1 Answers

লোকশিল্প আর কুটির শিল্পে সামঞ্জস্য অনেক থাকলেও বেশ কিছু পার্থক্যও রয়েছে।
লোকায়িত জীবনের যে শিল্প বংশ পরম্পরায় হয়ে থাকে সেসবই লোকশিল্প। কিছু শিল্পের কাজ দাদা করতেন, বাবা করেন, তাঁর থেকে শিখে ছেলেও করে, এরূপ। যেমনঃ লক্ষ্মিসরা, কাঠের পুতুল, জামদানী বুনন। মেয়েদের ক্ষেত্রেও হয়, যেমনঃ নকশী পিঠা, নকশী কাঁথা।এসব শিল্প নারী-পুরুষ মিলেও করে থাকে। শীতল পাটিও একটি লোক শিল্প, যা ইউনেস্কো থেকে বিশ্ব ঐতিহ্যের গৌরব বয়ে এনেছে এদেশে। পৃথিবীর সকল দেশেই নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় লোকশিল্পে।
কুটির শিল্প হলো স্বল্প পুঁজিতে ঘরে বসে যেসব শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়। এর জন্য অনেক সময় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। এ শিল্পের জন্য হালকা বা ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার হয়ে থাকে। স্থান-কাল ভেদে এ শিল্পের তেমন কোন বিশেষত্ব থাকে না, যেমনটা থাকে লোক শিল্পের।

লোক শিল্পের উপকরণ সহজ লভ্য প্রাকৃতিক উপাদান। কুটির শিল্পে এসব ছাড়াও বিভিন্ন রাসায়নিক বা কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার হয়ে থাকে।

লোকশিল্প অনেক সময় পারিবারিক অবসরে করা হয়। জীবিকা নির্বাহ হলেও সব সময় তা মুখ্য হয় না। কুটির শিল্প মূলতঃ ব্যবসায়িক উদ্যোগে করা হয়। শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ সম্পূর্ণ এর উপরই নির্ভর করে থাকে।

লোকশিল্পে পণ্যের ব্যবহার্য দিকের সৌন্দর্যকে মুখ্য ধরা হয়। কুটির শিল্পে ব্যবহার্য বিষয়টা মুখ্য, ক্রেতা আকৃষ্টের নিমিত্তে সৌন্দর্যের বিষয় বিবেচনা করা হয়।

লোকশিল্পের চর্চা পরম্পরায় হয়ে আসাতে অনেক বছর ধরে একই ফর্ম বা ধারা থেকে যায়, পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় নয়। লোক শিল্পের নকশার ধরণ বা মোটিফ প্রাচীন, যা পরম্পরার ঐতিহ্য বহন করে। কুটির শিল্পের চর্চা গবেষণায় পরিবর্তিত ও উন্নত করার চেষ্টা সব সময় পরিলক্ষিত। কুটির শিল্পের নকশার ধরন আধুনিক এবং ক্রেতার চাহিদায় দ্রুত পরিবর্তনীয়। উন্নয়নের সাথে সাথে কুটির শিল্পের উপাদান আকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ শিল্প আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর।

লোকশিল্পে বাণিজ্য থাকলেও বাণিজ্যিক প্রবণতা এখানে কম, সাধারণতঃ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত কিছু বিক্রি হয়ে থাকে। কুটির শিল্পে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যই প্রধান, মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই কুটির শিল্প গড়ে উঠে।

লোকশিল্প গড়ে উঠেছে নান্দনিক বোধ ও নিজস্ব ব্যবহারের তাগিদ থেকে। কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে কর্মসংস্থান ও ব্যবস্যায়কে ঘিরে।

4049 views Answered

Related Questions

Next steps