6 Answers

ভাই, আপনার নিম্নের লেখাগুলো পড়লেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে আশা করছি...

আসুন দেখী হাদীসে বিয়ের ব্যাপারে কি বলা হয়েছে, বুখারী শরিফ এর বিয়ে অধ্যায়ে নবীজি (স) বলেছেন – “হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামথ্য` রাখে সে যেনো বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে অধিকতর আনত এবং যৌনাঙ্গকে অধিকতর সংযত রাখে।” ইবনে কাছীর ৩য় খন্ড ৩৮৩ পৃষ্ঠাতে উল্লেখ আছে, হযরত মোহাম্মদ (স) বলেছেন, “তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী স্ত্রীলোকদের বিয়ে কর এবং বংশ বৃদ্ধি কর। কিআমতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য দের উপর গৌরব করব।” এই একই কথা উল্লেখ আছে মিশকাত শরীফ : কিতাবুন নিকাহ্ তে ॥ মিশকাত শরীফ এ বিয়ে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “বিয়ে করলে মানুষ বহু রকম অনিষ্ট থেক বেঁচে যায়। বরং কেউ যদি স্বীয় কাম প্রবৃত্তির আঁচল থেকে নিষ্কুলুষ থেকে এবং পবিত্র থেকে দুনিয়া হতে বিদায় হতে চায় এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ।” আল্লাহর সাথে যে পাক পবিত্র হতে চায় সে যেনো ভদ্র মহিলাদের বিয়ে করে ॥ মিশকাত শরীফে বিবাহ্ নিয়ে একটি হাদীস আছে এই রকম , নবীজি (স) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি বিয়ে করলো সে যেনো দ্বীনের আধ অংশ পূরণ করলো।” বুখারী শরিফের বিবাহ্ সম্ভন্ধে বলা হয়েছে, “একদিন নবীজি (স) এর দওলতখানাতে তিন জন লোক এসে উনার পত্নীর কাছে নবীজি (স) এর ইবাদত এর কথা জেনে মন্তব্য করলেন, কোথায় আল্লাহর রাসুল (স) যার সমস্ত গুনাহ্ আল্লাহ্ পার ক্ষমা করে দিয়েছেন! আর কোথায় আমরা গুনাহ্ এর সমুদ্রে ডুবে আছি । তখন প্রথম লোক বললো – আমি সারারাত নামায পরবো ॥


২য় লোক বললো- আমি সারাদিন রোযা রাখবো ॥

৩য় লোক বললো -আমি কোন দিন বিয়ে করবো না নারী সংঘ ত্যাগ করবো॥

নবীজি (স) এই কথা জানতে পেরে তাদের বলেন তোমরা কি এই ধরনের কথা বলেছো ?

শোনো তাহলে: তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বড় মুত্তাকী হলাম আমি তবুও আমি নামায আদায় করি , রোযা রাখি ইফতার করি , বিয়ে শাদী ও করি আবার স্ত্রীর কাছেও যাই॥ যারা আমার এই তরিকা মানবেনা তারা আমার দলভুক্ত নয় ।


কোন কোন রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় -

কারো টাকা পয়সার অসচ্ছলতার কারণে সে যদি বিয়ে করতে না পারে সে যেনো সিয়াম পালন করে বা রোযা রাখে কারণ রোযা সকল খারাপ বা অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং কামভাব নিস্তেজ করার উপদেশ দেয়া হয়েছে মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে ,

দুনিয়াতে সব কিছুই সম্পদ ,তবে দুনিয়াতে সত্‍ দায়িত্ববান রমনী সব থেকে শ্রেষ্ট সম্পদ॥


বায়হাকি শরীফে বলা হয়েছে -

ধৈয` শীল দেহ ,কৃতজ্ঞ অন্তর ,প্রভুর স্মরণেতর জিহ্বা এবং সত্‍ স্ত্রী যাকে দেয়া হয়েছে তার চেয়ে সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই ॥ বায়হাকি শরীফে এও বলা হয়েছে- স্বখরচে বিয়ে করা সবচেয়ে বরকতময় ॥

নবীজি (স) বলেছেন তিনটি কাজে দেরী নয়, আযান দিলে নামাজ আদায়ে , মৃত্যু হলে জানাযা এবং দাফন দ্রুত করা , এবং সমমানের পাত্র পাত্রী পেলে বিয়ে করা তে দেরী না করা ॥

আরো বলেছেন: তোমরা যা খাবে তোমাদের স্ত্রীদেরও তা খাওয়াবে এবং প্রয়োজনমত বস্ত্র দিবে॥

আবার বলেছেন: বৈধ নিকৃষ্ট খারাপ কাজ দুটি ভিক্ষাবৃত্তি আর বউ তালাক দেওয়া ।

আরো বলেছেন: তোমরা স্ত্রীদের অতীত দোষ খুঁজো না ॥

আরো বলেছেন :তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছ্ে উত্তম,


স্ত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন: আল্লাহ্ ব্যতীত কাউকে যদি সেজদা করতে বলতাম তাহলে আমি বলতাম তোমরা তোমাদের স্বামীদের সেজদা কর॥ হযরত আলী (রা) স্ত্রীদের প্রতি রাগ উঠলে ওযু করতেন ‘ মাটিতে গড়াগড়ী করে রাগ দমন করতেন॥

হযরত খলিফা ওমর ফারুক (রা) বলেছেন, স্ত্রীদের প্রতি শিশুদের মতো মায়া করে কথা বলো ॥

নবীজি (স) বৈবাহীক জীবনে যেন স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের দিকে আন্তরিক দৃষ্টিতে তাকায় ॥

ইসলামে বৈরাগ্যবাদ নেই ॥

বিয়ে না করে দরবেশ হওয়ার জন্যে ইসলামে নিষেদ আছে। হাদীস শরীফে ইবনে মাযাউন (রা) একটা ঘটনা উল্লেখ আছে একদিন ইবনে মাযাউন (রা) একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হবার জন্যে ঠিক করলেন তিনি নারী সংরব ত্যাগ করবেন এবং তিনি তার অন্ডকোশ কেটে ফেলে নরপংশুক হবার মনস্হীর করলেন॥ রাসূল (স) তাঁর এই মনোভাব জানতে পারলেন এবং তাঁকে বুঝিয়ে তাঁর মত পরিবরতন করেন।( আহমদ)


হযরত আবু যর (রা) বলেন : একদা উকাফ ইবিন বিশর তামীমি (রা) কে রাসূল (স) বলেন : উকাফ তোমার কি স্ত্রী আছে? তিনি বললেন না । রাসূল (স) আবার বললেন তোমার কি ক্রৃতদাসী আছে? তিনি বললেন তাও নেই॥ তখন রাসূল বললেন (তোমার যদি সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তুমি বিয়ে না করো ,তাহলে তুমি শয়তানের ভাই ॥ মিশকাত শরীফ,বিবাহ অধ্যায় জামউল ফাওয়ায়িদ বিবাহ অধ্যায়ের ১ম খন্ডের ১২১ নং পৃষ্টায় বলা হয়েছে _

যে লোকের স্ত্রী নেই সে লোক মিসকীন ,

তখন সাহাবীগণ বলেন সে যদি মালদার হয়? নবীজি (স) তখনও সে মিসকীন । এবং এও বলেছেন যেই মহিলার স্ত্রী নেই সেও মিসকীন যদিও সে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয় । এখন দেখা যাচ্ছে ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমন সচ্ছলতা এবং সামর্থ্য না থাকলে বিয়ে করা থেকে নিষেধও করা হয়েছে।

4116 views

ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব টরোন্টো, কানাডা এর একজন সিনিয়র লেকচারার শেখ আহমদ কুট্টি বলেছেন, যদিও ইসলামিক ফিকাহ শাস্ত্র মতে বিবাহ একটি বিশেষ পছন্দনীয় (Highly recommended) কাজ, তদুপরি অবস্থার পরিপ্রেহ্মিতে একে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-১. ফরজ বা বাধ্যতামূলক (Obligatory) ২. মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (Recommended) ৩. হালাল বা বৈধ (Permitted) ৪. হারাম বা নিষিদ্ধ (Forbidden) বিবাহ তখনই ফরজ বা বাধ্যতামূলক হয় যখন একজন ব্যক্তি (নারী ও পুরুষ) তীব্র যৌন চাহিদা অনুভব করে এবং তার দ্বারা ব্যভিচার ঘটে যাবার আশংকা থাকে। যেহেতু ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা ফরজ এবং বিবাহই একমাত্র এই চাহিদা পূরণের বৈধ পন্থা, সেহেতু ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ ফরজ। এ হ্মেত্রে ফিকাহ শাস্ত্রের মূলনীতিটি হলো, “যদি একটি ফরজ কাজ অন্য একটি কাজ ব্যতীত আদায় সম্ভব না হয় তবে ঐ সহায়ক কাজটিও মূল ফরজের মতোই ফরজ হিসেবে গণ্য হবে।” যদি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা খুব তীব্র না হয় এবং তার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হবার সম্ভাবনা না থাকে কিন্তু বিবাহ করার সবরকম সামর্থ্য ও সুযোগ তার থাকে এমতাবস্থায় বিবাহ তার জন্য মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ। কারণ এটির দ্বারা সে রাসূল (স.) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে অনুসরণ করছে। একজন ব্যক্তির বিবাহ করার মতো ন্যূনতম অর্থনৈতিক সামর্থ্য যদি না থাকে (মোহরানা আদায় ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর জন্য ফরজ) এবং এভাবে সে যদি বিবাহের দায়িত্বসমূহ পালনে অসমর্থ হয় কিন্তু বিবাহের তীব্র প্রয়োজন অনুভব করে, সেহ্মেত্রে বিবাহ করা তার জন্য হালাল (Permitted) এই শর্তে যে-- সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সৎপন্থায় উপার্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং - ভাবী স্ত্রীকে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দান করবে। সত্য গোপন করা এহ্মেত্রে প্রতারণার সামিল । আল্লাহ এরূপ অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ হ্মেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হলো ঐ ব্যক্তিকে আত্মনির্ভরশীল হবার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য করা। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে ব্যক্তিটি সৎভাবে উপার্জনের কোন পথই পাচ্ছে না এবং বৈবাহিক দায়িত্ব (অর্থনৈতিক) পালনের কোন উপায়ই তার সম্মুখে খোলা নেই, এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে রোযা ও অন্যান্য সংযম সাধনের (Acts of sublimation) মাধ্যমে নিজেকে দমনের চেষ্টা চালাতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি মনে করে যে তার দ্বারা বিবাহের আবশ্যক (ফরজ) দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা সম্ভবপর নয় এবং তার ব্যভিচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনাও নেই, তখন ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলাম আমাদের অন্য ব্যক্তির প্রতি অন্যায় (Injustice) এবং অন্য ব্যক্তির অধিকার হরণকে হারাম করেছে। কাজেই স্বামী বা স্ত্রীর একের অন্যের প্রতি ফরজ দায়িত্বের অবহেলা পুরোপুরি হারাম। বিবাহ কখন হারাম সে সম্পর্কে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, ফিক্হ আস-সুন্নাহ বই এর লেখক মরহুম শেখ সাইয়্যেদ সাবিক বলেন, “একজন পুরুষের জন্য বিবাহ হারাম তখন যখন তার স্ত্রীর অধিকার রহ্মার সামর্থ্য না থাকে। এ সামর্থ্যহীনতা দৈহিক বা অর্থনৈতিক যেটাই হোক না না কেন। কোন পুরুষ যদি দৈহিক মিলনে অহ্মম হয় বা স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যয় বহনের মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার না থাকে তবে তার জন্য বিবাহ বৈধ নয়।” এ সম্পর্কে অপর একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আল কুরতুবী (রহ.) বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি বিবাহের খরচ বহনের মতো সামর্থ্যবান না হয়, যদি তার মোহরানা পরিশোধের সামর্থ্য না থাকে বা স্ত্রীর অন্যান্য অর্থনৈতিক অধিকার (Financial right) আদায়ের সামর্থ্য না থাকে তবে তার বিবাহ বৈধ নয়, যতহ্মণ না সে তার অবস্থা ভাবী স্ত্রীকে জানায় অথবা সে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা লাভ করে। আর যদি সে দৈহিক দুর্বলতা বা ত্রুটির কারণে দৈহিক মিলনে অসমর্থ হয় তবে তাও ভাবী স্ত্রীকে পরিপূর্ণভাবে জানাতে হবে। এহ্মেতে লুকোচুরি বা গোপন করার মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রতারিত করা স্পষ্ট নিষিদ্ধ।একই নিয়ম মহিলাদের হ্মত্রেও প্রযোজ্য। কোন মহিলা যদি স্বামীর হক আদায়ে অসমর্থ হন অথবা তার এমন কোন ত্রুটি থাকে যার ফলে সে দৈহিক মিলনে অহ্মম হন তবে এসব গোপন করে বিবাহ করা স্পষ্টতঃ নিষিদ্ধ (হারাম)। সূত্রঃ Songlapblog

