শব ই বরাতের নামজ পরা কি বেদায়াত
2840 views

1 Answers

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় রাসুলে করিম (স.) ইরশাদ করেছে, যখন শাবানের ১৫ তারিখ হয়, সে রাতে আল্লাহর সম্মুখে দাঁড়িয়ে ইবাদত কর, দিনে রোজা রাখ। কেন না, এ রাতে সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমান থেকে বলতে থাকেন কেউ কী আছে ক্ষমাপ্রার্থী, যাকে আমি ক্ষমা করব? রিজিক প্রার্থী কেউ আছে কী, যাকে আমি রিজিক দেব? বিপদগ্রস্ত কেউ আছে কী? যাকে আমি সুস্থতা দান করব। এমনিভাবে সুবেহ সাদিক পর্যন্ত আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা হতে থাকে। (ইবনে মাজাহ)

=> এই রাতে নিজস্ব পরিসরে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও তাসবিহ তাহলিল করা যেতে পারে। এবং এ রাতে কোনো ইবাদত করলে তা নফল হিসেবেই গণ্য হবে। আর নফল সালাত বা ইবাদত ঘরেই করা বেশি ভালো। মাসজিদের জড়ো হয়ে এটাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলে তা অবশ্যই বিদয়াত বলে গণ্য হবে যা একটি পাপ।

এ রাতে আমাদের করণীয় :
 

ইবাদত করা: এ রাতে গোসল করা মোস্তাহাব, গোসলের পর দুরাকাত তাহিয়াতুল অজুর নামাজ, অতঃপর দুরাকাতের নিয়তে প্রত্যেক রাকাতে আলহামদু (সুরা ফাতিহা) সুরা ইখলাছ সহকারে ৮ রাকাত নামাজ পড়তে হয় বলে বর্ণিত আছে। আরও দুই রাকাত নামাজ আছে, যিনি পড়বেন তাকে আল্লাহ তায়ালা তিনটি পুরস্কার দেবেন। ক. রিজিক বাড়িয়ে দেবেন। খ. দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করবেন। গ. গুনাহ মাফ করবেন।
রোজা রাখা: রোজা রেখে ইবাদত করা, ইবাদত করে রোজা রাখা-দুটোই উত্তম। কেন না, সারা দিন রোজা রেখে ইবাদত করলে ইবাদতে মন বসে। যাবতীয় গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে। রিজিকের জন্য দোয়া করতে হবে। তওবা করতে হবে। তওবা তিনটির সমন্বয়ে হয়- ক. কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে খ. পাপ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে এবং গ. ভবিষ্যতে পাপ না-করার অঙ্গীকার করতে হবে। উভয় জাহানের কল্যাণ কামনা করতে হবে। নফল নামাজ পড়তে হবে।
কবর জিয়ারত করতে হবে। কবর জিয়ারতের নিয়ম হলো ক. একবার সুরা ফাতিহা খ. তিনবার সুরা ইখলাছ গ. ১১ বার দরুদ শরিফ। আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে। কেননা, আল্লাহর রহমত না-হলে এ রাতে কোনো ইবাদতই করতে পারব না। আর ইবাদত করার পর কবুল হবে না কারণ, আল্লাহর রহমত না-হলে ইবাদত কবুল হবে না। এ জন্য ইবাদতের বড়াই বা অহংকার করা যাবে না।

2840 views