5 Answers
ওগো মা তুমি ধরনীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত .তোমারি পদতলে রয়েছে জান্নাত .এই পৃথিবি থাকতো ওগো মায়ামহহিন .এই পূথিবী থাকতো ওগো ফুলোফলোহীন যদিনা পেত মায়ের মায়ারি হাত ওগো আল্লাহ মিনতি করি মাকে যেন আমি কখনোও না ভুলি
"মনে পড়া"
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু কখন খেলতে গিয়ে
হঠাৎ অকারণে
একটা কী সুর গুনগুনিয়ে
কানে আমার বাজে,
মায়ের কথা মিলায় যেন
আমার খেলার মাঝে।
মা বুঝি গান গাইত, আমার
দোলনা ঠেলে ঠেলে;
মা গিয়েছে, যেতে যেতে
গানটি গেছে ফেলে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন আশ্বিনেতে
ভোরে শিউলিবনে
শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে
ফুলের গন্ধ আসে,
তখন কেন মায়ের কথা
আমার মনে ভাসে?
কবে বুঝি আনত মা সেই
ফুলের সাজি বয়ে,
পুজোর গন্ধ আসে যে তাই
মায়ের গন্ধ হয়ে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন বসি গিয়ে
শোবার ঘরের কোণে;
জানলা থেকে তাকাই দূরে
নীল আকাশের দিকে
মনে হয়, মা আমার পানে
চাইছে অনিমিখে।
কোলের 'পরে ধরে কবে
দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
সারা আকাশ ছেয়ে।
মা
কাজী নজরুল ইসলাম
যেখানেতে দেখি যাহা
মা- এর মতন আহা
একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,
মায়ের মতন এত
আদর সোহাগ সে তো
আর কোনখানে কেহ পাইবে ভাই!
হেরিলে মায়ের মুখ
দূরে যায় সব দুখ
মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শিতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।
কত করি উৎপাত
আবদার দিন রাত,
সব স'ন হাসি মুখে, ওরে সে যে মা!
আমাদের মুখ চেয়ে
নিজের র'ন নাহি খেয়ে
শত দোষে দোষী তবু মা তো তাজে না।
ছিনু খোকা এতটুকু,
একটুতে ছোট বুক
যখন ভাঙ্গিয়া যেতো, মা-ই সে তখন
বুকে করে নিশিদিন
আরাম-বিরাম-হীন
দোলা দেয়া শুধাতেন, 'কি হলো খোকন?'
আহা সে কতই রাতি
শিয়রে জ্বালায়ে বাতি
একটু অসুখ হলে জাগেন মাতা,
সব-কিছু ভুলে গিয়ে
কেবল আমায়ের নিয়ে
কত আকুলতা যেন জগন্মাতা।
যখন জন্ম নিনু
কত অসহায় ছিনু
কাঁদা ছাড়া নাহি জানিতাম কোন কিছু,
ওঠা বসা দূরে থাক-
মুখে নাহি ছিল নাক,
চাহনি ফিরিত শুধু আর পিছি পিছু।
তখন সে মা আবার
চুমু খেয়ে বারবার
চাপিতেন বুকে, শুধু একটি চাওয়ায়
বুঝিয়া নিতেন যত
আমার কি ব্যথা হোতো,
বল কে এমন স্নেহে বুকটি ছাওয়ায়।।
তারপর কত দুখে
আমারে ধরিয়া বুকে
করিয়া তুলেছে মাতা দেখ কত বড়
কত না সে সুন্দর
এ দেহ এ অন্তর
সব মোরা ভাই বোন হেথা যত পড়।
পাঠশালা হতে যবে
ঘরে ফিরি যাব সবে,
কত না আদরে কোলে তুলি' নেবে মাতা,
খাবার ধরিয়া মুখে
শুধাবেন কত সুখে
কত আজ লেখা হলো, পড়া কত পাতা?