4116 views


বাধ্যতামূলক নয় । তবে তা অনেক গুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে ।

নিচের পোষ্টে বিস্তারিত আছে দেখুন।


ইসলামে বিবাহ কি বাধ্যতামূলক?


4116 views

একটি মধ্যমপন্থী ধর্ম হিসেবে ইসলামের মূলনীতি হলো- ইসলাম বিবাহকে উৎসাহিত করে। কারণ মানুষের প্রাকৃতিক চাহিদা পূরণের এবং মানব বংশের ধারা অব্যাহত রাখার এটিই একমাত্র বৈধ পন্থা। কৌমার্য বরণের মাধ্যমে স্বাভাবিক ((Natural)) চাহিদা দমন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। তাছাড় বিবাহ রাসূলুল্লাহ (স.) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত বোখারী শরীফের নিুোক্ত হাদিসটি তার প্রমাণ : 
“তিন ব্যক্তির একটি দল রাসূলুল্লাহ (স.) এর স্ত্রীগণের কাছে নবী (স.) এর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য আগমন করল। তাদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলে তারা নিজেদের ইবাদাতের পরিমাণকে যথেষ্ট মনে করলো না এবং তারা বলল- কীভাবে আমরা নবীর সমকতা অর্জন করতে পারি যাঁর পূর্বের ও পরের সব গুনাহ মা করে দেয়া হয়েছে। এ সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল- আমি আজীবন রাতভর নামাজ পড়তে থাকব। অন্যজন বলল- আমি সারা বছর রোজা রাখবো এবং কখনও রোজা ভাঙ্গবো না (অর্থাৎ বিরতি দেব না)। তৃতীয় ব্যক্তি বলল- আমি সর্বদা নারী থেকে দূরে থাকবো এবং কখনও বিবাহ করবো না। অতঃপর নবী (স.) তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, তোমরা কী সেই লোক যারা এরূপ কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর প্রতি তোমাদের চেয়ে বেশি অনুগত এবং তাঁকে তোমাদের চেয়ে বেশী ভয় করি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি রোজা রাখি আবার বিরতিও দেই, রাতে নিদ্রা যাই এবং মহিলাদের বিবাহও করি। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন করে (অনুসরণ করে না), তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” 
ইসলাম একদিকে যেমন কৌমার্য (Celibacy) এর দ্বারা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে দমন করার পপাতী নয় ঠিক তেমনি এটি লাগামহীন অবিবেচক যৌন জীবনকেও অনুমোদন করে না। রাসূল (স.) বলেন, “হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করতে সমর্থ তারা যেন বিবাহ করে, কারণ এটি চোখকে আকার্ষপূর্ণ দৃষ্টি থেকে দূরে রাখে এবং পবিত্রতা রক্ষা করে। আর যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না তারা যেন রোজা রাখে। যাতে এটি ঢাল হিসেবে তাকে রা করতে পারে। 
এতদসত্ত্বেও বিবাহ সম্পর্কিত ইসলামের নির্দেশনা ব্যক্তি বিশেষের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কখনও এটি বাধ্যতামূলক, কখনও বিশেষ পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব, কখনও এটি শুধুমাত্র হালাল বা বৈধ আবার কোন কোন অবস্থার পরিপ্রেেিত এটি হারামও হতে পারে। 
ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব টরোন্টো, কানাডা এর একজন সিনিয়র লেকচারার শেখ আহমদ কুট্টি বলেছেন, যদিও ইসলামিক ফিকাহ শাস্ত্র মতে বিবাহ একটি বিশেষ পছন্দনীয় (Highly recommended) কাজ, তদুপরি অবস্থার পরিপ্রেেিত একে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১. ফরজ বা বাধ্যতামূলক (Obligatory) 
২. মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (Recommended) 
৩. হালাল বা বৈধ (Permitted) 
৪. হারাম বা নিষিদ্ধ (Forbidden) 
