2 Answers

লজ্জার হাতে থেকে নিষকৃতি পাওয়ার জন্যে আপনি নিম্নোক্ত ৫টি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

১. শনাক্তকরণের মাধ্যমে লজ্জাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন। কোন্ মানুষ, স্থান, বিষয় বা কার্যক্রমকে আপনি এড়িয়ে চলেন, তা শনাক্ত করুন। এদের এড়িয়ে চলার পেছনে সুপ্ত লজ্জার কারণগুলো বের করুন।

২. লজ্জার প্রকৃতি হচ্ছে লুকানো বা পালিয়ে বেড়ানো- তাই একে মোকাবিলা করতে হবে উল্টোভাবে। অর্থাৎ যখন আপনি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলতে যাচ্ছেন, তখন সরাসরি

চোখের দিকে তাকান এবং মনে মনে ভাবুন আমার এতে লজ্জা পাবার কিছু নেই।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে যারা আপনাকে লজ্জাজনিত বিড়ম্বনায় ফেলতে চায় বলে আপনি মনে করছেন তাদের এড়িয়ে চলুন। তাদের সাথে সম্পর্কের ধরন পাল্টে ফেলুন।

৪. কোয়ান্টাম মেথড অনুসারে লজ্জা বিদূরণের জন্যে আপনি চমৎকার পন্থা অনুসরণ করতে পারেন। শিথিলায়নের সহজ প্রক্রিয়ায় আলফা স্টেশনে পৌছে আপনার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনাগুলো এক এক করে হুবহু স্মরণ করুন। লজ্জাজনক ঘটনার পুরো দৃশ্য প্রতিটি খুঁটিনাটিসহ নিজের সামনে নিয়ে আসুন। ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিটি রঙ, গন্ধ, স্বাদ ও তাপমাত্রাকে হুবহু অনুভব করার চেষ্টা করুন। পুরো দৃশ্যকে যতদূর সম্ভব হুবহু পুনরাবৃত্তি করুন। শুধু লজ্জাজনক পরিণতির অংশটুকু বাদ দিন। যে ঘটনা থেকে লজ্জার উদ্ভব হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি করার পর একটি নতুন ইতিবাচক দৃশ্য সংযোজন করে দৃশ্যের পরিসমাপ্তি ঘটান। আপনি দেখবেন লজ্জা দূরীভূত হয়ে গেছে।

বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ডা. গারশেন কাউফম্যান নিরিবিলি বসে ভাবনার মাধ্যমে লজ্জাকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় একবার ক্লাসে বক্তৃতা করতে গিয়ে স্টেজে পড়ে যান। এতে ছাত্রদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। তিনি লজ্জা অনুভব করেন এবং এরপর থেকে তাঁর মনে বক্তৃতাভীতি বাসা বাঁধে। পড়াশুনা শেষ করার পর তিনি এই লজ্জাকে দূর করার জন্যে বেশ কিছুদিন নিরিবিলি বসে পূর্বের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে তা শেষ করতেন ইতিবাচক দৃশ্যের অবতারণা করে। এভাবে তিনি লজ্জাজনক স্মৃতিকে সাফল্যের স্মৃতিতে রূপান্তরিত করেন। বক্তৃতা- যা ছিল এক সময়ে ডা. কাউফম্যানের জন্যে দুঃস্বপ্ন- এক আনন্দের বিষয়ে রূপান্তরিত হয়।

৫. লজ্জার সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হচ্ছে আত্মসম্মানবোধ ও আত্মবিশ্বাস। নিজেকে সম্মান করতে শুরু করুন। নিজেকে অনন্য সৃষ্টি হিসেবে ভাবুন। কোন মানুষই দোষক্রুটি মুক্ত নয়। আপনার মাঝেও ত্রুটি থাকতে পারে। সে ত্রুটিকে সহজে মেনে নিন। আর যে গুণগুলো রয়েছে তাকে বিকশিত করুন। আপনার বিকশিত গুণকেই মানুষ তখন সম্মান করবে। আপনারও আত্মসম্মানবোধ বেড়ে যাবে।

2855 views

এমন অনেকেই আছেন যারা বাহিরে কোথাও কথা বলতে বেশ লজ্জা করে থাকেন। নিজেকে কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারেন না এরা। অফিসের কোনো আলোচনা সভায় বা বন্ধুদের আড্ডার আসরেও এরা ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এরা অনেকটা অন্তর্মুখী ধরনের হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা কিছু জানেন না তা নয় কিন্তু নিজেদের গুণগুলোকে প্রকাশ করতে এরা অনেক বেশি লজ্জা পেয়ে থাকেন। নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। আপনি যদি এমন ধরনের একজন হয়ে থাকেন তাহলে আজই নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। কেননা এই প্রতিযোগিতার যুগে আপনি এভাবেই নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেয়ে থাকলে কোনোভাবেই নিজের অবস্থানটিকে দৃঢ় করতে পারবেন না। সফলতা আপনার জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তাই কিছুটা হলেও নিজেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।


