1 Answers
তাবলীগ জামাতের ইজতেমার কথা কোরাআন হাদিসে বলা নেই।
ইসলাম ধর্মের ব্যবহারিক দিকগুলো অনুশীলনের জন্য মানবসমাজে দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ সত্যকে ধারণ করে তাবলিগ জামাত যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী তাদের দাওয়াতের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
ইসলামি দাওয়াতের মূল প্রেরণা হচ্ছে কল্যাণকামিতা আর সারকথা হলো মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান। শুধু নিজে ভালো কাজ করলেই হবে না, অন্যকেও সৎ কাজের কথা বলতে হবে। বিশেষ করে, সমাজের সচেতন অংশ ধর্মীয় নেতারা তথা মসজিদের ইমাম ও খতিবদেরও এ মহান দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট হতে হবে। মানবকল্যাণ ও সৎ কর্মে প্রতিযোগিতার সাধনায় আত্মনিয়োগ করার আদেশ দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে, তারাই সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪)।
এই দিকনির্দেশনা বহন করে আল্লাহর বান্দাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দীনের পয়গাম মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার মেহনত করা হয়। মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও কর্মের সংশোধনে দাওয়াতে তাবলিগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গুটিকতক লোক যারা ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণী প্রচার করেন, তাদের এ দলবদ্ধ কার্যক্রমকে তাবলিগ জামাত বলে।
আর আরবি ‘ইজতেমা’ শব্দের অর্থ সমাবেশ বা সম্মেলন। ধর্মীয় কোনো কাজে বহুসংখ্যক মানুষকে একত্র করাকে শরিয়তের পরিভাষায় ইজতেমা বলে।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীর বহুসংখ্যক দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেখানে সমবেত হন, একে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ বলা হয়। সারা বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ থেকে আসা হাজার হাজার তাবলিগ ও ইসলামি দাওয়াহ অনুসারী দীনদার মুসলমান বাংলাদেশের রাজধানীর উপকণ্ঠে কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে প্রতিবছর দুই পর্বে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হন।
বিশ্ব ইজতেমা বা সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের সব ভ্রান্তপথ পরিহারের তাগিদ করে আল্লাহর রাস্তায় ফিরিয়ে এনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে সহজ-সরল জীবনযাপন এবং আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য কল্যাণের পথচলায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা।
তাবলিগ অর্থ প্রচার করা, ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, সৎ কর্মের প্রতি আহ্বান করা প্রভৃতি। একজনের অর্জিত জ্ঞান বা শিক্ষা নিজ বা সম্মিলিত ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নামই তাবলিগ।
কোনো আদর্শ বা বিশেষ মতবাদের প্রচারকাজকে তাবলিগ বলা হয়। সাধারণত ধর্মীয় মতবাদ প্রচারই তাবলিগ। পৃথিবীর বুকে ইসলামের অভ্যুদয়, ক্রমবিকাশের অগ্রযাত্রা ও প্রচার-প্রসারের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো দাওয়াত ও তাবলিগ। ইসলামের আবির্ভাবের মুহূর্ত থেকে অদ্যাবধি নিরলস, নিরবচ্ছিন্ন গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে তাবলিগের কার্যক্রম। প্রকৃতপক্ষে দাওয়াত ও তাবলিগ হচ্ছে ইসলাম প্রচারের একটি মৌলিক কর্মসূচি।