2 Answers

'সুখ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর 'চিত্রা' (১৮৯৬) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে ।

3241 views

সুখ কবিতাটি কবি কামিনী রায়ের "আলো ও ছায়া" কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিতঃ

এক সময়ে কবির ‘সুখ’ কবিতাটি লোকের মুখে মুখে ফিরত। কবিতার কয়েক পংক্তি –

“নাই কি রে সুখ? নাই কি রে সুখ?
এ ধরা কি শুধু বিষাদময়?
যতনে জ্বলিয়া কাঁদিয়া মরিতে
কেবলই কি নর জনম লয়? 
*  *  *  *  * 
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবনে মন সকলই দাও
তার মত সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও। 
*  *  *  *  *
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”

     ‘আলো ও ছায়া’ কাব্যের অন্তর্গত এই কবিতাটি কবির মাত্র ষোল বছর বয়সে রচিত। ‘বাঙ্গালার মহিলা কবি’ গ্রন্থের রচয়িতা যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত কামিনী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কবি তাকে ‘সুখ’ কবিতাটি লিখবার ইতিহাসটি জানিয়েছেন – “১৮৮০ সালের জুন মাসের ৩০শে তারিখ মীরজাফার্স লেনের বাড়ীতে কবিতাটি রচিত। এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিবার ছয় মাস পূর্ব্বের লেখা। শ্রীযুক্ত – সর্ব্বদাই জানাইতেন যে তাঁহার জীবন দুঃখময় এবং ভবিষ্যতের ভাবনায় অন্ধকার। তাঁহাকে সান্ত্বনা দিবার ছলেই এবং তিনি প্রবাস যাইবার পূর্ব্বে আমার নিকট একখানি কবিতা চাহিয়াছিলেন, সে জন্যও বটে, আমি এই কবিতা রচনা করি। ...... সকলের ভাল লাগিয়াছে বলিয়া এটা রাখিয়া দিয়াছিলাম। নতুবা বয়সের অনুচিত পাকামি হইয়াছে বলিয়া কবে ছিঁড়িয়া ফেলিতাম। সাড়ে পনের বৎসর ছিল তখন আমার বয়স। তৎপূর্ব্বে কবে আমি সংসারে প্রবেশ করিলাম আমার বিশেষ দুঃখ কি নৈরাশ্য কেন? এ সকল প্রশ্ন অনেকে করিয়াছেন, উত্তর দিবার ছিল না। বন্ধু অবলা (বর্তমানে লেডি বসু – বিশ্ববিশ্রুত বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুর পত্নী) সুশীলকুমার গুপ্ত নাম দিয়া এই কবিতা আমার অজ্ঞাতসারে ঢাকায় ‘বান্ধবে’ পাঠাইয়াছিলেন, কিন্তু সম্পাদক উহা প্রকাশ করেন নাই। আমি নিজে বিভূতি গুপ্ত নাম দিয়া উহা ‘আর্য্যদর্শনে’ পাঠাইয়াছিলাম ছাপা হয় নাই। সহপাঠিনী কুমুদিনী, তখন খাস্তগীর পরে মিসেস দাস, বেথুন কলেজের Lady Principal  উহা ‘বঙ্গদর্শনে’ দিবার জন্য কোন আত্মীয়কে দিয়া বঙ্কিমবাবুর নিকট পাঠান। বঙ্কিমবাবু বলেন তিনি ‘বঙ্গদর্শনের’ ভার ছাড়িয়া দিয়াছেন। আজকাল দেখি কতকগুলি স্কুলপাঠ্য গ্রন্থেও এই “সুখ” খানিকটা স্থল জুড়িয়া বসিয়া আছে।”

3241 views

Related Questions