১. কোনো কথা মুখে আনা মানে বলে ফেলা না, কথাটিকে বলে ফেলুন :


ধরুন আপনি একটি আলোচনা সভায় বসে আছেন। সেখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে যা আপনার অনেক পছন্দের একটি বিষয় এবং এটি সম্পর্কে আপনি যথেষ্ট জানেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন আপনি চাইছেন আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে, দুই তিনটি লাইন বলতে, আপনি ভাবছেন বলবেন কিন্তু আপনি ঠিক বলে উঠতে পারছেন না, আপনার বুক কাঁপছে, ভাবছেন বলবেন কি বলবেন না এবং শেষ পর্যন্ত দেখা গেল আপনি বলতে পারলেনই না। আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেলেন বলেই আপনি বলতে পারলেন না। এই অপারগতার কারণে আপনার সম্পর্কে কেউ জানলেনও না যে আপনি বিষয়টি অনেক ভালো জানেন। এমন ধরনের লজ্জা কাটিয়ে উঠতে আপনি এর জন্য বাসাতেই কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বেশি বেশি কথা বলার অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে বন্ধুদের আসরে বেশি কথা বলুন। বন্ধুদের মাঝে ভুল বললেও তো তেমন কোনো সমস্যা নয়। নিজের প্রতি কনফিডেন্স বাড়িয়ে তুলুন। নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। লজ্জার খোলস থেকে নিজেকে মুক্ত করে আনুন।


২. কখনই না বলবেন না :


আপনি নিজের লজ্জাটিকে যদি সত্যিই কাটিয়ে উঠতে চান তাহলে যে কোনো জায়গায় আপনার যা বলতে ইচ্ছা করে তাই বলবেন, না বলবেন না। মনে রাখবেন ‘না’ শব্দটি আপনার জীবনের বড় একটি শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে চাইলে আপনার জীবন থেকে না শব্দটিকে বাদ দিয়ে দিন। কখনই না বলবেন না। আপনি বলতে পারেন এবং নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন এটাই সত্যি কথা। এর বিপরীতে কোনো কথাই হতে পারে না।


৩. চোখ হল ভালো কথোপকথনের জানালা স্বরুপ :


চোখ দিয়েই পৃথিবীর সমস্ত ভাষা বোঝা যায় এবং বলা যায়। তবে আপনার এই লজ্জা ছাড়াতে চোখ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে এর জন্য চোখের খেলা খেলতে হবে। আপনি সবকিছুই দেখঝেন ঠিকই সাথে সাথে দৃষ্টি বিনিময়ও করবেন। মনে রাখবেন আপনার সমস্ত লজ্জা থাকে চোখের মাঝে। তাই লজ্জা নিবারণে চোখের খেলা খেলুন। আপনি চাইলে চোখ দিয়েই বুঝিয়ে দিতে পারেন যে আপনি কোনোভাবেই লজ্জা পাচ্ছেন না। আপনি কথা বলতে পারেন।


৪. একমাত্র আপনিই পারেন একটা মজাদার আলোচনার বিষয় বের করতে :


নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সব সময় ভাবুন যে আপনি কি কি পারেন আর সবাই কি কি পারে না। নিজেকে প্রকাশ করার শক্তি ধারণ করুন। ভাবুন যে একমাত্র আপনিই আছেন যে কি না মজাদার সব বিষয় নিয়ে একটি আলোচনার সভা জমিয়ে রাখতে পারেন। নিজেকে বিশ্বাস করুন যে আপনি পারবেন। লজ্জা ঠিক আপনার সাথে পেরে উঠবে না। আপনি লজ্জাকে জয় করতে পারবেন।


৫. প্রতিবন্ধকতা দূর করুন :


আপনার যত ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে আপনার উচিৎ সবগুলোকে দূর করে ফেলা। আপনি নিজেকে যাচাই করে দেখুন আপনার কি ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে দূর করার চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন যে গুটি কয়েক সমস্যার কারণে আপনি লজ্জাগুলোকে ঠিক ভেঙ্গে বের হতে পারছেন না, তাহলে সেই সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি পারবেন লজ্জা কাটিয়ে সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে।

2855 views

Related Questions