পড়া লেখা ভালো হ'লে
দেখেছ সে কত ছলে
ঘরে ঘরে মা আমার কত নাম করে।
বলে, 'মর খোকামনি!
হীরা- মানিকের খনি,
এমনটি নাই কারো!' শুনে বুক ভরে।
গা'টি গরম হলে
মা সে চোখের জলে
ভেসে বলে 'ওরে যাদু কি হয়েছে বল।'
কত দেবতার 'থানে'
পীরে মা মানত মানে-
মাতা ছাড়া নাই কারো চোখে এত জল।
যখন ঘুমায়ে থাকি
জাগে রে কাহার আ৬খি
আমার শিয়রে, আহা কিসে হবে ঘুম।
তাই কত ছড়া গানে
ঘুম-পাড়ানীরে আনে,
বলে,'ঘুম! দিয়ে যা রে খুকু-চখে চুম।'
দিবানিশি ভাবনা
কিসে ক্লেশ পাব না,
কিসে সে মাউষ হব, বড় হব কিসে;
বুক ভরে ওঠে মা'র
ছেলেরি গরবে তাঁর,
সব দুখ সুখ হয় মায়ের আশিসে।
আয় তবে ভাই বোন,
আয় সবে আয় শোন
গাই গান, পদধুলি শিরে লয়ে মা'র;
মা'র বড় কেহ নাই-
কেউ নাই কেউ নাই!
নত করি বল সবে 'মা আমার! মা আমার!'
আমার লিখা একটা কবিতা দিলাম
মা
আতাউল্লাহ আহমাদ
মা আমার জগৎ সেরা প্রিয় একটি নাম
মা ছাড়া এই জগতে নেইযে কোন দাম
মায়ের মত নিঃস্বার্থ নেই যে ভালোবাসা
মা নিয়ে ত্রিভূবনে আমার সকল আশা
মা ছাড়া এক মুহুর্ত বাচা বড় দায়
বেচে আছি থাকবো বেচে মায়ের ই ছায়ায়
মা তোমার সুখে দুঃখে থাকবো তোমার পাশে
তোমার তরে করি দোয়া অধিক ভালোবেসে
তোমার তরে কী লিখিব শেষ হবেনা লেখা
তোমার দিকে যতই চাহি শেষ হয়না দেখা
মরার পরে আল্লাহ যেন করেন তব নাজাত
তাইতো তোমার তরে সদা করি মুনাজাত।
মাকে নিয়ে কথা - আইরিন আক্তার ধন্য হলাম মাগো জন্মে তোমার গর্ভে, এতো মমতাময়ী সত্তা দেখিনি কখনো পূর্বে। তুমি স্বর্গ তুমি নরক তুমিই আমার সব, তোমার মাঝেই সুখের সকল উৎসব। তুমিহীনা জীবন আমার বিষাদময়, দূরে গেলে নিজেকে প্রাণহীন মনে হয়। জড়িয়ে রেখো সর্বদা তোমার বুক পাজঁরে, ভালবাসা দিওনা কমিয়ে বিনা কোন ওজরে। নিংসঙ্গ ছিলাম সঙ্গ দিয়েছিলে তুমি, এই ঋণ কখনোই শোধ করতে পারবোনা আমি। নিজেকে কষ্ট দিয়ে রেখেছিলে খুব সুখে, চাওয়া মাত্র আহার দিয়েছিলে মুখে। তুমি না হলে হতাম অস্তিত্বহীন, জীবন হয়ে যেত আনন্দবিহীন। দশ মাস নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলে আমায়, তিলে তিলে বেড়ে উঠে কত কষ্ট দিয়েছি তোমায়। বিধাতার পরে মাগো আছে তোমার স্থান, আজীবন করে যেতে চাই তোমার সম্মান। জানিনা আজ কতটুকু রেখেছি তোমার মান, আমার সাথে করোনা কখনোই অভিমান। বেশি কিছু নয় শুধু তোমার পদতলে থাকতে চাই, তোমার দোয়ায় পেয়ে যাবো স্বর্গেও ঠাঁই।