদান, মেজর জিয়ার অবস্থান, বেগম জিয়ার পাক বাহিনীর হেফাজতে থাকা, কাদের সিদ্দিকির অপারেশন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অপারেশন, পাক বাহিনীর হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে মৃত্যু হওয়া, পাক বাহিনী কর্তৃক অসংখ্য নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন, ক্যাম্পে আটকে রেখে দিনের দিনের পর দিন শারিরিক নির্যাতন কোনো কিছুই বাদ পড়েনি এই বইয়ে। লেখক এই বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নিজ পরিবারের দুরাবস্থার কথাও তুলে ধরেন। লেখক তুলে ধরেন তাঁর সাহসী ও দেশপ্রেমিক পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদের কথা । ফয়জুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য থানার অস্ত্রভাণ্ডার থেকে অস্ত্র বের করে দিয়েছিলেন । পরবর্তীতে রাজাকারেরা উনাকে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে । লেখক তাঁর বাবার লাশ পর্যন্ত খুঁজে পাননি । বাস্তবিকপক্ষে "জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প" বইটি পড়লে চোখে পানি চলে আসবে। মা- আনিসুল হক
আমরা সবাই জানি বই জ্ঞানকে সম্মৃদ্ধ করে। বই পড়লে জ্ঞানের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। আমিও বই পড়তে ভালোবাসি। আমি অনুপ্রেরণামূলক বই পড়তে পছন্দ করি।