বিবাহ তখনই ফরজ বা বাধ্যতামূলক হয় যখন একজন ব্যক্তি (নারী ও পুরুষ) তীব্র যৌন চাহিদা অনুভব করে এবং তার দ্বারা ব্যভিচার ঘটে যাবার আশংকা থাকে। যেহেতু ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা ফরজ এবং বিবাহই একমাত্র এই চাহিদা পূরণের বৈধ পন্থা, সেহেতু ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ ফরজ। এেক্ষত্রে ফিকাহ শাস্ত্রের মূলনীতিটি হলো, “যদি একটি ফরজ কাজ অন্য একটি কাজ ব্যতীত আদায় সম্ভব না হয় তবে ঐ সহায়ক কাজটিও মূল ফরজের মতোই ফরজ হিসেবে গণ্য হবে।” 
যদি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা খুব তীব্র না হয় এবং তার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হবার সম্ভাবনা না থাকে কিন্তু বিবাহ করার সবরকম সামর্থ্য ও সুযোগ তার থাকে এমতাবস্থায় বিবাহ তার জন্য মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ। কারণ এটির দ্বারা সে রাসূল (স.) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে অনুসরণ করছে। 
একজন ব্যক্তির বিবাহ করার মতো ন্যূনতম অর্থনৈতিক সামর্থ্য যদি না থাকে (মোহরানা আদায় ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর জন্য ফরজ) এবং এভাবে সে যদি বিবাহের দায়িত্বসমূহ পালনে অসমর্থ হয় কিন্তু বিবাহের তীব্র প্রয়োজন অনুভব করে, সেেেত্র বিবাহ করা তার জন্য হালাল (Permitted) এই শর্তে যে- 
– সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সৎপন্থায় উপার্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং 
– ভাবী স্ত্রীকে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দান করবে। সত্য গোপন করা এেেত্র প্রতারণার সামিল। 
আল্লাহ এরূপ অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হলো ঐ ব্যক্তিকে আত্মনির্ভরশীল হবার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য করা। 
কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে ব্যক্তিটি সৎভাবে উপার্জনের কোন পথই পাচ্ছে না এবং বৈবাহিক দায়িত্ব (অর্থনৈতিক) পালনের কোন উপায়ই তার সম্মুখে খোলা নেই, এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে রোযা ও অন্যান্য সংযম সাধনের (Acts of sublimation) মাধ্যমে নিজেকে দমনের চেষ্টা চালাতে হবে। 
যদি কোন ব্যক্তি মনে করে যে তার দ্বারা বিবাহের আবশ্যক (ফরজ) দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা সম্ভবপর নয় এবং তার ব্যভিচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনাও নেই, তখন ঐ ব্যক্তির জন্য বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলাম আমাদের অন্য ব্যক্তির প্রতি অন্যায় (Injustice) এবং অন্য ব্যক্তির অধিকার হরণকে হারাম করেছে। কাজেই স্বামী বা স্ত্রীর একের অন্যের প্রতি ফরজ দায়িত্বের অবহেলা পুরোপুরি হারাম। 
বিবাহ কখন হরাম সে সম্পর্কে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, ফিক্হ আস-সুন্নাহ বই এর লেখক মরহুম শেখ সাইয়্যেদ সাবিক বলেন, “একজন পুরুষের জন্য বিবাহ হারাম তখন যখন তার স্ত্রীর অধিকার রার সামর্থ্য না থাকে। এ সামর্থ্যহীনতা দৈহিক বা অর্থনৈতিক যেটাই হোক না না কেন। কোন পুরুষ যদি দৈহিক মিলনে অম হয় বা স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যয় বহনের মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার না থাকে তবে তার জন্য বিবাহ বৈধ নয়।” 
