2 Answers

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, বলুন, আল্লাহ বলে আহ্বান করো কিংবা রহমান বলে। যে নামেই আহ্বান করো না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই। সূরা ইসরা ১১০। আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামের পরিসংখ্যানের ব্যাপারে ধর্মতাত্ত্বিকদের মাঝে বেশ মতবৈচিত্র রয়েছে। তবে যেসব গুণ বা বৈশিষ্ট্যগত নাম আল্লাহ তাআলার প্রশংসার বার্তা বহন করে সেসব নামে আল্লাহকে ডাকা যাবে। তেমনিভাবে যেসব নাম আল্লাহ তাআলার সত্তা বা তাঁর বিশেষ গুণগত বৈশিষ্টের বার্তা বহন করে সেসব নামেও তাঁকে ডাকা যাবে। https://ar.beta.islamway.net

তবে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, যদি আল্লাহ সম্বন্ধে কোনো সংবাদ বা বার্তা প্রদান করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে আল্লাহ তাআলার সত্তা বা গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন নামই ব্যবহার করা যাবে। পক্ষান্তরে যদি দুআ বা জিকির করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে কুরআন হাদীসে বর্ণিত সুন্দরতম নামগুলোই ব্যবহার করতে হবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম পূর্বতন মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। http://fatwa.islamweb.net

3105 views

৯৯ নাম থাকলেই যে আল্লাহতায়ালার এর বাইরে আর কোনো নাম থাকবে না, এটা কীভাবে বুঝা যায়? যে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে. সেটি হচ্ছে, ‘আল্লাহতায়ালার এমন কিছু ৯৯ নাম আছে, যে এগুলোকে সংরক্ষণ করল, এগুলোর দাবি পূরণ করল, উপলব্ধি করল, নিজের জীবনে এগুলোকে বাস্তবায়ন করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ মানে এই ৯৯টি নামের ব্যাপারে সহিহ বুখারি হাদিসের মধ্যে এ কথাটি এসেছে।

এগুলো ছাড়া আল্লাহ সুবানাহুতায়ালার নাম অনেক বেশি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামের সংখ্যা, দুনিয়ার কোনো মাখলুকাতকে আল্লাহতায়ালা জানাননি। কেয়ামতের দিন রাসুলকে (সা.) এমন কিছু নাম শিক্ষা দেবেন যেগুলো আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা এই পৃথিবীতে কাউকে শিক্ষা দেননি। সেগুলো দিয়ে রাসুল (সা.) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পবিত্রতা, তাঁর স্তুতি ও প্রশংসা করবেন, তারপর আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা বলবেন, ‘হে রাসুল (সা.) আপনি আপনার মাথা উঠান, এখন আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, এখন আপনি চান, প্রশ্ন করুন, আপনাকে এখন দেওয়া হবে।’ তারপর রাসুল (সা.) মাথা ওঠাবেন, মাথা উঠিয়ে রাসুল (সা.) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করবেন, হাশরের ময়দানে উপস্থিত মাখলুকাতকে যাতে করে বিচার ফয়সালার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে কঠিন, চরম অবস্থার মধ্যে তাঁরা উপনীত হয়েছে, সেই কঠিন অবস্থা থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁদের মুক্তি দেন, পরিত্রাণ দেন। এ জন্য রাসূল (সা.) সুপারিশ করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। তখন আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা সর্বপ্রথম এই সুপারিশ গ্রহণ করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তখন বিচার করার জন্য মানুষের সামনে আগমন করবেন। এটাই হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর সেই মর্যাদার বিষয়। রাসুলকে (সা.) আল্লাহ সেখানে সেই মর্যাদা দেবেন, তিনি সুপারিশ করবেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামের সংখ্যা ৯৯, এর থেকে বেশি নয়, এমনটি রাসুল (সা.)-এর কোনো হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামের সংখ্যা অনেক বেশি। এটি রাসুল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। হাদিসে রাসুল (সা.) উল্লেখ করেছেন, ‘যার মাধ্যমে আপনি আপনার নাম গ্রহণ করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা এলমুল গায়েবের মধ্যে আপনি নিজে সংরক্ষণ করে দিয়েছেন জানাননি।’

সুতরাং এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহতায়ালার অনেক নাম আছে যেগুলো আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা বান্দাদের জানাননি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হয়তো মেহেরবানি করে কাউকে জানাবেন অথবা সেগুলো আল্লাহতায়ালা নিজের জন্য খাস করে রেখে দিয়েছেন।

সুত্র: NTV

3105 views

Related Questions