1 Answers
শাফায়াত বলতে ইসলামি পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহর নিকট নবী রাসুলগণের সুপারিশ করাকে বোঝায়। হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার কাছে নবী রাসুলগণ শাফায়াত করবেন।
শাফায়াত দুই ধরনের।
☞ শাফায়াতে কুবরা।
☞ শাফায়াতে সুগরা।
❏ শাফায়াতে কুবরাঃ কিয়ামতের দিন যখন মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে তখন আদম, নূহ, মুসা (আঃ) প্রভৃতি নবীদের নিকট উপস্থিত হয়ে শাফায়াতের অনুরোধ করবে। তারা সকলেই অপারগতা প্রকাশ করবে। এসময় সবাই মহানবীর নিকট উপস্থিত হবে। তখন রাসূলুল্লাহ আল্লাহ তায়ালার নিকট সুপারিশ করার অনুমতি চাইবেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে অনুমতি দিবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। একে শাফায়াতে কুবরা বলা হয়।
❏ শাফায়াতে সুগরাঃ কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফায়াত করা হবে। এটাই শাফায়াতে সুগরা। আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন এবং যাকে শাফায়াত করার অনুমতি দিবেন তিনি সহ নবী-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলিম, হাফেজ সহ অনেকেই এই শাফায়াতের সুযোগ পাবেন।
তবে শাফায়াতের জন্য ৩টি শর্ত রয়েছে।
☞ শাফায়াতকারীর উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা।
☞ যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার উপরও আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা।
☞ শাফায়াতকারীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াত করার অনুমতি থাকা।
আল্লাহ তায়ালা এই শর্তগুলো কুরআন মাজীদে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেনঃ আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছেন, যাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসু হয়না। কিন্তু আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন এবং যাকে শাফায়াত করার অনুমতি দেন তার কথা ভিন্ন। (সূরা নাজমঃ ২৬)।
আল্লাহ বলেনঃ কে এমন আছে যে, সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? (সূরা বাকারাঃ ২৫৫)।
আল্লাহ আরো বলেনঃ দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না। (সূরা ত্বো-হাঃ ১০৯)।
আল্লাহ বলেনঃ তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করবেন, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট। (সূরা আন্বীয়াঃ ২৮)।
সুতরাং শাফায়াত পাওয়ার জন্য উপরোক্ত তিনটি শর্ত থাকা আবশ্যক।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy