1 Answers

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভুতপূর্ব সাফল্য ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে আর সেই সাথে বাড়ছে মানুষের দীর্ঘায়ু হওয়ার বাসনা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মিলিত প্রচেষ্টার ফলে সম্প্রতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে 'কৃত্রিম হৃদপিন্ড'। হৃদপিন্ডে বিভিন্ন সমস্যা আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর কয়েক লক্ষ রোগী মৃত্যুবরণ করে। কয়েক দশক ধরে অনেক ভাবেই চেষ্টা করা হচ্ছে এই সব কঠিন রোগের সহজ চিকিৎসা বের করার জন্য। সাফল্য আসলেও তা অত্যন্ত ব্যয় বহুল ও অনিশ্চিত। তবে এই সমস্যা  সমাধানের সব থেকে ভালো সমাধান হল কৃত্রিম হৃদপিণ্ড বসানো। সম্প্রতি কারম্যাট নামক ফ্রান্সের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই কৃত্রিম হৃদপিন্ড উদ্ভাবন করেছে। সুদীর্ঘ পনের বছর কঠোর শ্রম ও সাধনার পর এই জীবন রক্ষাকারী উপাদান আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই সফলতা এটাই প্রথম নয়। পূর্বেও বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই ধরনের কৃত্রিম হৃদপিন্ড উদ্ভাবন করেছিলেন। তবে তাদের উদ্ভাবিত কৃত্রিম হৃদপিন্ডের একটি সমস্যা বড় ছিল, যা তাদের সকল গৌরবকে ম্লান করে দেয়। কৃত্রিমভাবে তৈরি হৃদপিন্ডটির দুটি অংশ, যা একটি মেমব্রেন দ্বারা আলাদা করা থাকে। একটি অংশ সরাসরি রক্তের এবং অপর অংশটি পলিইউরোথিনের সংস্পর্শে থাকে। কিন্তু রক্তের সংস্পর্শে থাকা অংশটিতে কিছুক্ষনের রক্ত জমাট বেঁধে যায়। পরীক্ষাগারে বিভিন্ন অজৈব ও জৈব উপাদান ব্যবহার করেও এই রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ করা যায় নি। ফলে তারা এই গবেষনায় পূর্নাঙ্গ সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। কিন্তু কারম্যাটের গবেষক দল এর স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করে। তারা এক ধরনের বিশেষ জৈব টিস্যু ব্যবহার করে যা এই রক্ত জমাট বাঁধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে। এই বিশেষ ধরনের জৈব টিস্যুটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গরুর টিস্যু থেকে সংগ্রহ করা হয়। গবেষক দল নিশ্চিত করেছে এই কোষ ব্যবহারের ফলে শুধু মাত্র এই সমস্যারই সমাধান হয়নি বরং কৃত্রিম হৃদপিন্ডের ব্যবহারও নিরাপদ হয়েছে। আরো জানা গেছে, এই কৃত্রিম হৃদপিন্ডটিতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী যুক্ত আছে যা এটির কার্যকর করে রাখে। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ মহলে এই কৃত্রিম হৃদপিন্ড যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। তাদের মতামত, এই আবিষ্কারের ফলে অনেক মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করার পাশাপাশি যারা হৃদপিন্ডে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে তারাও নতুন জীবন পাবে। 

=================ইন্টারনেট

2917 views Answered

Related Questions

Next steps