আমার বাবার সাথে সম্পর্ক রাখতে মায়ের নিষেধ,এখন আমি কি করব মায়ের আদেশ শুনবো,নাকি শুনবো না,?
আমি যখন ক্লাস ফোরএ পড়ি,তখন আমার বাবা আমার মাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়,কারন তিনি অন্য একজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেন, তখন তিনি বিদেশ থাকতেন, সে থেকেই বাবার প্রতি আমার ঘৃনা, আমি আমার মায়ের সাথে নানার বাড়ি চলে আসি,আমার নানা বাড়ি, আর বাবার বাড়ি কাছাকাছি, তখন আমার বাবা আমার বেশি একটা খোজ খবর নিতো না,তো আমার মায়ের পরে বিয়ে হয় ওনেক দুরে,মা আমাকে সাথে নিয়ে যায়,মায়ের সাথেই আমি বড় হই এবাং মায়ের পরের স্বামী কেই বাবা বলি,এর মধ্যে ওনেক বছর বাবার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি এবং আমার এলাকায় ও যাইনি, এখন আমি যদি আমার বাবার কাছে যাই তাহলে মা কষ্ট পাবে,তাহলে আমার কি করণীয়? ইসলামিক ভাবে একটু উত্তর টা দিবেন,
2 Answers
আপনার উচিত হবে আপনার মায়ের কথা শোনা,,কারন বাবা যেহেতু আপনাকে এতদিন খোঁজ খবর নেন নি,,তাই মায়ের কথা শুনতে হবে,, মায়ের কাছে আপনি বড় হয়েছেন। মায়ের মনে কষ্ট দেয়া যাবে না,, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন الجنت تحت اقدام الامحت অর্থ,, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত,, বাবার কাছে যেতে পারেন,, তবে মায়ের অনুমতি লাগবে,,মা যেতে বললে যেতে পারেন,, নিষেধ করলে যাওয়া উচিত নয়,,
আপনার মা যা করছে সেটা অভিমান। আর বাবা যখন মাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেন, এটা ছিল বাবার ভুল।
কিন্তু মাঝে থেকে আপনিতো কোন ভুল করেন নি। শুধু ভুল একটাই মায়ের পরের স্বামী কে বাবা বলা। নিজের জন্মদাতা বাবা ছাড়া অন্য কাউকে বাবা বলা জায়েয নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম। (সহীহ মুসলিম হাদিসঃ ১২৩)।
এখন আপনার পথ দুইটিঃ
☞ যদি বাবার কাছে যান তাহলে মা কষ্ট পাবে। মা সন্তানের জন্য সর্বাধিক উদ্বিগ্ন থাকে এবং তাকে সর্বাধিক স্নেহ ও আদর যত্ন করে। সন্তান গর্ভে ধারণ, দুধ খাওয়ানো, লালন-পালন এবং রাত জেগে তত্ত্বাবধান-এই কষ্টকর কাজগুলো একমাত্র মা-ই সন্তানের জন্য করে থাকেন। তাই মাকে কষ্ট না দিয়ে মায়ের কথাই শুনুন। অভিমান ভাঙলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
☞ ইসলামিকভাবে বাবার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত হবেনা। যদিও বাবা বেশি একটা খোজ খবর নিতো না তবুও তিনি জন্মদাতা পিতা।
এখন করণীয় হচ্ছে, পরিস্থিতি সাপেক্ষ পিতার সাথে সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা। কেননা, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি পাবেন আপনার জন্মদাতা পিতার কাছ থেকেই। একই ভাবে সৎ বাবার কাছ থেকে কোন সম্পত্তি পাবেন না।