আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ি। আমি বাংলা চটি পড়ে যৌন উত্তেজনা সয্য করতে না পেড়ে আমি আমার বোন ও মা সাথে যিনা করেছি। এখন আমি নিজের বিবেকের সাথে যুদ্ধ করছি। এখন আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই যিনাহ করলে এর পরকালে শাস্তি কি??? এবং এবং মহান আল্লাহ কি করলে আমাকে ক্ষমা করবে? প্লিজ ইসলাম সম্পর্কে জারা ভালো জানেন তারা আমকে সাহায্য করুন। আর এই অবস্থায় আমি কি আত্নহত্যা করব? আর কি করলে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন? প্লিজ বলুন আমাকে?
2728 views

2 Answers

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় উনি আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।

আল্লাহ কুরানে বলেছেন, " তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না"

এখনো সময় আছে, তাওবা করুন। নাহলে পরকালে কঠিন আযাব আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। এই আযাব সহ্য করার মত ক্ষমতা কারুর নেই।

 


2728 views

আপনি হয়তো আমাকে বলতে পারেন, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু আমার গুনাহের পরিমাণ অনেক বেশী, আমি আমার জীবনে যত রকমের গুনাহ আছে, তা সবই আমি করেছি। আমি জীবনে অনেক বড় বড় পাপ কামাই করেছি। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিগত এত বছরের সব পাপ কি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন? হে সম্মানিত পাঠক ভাই! আপনাকে আমি বলছি, এটি বিশেষ কোন সমস্যা নয় বরং এটা অনেকেরই সমস্যা যারা তাওবা করতে চায়। গুনাহ যত বড় হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও দয়া তার চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহ তা’আলা সব ধরনের পাপকেই ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তা’আলা কুরানে করীমে স্বীয় বান্দাদের সম্বোধন করে বলেন, ﴿ ۞ ﻗُﻞۡ ﻳَٰﻌِﺒَﺎﺩِﻱَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳۡﺮَﻓُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻘۡﻨَﻄُﻮﺍْ ﻣِﻦ ﺭَّﺣۡﻤَﺔِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐۡﻔِﺮُ ﭐﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻐَﻔُﻮﺭُ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ٥٣ ﻭَﺃَﻧِﻴﺒُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﺭَﺑِّﻜُﻢۡ ﻭَﺃَﺳۡﻠِﻤُﻮﺍْ ﻟَﻪُۥ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻞِ ﺃَﻥ ﻳَﺄۡﺗِﻴَﻜُﻢُ ﭐﻟۡﻌَﺬَﺍﺏُ ﺛُﻢَّ ﻟَﺎ ﺗُﻨﺼَﺮُﻭﻥَ ٥٤ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺰﻣﺮ : ٥٢، ٥٣ ] “বলে দাও যে, [আল্লাহ বলেন] হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছো, তোমরা আল্লাহ তা’আলার রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ [অতীতের] সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন কর এবং তার নিকট আত্মসমর্পণ কর আযাব আসার পূর্বেই, অতঃপর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না”।[41] আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা করবেনই। আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহ আনহু হতে হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻳﻘﻮﻝ : ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ : ‏[ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻣﺎ ﺩﻋﻮﺗﻨﻲ ﻭﺭﺟﻮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻓﻴﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ، ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﻟﻮ ﺑﻠﻐﺖ ﺫﻧﻮﺑﻚ ﻋﻨﺎﻥ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺛﻢ ﺍﺳﺘﻐﻔﺮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ، ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻟﻮ ﺃﺗﻴﺘﻨﻲ ﺑﻘﺮﺍﺏ ﺍﻷﺭﺽ ﺧﻄﺎﻳﺎ ﺛﻢ ﻟﻘﻴﺘﻨﻲ ﻻ ﺗﺸﺮﻙ ﺑﻲ ﺷﻴﺌﺎ ﻷﺗﻴﺘﻚ ﺑﻘﺮﺍﺑﻬﺎ ﻣﻐﻔﺮﺓ [ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! যখনই তুমি আমাকে ডাকবে ও আশা করবে, আমি তোমার মধ্যে যে সব দোষ ত্রুটি আছে, সেগুলো নির্বিঘ্নে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তোমার গুনাহের স্তুপ আসমান পর্যন্ত পৌঁছে, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাইলে, আমি নির্বিঘ্নে তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি জমিন ভর্তি গুনাহ করে থাক, তারপর যে অবস্থায় তুমি আমার সাথে কাউকে শরিক করোনি সে অবস্থায় তুমি আমার নিকট আসলে, আমি তোমার কাছে জমিন ভর্তি ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব।[42] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও এরশাদ করেন, ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ـ ﺗﻌﺎﻟﻰ ـ ﻳﺒﺴﻂ ﻳﺪﻩُ ﺑﺎﻟﺘﻮﺑﺔ ﻟﻤﺴﻲﺀ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﻭﻟﻤﺴﻲﺀ ﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺣﺘﻰ ﺗﻄﻠﻊ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻣﻦ ﻣﻐﺮﺑﻬﺎ . “একজন বান্দা রাতে যে সব অপরাধ করে, তা ক্ষমা করার জন্য আাল্লাহ তা’আলা সারা হাত পেতে রাখেন, আর দিনের বেলা যে সব অপরাধ করে, তা ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ তা’আলা রাতে হাত পেতে দেন। এটি ততদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে, যেদিন সূর্য্ পশ্চিম দিক থেকে উদয় হবে”। মোট কথা পাপের পরিমাণ যত বেশী হোক না কেন আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই ক্ষমা করবেন। কিন্তু তারপরও আমাদের অন্তরে এ অনুভূতি জাগে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন কিনা? এ অনুভূতি জাগ্রত হওয়া কারণ হচ্ছে: প্রথমত: আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার ব্যাপকতা সম্পর্কে বান্দার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস না থাকা। এর ব্যাখ্যা হিসেবে মহান আল্লাহর এ বাণীই যথেষ্ট হবে: ﴿ ۞ ﻗُﻞۡ ﻳَٰﻌِﺒَﺎﺩِﻱَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳۡﺮَﻓُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰٰٓ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢۡ ﻟَﺎ ﺗَﻘۡﻨَﻄُﻮﺍْ ﻣِﻦ ﺭَّﺣۡﻤَﺔِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻐۡﻔِﺮُ ﭐﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻐَﻔُﻮﺭُ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ٥٣ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺰﻣﺮ : ٥٢ ] “নিঃসন্দেহে আল্লাহ [অতীতের] সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, দয়ালু”।[43] দ্বিতীয়ত: আল্লাহর রহমত যে কত ব্যাপক সে সম্পর্কে ঈমানে ঘাটতি থাকা। এক্ষেত্রে নিম্নের হাদীসে কুদসীই যথেষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি জানলো যে, আমি গুনাহ মাফ করার ক্ষমতা রাখি তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেব এ ব্যাপারে কোন কিছুতেই পরওয়া করবো না, যদি সে আমার সাথে কোন কিছু শরীক [অংশীদার] না করে থাকে”। এটি হবে, যখন বান্দা আল্লাহর সাথে পরকালে সাক্ষাত করবে। তৃতীয়ত: তাওবার কার্যকর ক্ষমতা সম্পর্কে এ ধারণা না থাকা যে, তা সব গুনাহকেই ক্ষমা করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে রাসূলের এ হাদীসই যথেষ্ট, “যে ব্যক্তি তাওবা করবে তার যেন কোন গুনাহ থাকবে না।” ক্ষমাকে যারা খুব কঠিন বলে মনে করে এবং চিন্তা করে, আল্লাহ কঠিন পাপ ক্ষমা করবেন কিনা? তাদের জন্য নিম্নোক্ত হাদীসটি পেশ করছি।

2728 views

Related Questions