আদা চাষ করার উপায়?

আদা কোন মাটিতে ভালো হয় ? আদা কী ছায়াযুক্ত জাইগাই হবে ? এবং বীজ কোথা থেকে সংগ্রহ করব ?
2854 views

2 Answers

*আদা চাষ করার উপায়: মসলা হিসেবে আদার গুরুত্ব কম নয়। মসলা ছাড়াও বিভিন্ন রোগ-ব্যধিতে দারুণ উপকারে আসে এটি। কারণ আদায় ক্যালসিয়াম ও প্রচুর ক্যারোটিন থাকে। এছাড়া আদা চাষ করা যায় সহজেই। আসুন জেনে নেই নিয়ম-কানুন- মাটি পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী। বীজ ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণত ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সেন্টিমিটার পর পর সারি করে ২০ সেন্টিমিটার দূরে ৫ সেন্টিমিটার গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলি করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সার প্রতি হেক্টরে গোবর সার ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি দিতে হয়। জমি প্রস্তুতির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার দিতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ও ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলিতে দিতে হয়। রোগ পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের কারণে রাইজম রট নামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে আদা বড় হতে পারে না এবং গাছ দ্রুত মরে যায়। ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশি হয়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। ব্যবস্থপনা আদা লাগানোর ২১ দিন আগে মুরগীর অর্ধপচা বিষ্ঠা প্রতি হেক্টরে ১০ টন হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া মাটি হালকা কুপিয়ে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। সংগ্রহ আদা লাগানোর ৯-১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন। সূত্র:Jagonews24.com

2854 views Answered

চলুন, জেনে নিই পদ্ধতিটি :- ধাপ-১ : আদা থেকে গাছ গজাতে হবে প্রথমে। এই কাজটি করার জন্য আদাকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। কিছুদিন পর দেখতে পাবেন যে আলুতে যেমন গাছ বা "চোখ" গজায়, তেমনই গাছ গজিয়েছে। প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে পানি ও পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেটের (ফার্মেসিতে কিনতে পারবেন) পাতলা দ্রবনে আদাকে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ফ্রিজে রাখুন। ধাপ-২ : গাছ গজিয়ে গেলে আদাকে টুকরো করে নিন। প্রত্যেক টুকরোয় কমপক্ষে একটি গাছ যেন থাকে, সেটি খেয়াল রাখবেন। ধাপ- ৩ : এবার লম্বাটে টবে বা পাত্রে আদা রোপন করুন। পানি বা তেলের ৩-৫ লিটারের বোতলগুলো বেশ ভালো কাজে আসবে। সমান সমান পরিমাণ মাটি ও জৈব সারের সাথে অর্ধেক পরিমাণ বালু মিশিয়ে আদার জন্য মাটি তৈরি করুন। কিংবা আপনার ঘরে ভালো মাটি থাকলে সেটাটেই সার মিশিয়ে রোপন করুন। একটি পাত্রে একাধিক আদার টুকরো রোপণ করুন। পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিন। গাছ মাটির ওপরে বেরিয়ে আসলে প্লাস্টিক সরিয়ে দেবেন। ধাপ-৪ : নিয়মিত পানি দেবেন, তবে খুব বেশী নয়। ২/৩ দিন পরপর। বেশী পানি দিলে আদা পচে যাবে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসে রাখুন। ধাপ-৫ : আদা রোপণের জন্য ভালো সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। রোপণের ২/৩ মাসের মাঝেই গাছ গজাবে। ভালো অবস্থায় গাছ ১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। হেমন্তে গাছ যখন শুকিয়ে যাবে, তখন মূল টেনে তুলে নিন। এই মূলটিই হচ্ছে আদা। গাছটা মোটামুটি বেড়ে উঠলেই বুঝবেন যে আদা তোলা যায়। আদা ম্যাচিউর হয়ে গেলে আপনি গাছ টেনে তুলে প্রয়োজনমত খানিকটা আদা নিয়ে আবার লাগিয়ে রাখতে পারেন। যতদিন গাছ মরে না যাচ্ছে, আদা বড় হবে। পরিষ্কার করে সংরক্ষন করুন। বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। গুঁড়ো করে রাখলে সারা বছর থাকবে। আদা বীজ রোপণের প্রায় ৭-৮ মাস পর ফসল পরিপক্ব হয়। আদা এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত রোপণ করা হয়। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদা উত্তোলন করা হয়। 

2854 views Answered

Related Questions

Next steps