কারণ সূরার সঠিক টান না দিলে তার বেশি বা কম দিলে সেই সূরার অর্থ পরিপূর্ন ভাবে বদলে যায়?

1650 views

1 Answers

উলামায়ে কেরাম এ বিষয়েও একমত যে, কুরআন তিলাওয়াত খুব দ্রুত করা ক্ষেত্রবিশেষে নাজায়েয।

নামাযের খুশু-খুযুর জন্য তিলাওয়াত তারতীলের সাথে হওয়া খুব জরুরি। তাছাড়া এত দ্রুত তিলাওয়াতের কারণে মদ্দ গুন্নাহ সহ তাজবীদের অনেক কায়েদা লঙ্ঘিত হয় এবং হুরূফের ছিফাতের প্রতিও যথাযথ লক্ষ্য রাখা যায় না, ফলে দ্রুত পড়তে গিয়ে যেখানে টান নেই সেখানে টান হয়ে যাওয়া বা কোথাও টান আছে সেখানে টান না হওয়া এমন ভূল খুব সহজেই ঘটে যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরস্থির ভাবে, স্পষ্টরূপে। (সূরা মুযযাম্মিলঃ ৭৩: ৪)।

অর্থাৎ কুরআন তেলাওয়াত কর ধীরে ধীরে, সুস্পষ্ট ও সুন্দরভাবে, যাতে ভালভাবে বুঝতে পারা যায়।

বিশিষ্ট তাবেয়ী যহহাক (রহঃ) বলেন : কুরআনের প্রত্যেকটি অক্ষর স্পষ্ট উচ্চারণ করে পড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনকে তারতীল বা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যেকটি অক্ষর সস্থান থেকে উচ্চারণ করে পড়তেন।

আয়িশাহ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন খুবই ধীরে ধীরে ও থেমে থেমে তেলাওয়াত করতেন। ফলে খুব দেরীতে সূরা শেষ হতো। ছোট সূরাও যেন বড় হয়ে যেত।

উম্মু সালামাহ (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : তিনি কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াত থেমে থেমে তেলাওয়াত করতেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : কিয়ামতের দিন কুরআন তেলাওয়াতকারীদেরকে বলা হবে, তুমি পড় এবং ওপরে উঠতে থাক, দুনিয়াতে তুমি যেমন তারতীলের সাথে তেলাওয়াত করতে এখনও সেরূপ তারতীলের সাথে তেলাওয়াত কর। কেননা যে জায়গায় তুমি আয়াত পড়ে শেষ করবে সেখানে তোমার ঠিকানা। (আবূ দাঊদ হা. ১৪৬৪, তিরমিযী হা. ২৯১৪, হাসান সহীহ)


তাই কুরআনকে ধীরে ধীরে মাখরাজের সস্থান থেকে উচ্চারণ করে পড়া উচিত।


1650 views

Related Questions

হেবা কিঃ?
1 Answers 6828 Views
দান কিঃ?
1 Answers 8664 Views