এ সম্পর্কে অপর একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আল কুরতুবী (রহ.) বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি বিবাহের খরচ বহনের মতো সামর্থ্যবান না হয়, যদি তার মোহরানা পরিশোধের সামর্থ্য না থাকে বা স্ত্রীর অন্যান্য অর্থনৈতিক অধিকার (Financial right) আদায়ের সামর্থ্য না থাকে তবে তার বিবাহ বৈধ নয়, যতণ না সে তার অবস্থা ভাবী স্ত্রীকে জানায় অথবা সে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা লাভ করে। আর যদি সে দৈহিক দুর্বলতা বা ত্র“টির কারণে দৈহিক মিলনে অসমর্থ হয় তবে তাও ভাবী স্ত্রীকে পরিপূর্ণভাবে জানাতে হবে। এেেত্র লুকোচুরি বা গোপন করার মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রতারিত করা স্পষ্ট নিষিদ্ধ। 
একই নিয়ম মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোন মহিলা যদি স্বামীর হক আদায়ে অসমর্থ হন অথবা তার এমন কোন ত্র“টি থাকে যার ফলে সে দৈহিক মিলনে অম হন তবে এসব গোপন করে বিবাহ করা স্পষ্টতঃ নিষিদ্ধ (হারাম)। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- স্থায়ী মানসিক রোগ (Insanity), কুষ্ঠরোগ (Leprosy), গোদ রোগ (Elephantiasis) অথবা স্ত্রীর অঙ্গের কোন রোগ (Genital or vaginal disease)। 
এমন এক সমস্যা থাকলে তা বিবাহের পূর্বেই পুরুষটিকে জানিয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটি অনেকট ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তির ন্যায়। বিক্রেতা বাধ্য থাকবে পণ্যের ত্র“টি সম্পর্কে ক্রেতাকে অবহিত করতে। যদি কোন প নিজের ত্র“টি অপরপরে নিকট গোপন করে তবে এ প (যার নিকট গোপন করা হয়েছে) বিবাহ বাতিলের অধিকার রাখে। যদি স্বামী বিবাহের পর এমন কোন মারাত্মক ত্র“টি স্ত্রীর মধ্যে পান যা তার নিকট গোপন করা হয়েছিল তবে তিনি বিবাহ বাতিল করতে পারবেন এবং মোহরানা ফেরত নিতে পারবেন (যদি তিনি ইচ্ছা করেন)। অনুরূপ কোন স্ত্রী যদি বিবাহের পর স্বামীর এমন কোন ত্র“টি পান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তাকে বিবাহের পূর্বে অবহিত করা হয় নি (যা দ্বারা তার ফরজ অধিকার লঙ্ঘিত হয়), তবে তিনি বিবাহ বাতিলের সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন।” 
এেেত্র স্ত্রী তার মোহরানা কতটা পাবেন সে ব্যাপারে ইমাম মালেক (রহ.) দু’টি মত ব্যক্ত করেছেন। যদি দৈহিক মিলন ঘটার পরে (After consummating marriage) স্ত্রী বিবাহ বাতিল করেন তবে তিনি পূর্ণ মোহরানা পাবেন। অন্যথায় (অর্থাৎ বিবাহের পর পরই দৈহিক মিলন ঘটার পূর্বেই বিচ্ছেদ ঘটলে) তিনি অর্ধেক মোহরানা পাবেন। 
আমরা জেনেছি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য বিয়ে বাধ্যতামূলক কি না। এখন আমরা যে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই তা হলো নারীদের জন্য বিবাহ বাধ্যতামূলক কি না। এ ব্যাপারে ২৬ বছর বয়স্ক একজন মহিলা চিঠি লিখেছিলেন ইসলাম অনলাইনে একথা জানতে চেয়ে যে, তার মা-বাবা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু আশে-পাশে অনেক অসুখী পরিবার দেখে সে ভীত। একদিকে পিতা-মাতার অনুরোধ, অন্যদিকে বিয়ে ভীতি-এমতাবস্থায় তার কী করণীয়। এর উত্তরে বলা হয়েছেÑ 
যদিও সাধারণত বিয়েকে ইসলাম উৎসাহিত করে তথাপি অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতার উপর ভিত্তি করে এটি কোন কোন ব্যক্তির জন্য ফরজ হয়, কারও জন্য মুস্তাহাব, কারও জন্য শুধুই হালাল এমনকি কারও কারও জন্য হারামও হয়ে থাকে (বিস্তারিত পূর্ব আলোচনায়)। এই নীতি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। কাজেই মেয়েটির উচিত হবে নিজ অবস্থা পর্যালোচনা করে সেরূপে সিদ্ধান্ত নেয়া। 
বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শেখ আহমদ কুট্টি প্রশ্নকারী মেয়েটির উদ্দেশ্যে বলেন : 
“যেহেতু ইসলাম পিতা-মাতাকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখার নির্দেশ দেয় সেহেতু তাদের সাথে যে কোন ব্যাপারে মত বিনিময়ের সময় তাদের প্রতি বিনয়ী, নম্র ও সহানুভূতিশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য। সব পিতা-মাতাই সন্তানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সেটি বাবা-মা এর জন্য কতটা কষ্টদায়ক হবে তা চিন্তা করে সন্তানদের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তবে ইসলাম বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি দান করা বা না করার পুরোপুরি অধিকার নারীকে দিয়েছে। এ ব্যাপারে পিতা-মাতার মতামতের চেয়ে পাত্রীর মতামতকে ইসলাম প্রাধান্য দেয়।” 
এর স্বপে কিছু হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে : 
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোন বিধবা মহিলাকে তার সম্মতি ব্যতীত বিবাহ দেয়া যাবে না। কোন কুমারী মহিলাকেও তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ দেয়া চলবে না। (বুখারী) 
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “হযরত খানসা বিনতে খিযাম (বা খিদাম) (রা.) এর একবার বিয়ে হয়েছিল। এরপর তিনি স্বামীহীন হন। এমতাবস্থায় তার পিতা তাকে অন্য এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত খানসা এ বিয়ে পছন্দ করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (স.) এর কাছে এসে তাঁকে একথা জানালেন। ঘটনাটি শোনার পর নবী করীম (স.) এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন।” (বুখারী) 
শেখ আহমদ কুট্টি আরও বলেন, “পিতা-মাতার অধিকার আছে সন্তানকে উপদেশ দেয়ার। তাঁরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সন্তানদের জন্য মঙ্গলজনক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এজন্য সন্তানদের তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু ব্যাপারটি যখন বিয়ে সম্পর্কিত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ইসলাম সংশ্লিষ্ট নারীটিকে দিয়েছে, তার বাবা-মাকে নয়, সেেেত্র সতর্কতার সাথে চিন্তা-ভাবনা করে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্পূর্ণ অধিকার নারীর আছে। কারণ সারা জীবন ঐ ব্যক্তির সাথে তাকেই থাকতে হবে, বাবা-মাকে নয়। তাছাড়া আশেপাশের অসফল বিবাহ বা অসুখী দম্পতি (Disfunctional marriage) দেখে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল যে, সব বিবাহই অসফল বা সব দম্পতিই অসুখী। বিয়ে সফল হবে কি বিফল হবে তা নির্ভর করে স্বামী এবং স্ত্রী জীবনের ব্যাপারে কোন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করে তার উপর। মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর এবং আমাদের আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা উচিত। সূরা আল ইসরা এর ৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ”এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সরল …..”। (১৭:৯) 
কাজেই স্বামী এবং স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্দেশ মোতাবেক পরিচালিত হয়, ইসলাম প্রদত্ত পরস্পরের হকসমূহ আদায় করে, অন্যকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে এবং নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে তবে আশা করা যায় বিবাহ সফল হবে এবং দম্পতি সুখী হবে।”

