অভিজ্ঞতার আলোকে সাহায্য করেন প্লিজ?
2 Answers
হে ভাইয়া এই রকম করা যায় তবে এইটা গুনা।হে এইটা করতে হলে আপনি মাজার এ গিয়ে তান্ত্রিক খুজে তাদের মাদ্যমে করতে পারেন।আর তাবিজ মে টাকে ফিরানো যাবে ইনসা আল্লাহ
যাদুর বিধানঃ যাদু একটি হারাম কাজ। যা সুষ্পষ্ট কুফুরী। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, “তারা উভয়ই (হারূত মারূত ফেরেস্তা) যখনই কাউকে যাদু শিক্ষা দিতেন তখনই বলতেন, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই যাদু শিখে তুমি কাফের হয়ো না। অত:পর তারা তাদের কাছ থেকে এমন যাদু শিখত, যা দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতো।” (সূরা বাক্বারা- ১০২) জ্যোতিষী ও গণকদের নিকট যাওয়ার বিধানঃ মান্যবর শাইখ ইবনু বায (রহঃ) বলেন, ইলমে গায়েবের দাবীদার কোন গণক বা জ্যোতিষের কাছে রোগ বা তার ধরণ সম্পর্কে জানার জন্য গমণ করা কোন রুগীর জন্য জায়েয নয়। এমনিভাবে তারা কিছু বললে তা বিশ্বাস করাও জায়েয নয়। কেননা তারা ধারণা করে গায়েবের কথা বলে অথবা জ্বিনের সাহায্যে এরূপ করে থাকে। আর এর মাধ্যমে এরা সুষ্পষ্ট কুফুরীতে লিপ্ত হয়। কেননা নবী (ছাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করবে, তার ৪০ দিনের ছালাত কবূল হবে না।” (ছহীহ মুসলিম) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন গণক বা জ্যোতিষের নিকট গমণ করে তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে সে মুহাম্মাদ (ছাঃ)এর উপর নাযিলকৃত বিধানের সাথে কুফুরী করবে।” (আবূ দাঊদ) ঈমরান বিন হুছাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করে বা যার জন্য পাখি উড়ানো হয়, যে জ্যোতির্বিদ্যার কাজ করে এবং যার জন্য করা হয়, যে যাদু করে এবং যার জন্য করা হয় এরা সবাই আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষীর নিকট গিয়ে তাকে সত্যায়ন করবে সে মুহাম্মাদের উপর নাযিলকৃত বিধানের সাথে কুফুরী করবে।” (বাযযার উত্তম সনদে) এ হাদীছগুলো প্রমাণ করছে যে যাদুকর এবং জ্যোতিষ কাফের। কেননা তারা ইলমে গায়বের দাবীদার। আর তা কুফুরী। এমনিভাবে যারা হাতের রেখা দেখে বা টিয়া পাখির মাধ্যমে ভাগ্য গণনা করে, চোর ধরার জন্য বা রোগ নির্ণয় করার জন্য আয়না পড়ে বা চাউল-রুটি পড়ে বা বাটি ঘুরায় বা হাত চালায় তারাও এ হাদীছের অন্তর্ভূক্ত হবে। কিভাবে যাদু এবং বদনযর থেকে বেঁচে থাকবে? ১) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলঃ সকল প্রকার বালা-মুছিবত থেকে বেঁচে থাকা এবং যাবতীয় উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল আল্লাহর প্রতি ভরসা। আল্লাহ্ বলেন, (وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلىَ اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ) “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হবে।” (সূরা ত্বালাক- ৩) ২) আল্লাহর নির্দেশের বাস্তবায়ন ও নিষেধ থেকে দূরে থাকাঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধের হেফাযত করবে, সে অনুযায়ী চলবে আল্লাহ্ তাকে দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার, সম্পদ সর্বদিক থেকে হেফাযত করবেন। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন,“তুমি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চল আল্লাহ্ তোমাকে হেফাযত করবেন।” (তিরমিযী) ৩) অধিকহারে আল্লাহর যিকির করাঃ যেমন- কুরআন তেলাওয়াত, সুবহানাল্লাহ্, আল হামদুলিল্লাহ্, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি বেশী বেশী বলা, অধিকহারে ইস্তেগফার করা, নবী (ছাঃ)এর উপর বেশী করে দরূদ পাঠ… ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে বান্দা নিজেকে সুরক্ষিত করতে পারে। নির্দিষ্টভাবে যে সকল দু’আ কালামের মাধ্যমে যাদু, বান, টোনা, বদ নযর, জ্বিন, শয়তান ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিম্নরূপঃ ক) নিদ্রা যাওয়ার আগে আয়াতাল কুরসী (সূরা বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত) পাঠ করা। যে ব্যক্তি রাতে তা পাঠ করে, তার জন্য সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাযতকারী ফেরেশতা নিয়োগ থাকে, ফলে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারে না। (ছহীহ বুখারী) খ) সূরা বাক্বারা পাঠ করা। যে গৃহে এই সূরা পাঠ করা হয় সেখান থেকে শয়তান পলায়ন করে। (মুসলিম) গ) সূরা বাক্বারার শেষের দু’আয়াত পাঠ করা। যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষের দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটিই যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ- সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। (ছহীহ বুখারী) ঘ) সকাল-সন্ধার নির্ধারিত দু’আ সমূহ পাঠ করা। গৃহে প্রবেশ, গৃহ থেকে বের হওয়া, সোওয়ারীতে আরোহণ করা প্রভৃতি সময়ে নির্দিষ্ট দু’আ পাঠ করা। ঙ) শিশুদেরকে ঝাড়-ফুঁক করা। যেমন রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ)কে ঝাড়-ফুঁক করতেন। তিনি বলতেন, أُعِيْذُكُماَ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ “আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আমি তোমাদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি সকল প্রকার শয়তান থেকে, বিষধর প্রাণীর অনিষ্ট থেকে এবং সকল প্রকার বদ নযর থেকে।” (বুখারী) চ) সূর্যাস্তের সময় শিশুদেরকে বাড়ীর বাইরে যেতে বাধা দেয়া। নবী (ছাঃ) বলেন, “যখন সন্ধা হয় তখন তোমাদের শিশুদেরকে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখ। কেননা এই সময়ে শয়তানের দল বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। যখন রাতের একটি প্রহর অতিবাহিত হবে তখন (শিশুদেরকে) ছেড়ে দিতে বাধা নেই।” (বুখারী ও মুসলিম) ছ) বাসস্থানকে ক্রুশ, মূর্তি, প্রাণীর ছবি, কুকুর থেকে পবিত্র করা। কেননা এসব বস্তু যে গৃহে থাকে সেখানে ফেরেস্তা প্রবেশ করে না। এমনিভাবে গান-বাদ্যের সরঞ্জাম থেকেও গৃহকে পবিত্র রাখা।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy