আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু ।

** জুমার আজান দরজার সামনে দিতে হবে এই মর্মে কোনো সহিহ দলিল থাকলে জানতে চাই ? 

যদিও সুনান আবু দাউদ এ একটি  হাদিস আছে কিন্তু সেই হাদিস টি মুনকার পর্যায়ের হাদিস ।

সহহ কোনো দলিল থাকলে জানাবেন।


2597 views

1 Answers



জুমুয়ার আযান দরজার সামনেই দিতে হবে এই মর্মে কোনো সহিহ দলিল নেই।

কিন্তু জুমুআর নামাযের আযান সম্পর্কে আপনি যে হাদিসের কথা বলছেন তা হচ্ছেঃ

আন-নুফায়লী (রহঃ) আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিনে যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন মুয়াজ্জিন মসজিদের দরজার উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনা সামনি দাঁড়িয়ে আযান দিতেন এবং আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর সময়েও এই নিয়ম চালু ছিল।

(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/, হাদিস নম্বরঃ ১০৮৮ হাদিসের মানঃ মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)।

তবে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত তাফসীর সমূহের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হয় যে, জুমুয়ার ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার প্রচলন হযরত উসমান (রাঃ) স্বয়ং নিজেই করেছেন এবং এর উপর সাহাবায়ে কিরাম রসদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তাদের ইজমা তথা ইজমায়ে আযীমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতএব ছানী আযান মসজিদের ভিতরে, মিম্বরের নিকটে দেয়াই ইজমা সম্মত।

রেফারেন্সঃ হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তিনি বাজারে আযান দেয়ার জন্য আদেশ করেছেন যাতে করে মুছল্লীগণ বাজার হতে এসে নামায আদায় করতে পারে। অতঃপর মুসল্লীগণ একত্রিত হলে মসজিদের ভিতর আযান (ইক্বামত) দেয়া হতো। অতঃপর হযরত উসমান (রাঃ) তিনি মসজিদের ভিতরে দুইটি আযানের প্রচলন করেন। (এটার দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, খতীবের সামনের আযান অর্থাৎ ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার নিয়ম হযরত উসমান (রাঃ) জারী করেন। (তাফসীরে সিরাজুম মুনীর, ৪র্থ খন্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা)।

রাসুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় থেকে দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর খিলাফতকাল পর্যন্ত জুমুআর নামাযে অন্যান্য নামাযের আযানের ন্যায় একটি মাত্র আযানই প্রচলিত ছিল। অতঃপর হযরত উসমান (রাঃ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মদীনায় অবস্থিত ‘যাওরা’ নামক স্থানে দ্বিতীয় আরেকটি আযান (বর্তমানের প্রথম আযান) বৃদ্ধি করেন। এবং মিনারার আযানের পর, প্রথম আযানটি (বর্তমানের দ্বিতীয় আযান) মিম্বরের নিকটে ইমামের সম্মুখে দেয়া শুরু করেন। (তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিশ শফী ৫ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৬০-৬১)।

কুরআন মাজিদের সুরা জুমুআর ৯ নাম্বার আয়াতে “নুদিয়া” দ্বারা জুমুআর দিন খতীব ও মিম্বরের সামনে যে আযান দেয়া হয়, তাই উদ্দেশ্য। কেননা বর্তমানের প্রথম আযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় প্রচলিত ছিল না। ওটা হযরত উসমান (রাঃ) এর খিলাফতকালে লোকসংখ্যার আধিক্য ও কাজ-কর্মের ব্যস্ততার কারণে সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের পরামর্শক্রমে বৃদ্ধি করা হয় এবং ওটা ‘যাওরা’ নামক স্থানে দেয়া হতো। যেহেতু এটার উপর সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সুতরাং এটা সুন্নাতে খুলফায়ে রাশেদ অর্থাৎ হযরত উসমান (রাঃ) এর সুন্নাত (তাফসীরে কামালাঈন, ৪র্থ জিলদ,পৃষ্ঠা-৭৭, তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআন, ৮ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৪২)।

আযানের উদ্দেশ্য মানুষদেরকে নামাযে আসার জন্য আহব্বান করা। মসজিদের মিম্বর উঁচু থাকলে তাতে উঠে আযান দেওয়া সুন্নত। মিম্বর না থাকলে মসজিদের যে স্থানে দাঁড়িয়ে আযান দিলে মানুষের শ্রবনের আশা বেশি থাকে সেখানেই আযান দেওয়া মুস্তাহাব।

বর্তমানে যেহেতু বেশিরভাগ মসজিদে মাইক আছে আর তাতেই আযান দেওয়া হয়, তাই মসজিদের যেকোন স্থান থেকে আযান দিলে যথেষ্ট হবে।
2597 views