সুত্রঃ ইন্টারনেট

4116 views

না। তবে বিবাহ করার হুকুম, অবস্থার চাহিদানুযায়ি ভিবিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন: ১) যদি জৈবিক চাহিদা বেশি থাকে, যার ধরুন জেনায় লিপ্ত হবার সম্ভাবনা থাকে, আর মোহর, আহার এবং পারিবারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনে সক্ষম হয়। তাহলে সর্ব সম্মতিক্রমে বিবাহ করা ফরয। ২) আর জৈবিক চাহিদা বেশি হলে, বিবাহ করা ওয়াজিব। ৩) আর যদি মোহর, আহার ও পারিবারিক ব্যয়ভার বহনে সক্ষ্ম না হয় অথবা স্ত্রী সংগমে শক্তি না রাখে। তাহলে তার পক্ষে বিবাহ করা হারাম। ৪) আর স্বাভাবিক অবস্থায় হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সুন্নত আর শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী মুবাহ। সুত্র: দরসে মিশকাত

4116 views

“তোমাদের মধ্যে যারা জুড়িহীন, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা উপযুক্ত তাদেরও।” (সূরা নূর-৩২) 

পুরুষ ও নারী যারই বিয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে, সে-ই অবশ্যম্ভাবীরূপে বিয়ে করবে। কেননা, বিয়েই হচ্ছে যৌন পবিত্রতা সংরক্ষণ ও যৌন ক্ষুধা নিবারণের সবচেয়ে বড় উপায় ও মাধ্যম। তাই আল্লাহ যে-সব নারী-পুরুষের বিয়ে করা প্রয়োজন, তাদের সবাইকে বিয়ে করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ দায়িত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন গোটা জাতির ওপর, যাতে তারা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। নারী কিংবা পুরুষ বিয়ের যোগ্য হবে, তাকে বিয়ে করাতে হবে। আর বিয়ে করানোর এ দায়িত্ব অর্পিত হবে যুগপৎ অভিভাবক ও রাষ্ট্রের ওপর। এ দুয়ের কেউই এ দায়িত্ব এড়াতে পারবে না। কোনো কোনো আলেমদের মতে বিয়ে করা ওয়াজিব আবার কারো কারো মতে বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তবে যেহেতু বিয়ে করার ব্যাপারে কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে সেইহেতু সুস্থ্য, সবল, সক্ষম নারী-পুরুষের জন্য বিয়ে করা বাধ্যতামুলক; ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ে না করলে অবশ্যই গুনাহ হবে।

4116 views

Related Questions