চুল পেকে যাচ্ছে,,,কি করলে চুল পাকা আর চুল পড়া বন্ধ হবে?
1 Answers
চুল পাকাঃ
বয়স বাড়লে চুল পাকবে , এটা স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের চুল তরুণ কিংবা যুবক বয়সেই ‘পেকে’ যায়। চুলের এই দ্রুত ‘পাক’ ধরার কারণ স্বাস্থ্যগত।
মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অপরিণত বয়সে চুল পেকে যাওয়ার কারণ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও নানাবিধ অশান্তির কারণে মানুষের চুল পেকে যেতে পারে। শরীরের অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন হরমোন এ জন্য দায়ী। অ্যাড্রেনালিন হচ্ছে বৃক্কীয় গ্রন্থি-নিঃসৃত এক ধরনের হরমোন। সাধারণত মানুষ ভীত বা রাগান্বিত হলে অ্যাড্রেনালিন হরমোন মানুষকে শান্ত ও স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তবে অত্যধিক মানসিক চাপ বা অশান্তির সময় এ হরমোনের কারণে মানুষের চুলের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা অ্যাড্রেনালিন হরমোন কীভাবে মানুষের শরীরে ব্যাপক ক্ষতি করে তা বের করতে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে, গবেষকেরা শিগগিরই এ ব্যাপারে আমাদের আশার বাণী শোনাতে পারবেন। বের করতে পারবেন কীভাবে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মানুষের নিজেকে রক্ষা করার উপায়। তখন হয়তো, মানুষের চুলও বুড়ো হওয়ার আগেই আর পেকে যাবে না
চুল পড়াঃ
চুল পড়ার কারণ : অতিরিক্ত ক্ষয় ও চুলে নানারকম নিম্নমানের কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। তা ছাড়া নানারকম দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন; নানারকম অসুখ কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে অনেক রকম বয়সীর চুল ঝরে যাচ্ছে। কিংবা যাদের টাক নিয়ে সমস্যা আছে তারা বেশির ভাগই নিচের কতগুলো সমস্যায় ভোগেন_ ১. চুলের গোড়ায় ময়লা জমে। ২. এক দিন চুল শ্যাম্পু না করলে তেল তেল ভাব হয়। ৩. মাথা চুলকায়। ৪. চুলের গোড়ায় ছোট ছোট গোটা এবং ব্যথা হয়। ৫. সাদা সাদা খুশকির গুঁড়া দেখা যায়। ৬. চুলের আগা দ্বিখ-িত হয়ে যায় বা ফেটে যায় আবার অনেক সময় চুলের মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে দেখা যায়। ৭. চুলে রুগ্নভাব থাকে। ৮. চুল লালচে আকার ধারণ করে। ৯. দীর্ঘদিন চুলে সমস্যা থাকলে চুল বাড়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। তা ছাড়া শরীরের বায়ু কুপিত হয়ে ঊর্ধ্বমুখে ধাবিত হলে মাথায় ওপরে চুলের কোষ থেকে ঘাম নির্গত হয়। লক্ষণ প্রাথমিক অবস্থায় চুলের কোষের ওপর আমরা খুশকি বলে মনে করি। আসলে তা এক ধরনের ফাঙ্গাস। প্রথমে হালকা হালকা চুলকায়। চুলে শ্যাম্পু করতে তা পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কারণে আর চুলকায় না। চুলের যখন ইলাস্টিক মাসেল নষ্ট হয়ে যায় তখন মাথা চুলকালে হাতের নখের সঙ্গে পুঁজ বা ভাতের মারের মতো ময়লা নখের মধ্যে চলে আসে। মাথায় গরমের সময় ঘামে ভিজে কাদা কাদার মতো তৈরি হয়। মাথা পরিষ্কার না রাখলে মাথা থেকে তেল বের হয়। ফলে মাথা থেকে প্রচ- ঘাম বের হয়। কিছু দিন পরে চুল যেখান থেকে পড়ে সেখানে আর গজায় না। দ্রুত চুল সাদা বা ফেকাসে হয়ে যায়। অনেকের পেছনের অংশে চুল দ্রুত বাড়ে আর সামনের অংশে চুল গজায় না। মাথার যেখান থেকে চুল পড়ে সেই অংশ থেকে প্রচ- তাপ বের হয়। টাক হয়ে গেলে টাক অংশে জ্বালা-পোড়া ভাব থাকে। যাদের টাক হয় তাদের মুখম-লের রং ধীরে ধীরে কালচে ধরনের হয়ে যায়। চিকিৎসা যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে বা টাক মাথায় চুল সংরক্ষণের কিছু উপায় নিচে দেয়া হলো_ ১. তেতো ঝিঙ্গের পাতা টাকের ওপর ঘষলে উপকার পাওয়া যাবে। ২. প্রাথমিক টাকে ধুতরাপাতা বেটে চুলে দিলে চুল গজায়। ৩. আমলকী ও আম গাছের কচিপাতা একসঙ্গে পিষে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয় ও চুলের গোড়া শক্ত হয়। ৪. যষ্টিমধু, পুদিনাপাতা, তিল, ঘি একত্রে পিষে দুধ মিশিয়ে মাথায় মাখলে চুল ওঠা বন্ধ হয়। ৫. হাতির দাঁতের পোড়া ছাই ও সুরমা একত্রে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে টাকে প্রলেপ দিলে চুল গজায়। প্রলেপটা মাথায় ৫-৬ ঘণ্টা রাখতে হবে। সপ্তাহে ১-২ দিন এভাবে ১ মাস দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ৬. বট গাছের ফল পানিতে প্রায় ২০-২৫ মিনিট সিদ্ধ করে পানিটা ঠা-া করে মাথায় চুলের গোড়ায় দিলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। সপ্তাহে ২-৩ দিন করে ১ মাস লাগালে উপকার যাওয়া যায়। ৭. শিকাকাই, মেথি, একানী রাতে ভিজিয়ে পেস্ট করে মাথায় লাগালে চুলের গোড়া শক্ত হয়। ৮. গুল পানিতে সিদ্ধ পানি একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে তুলা দিয়ে মাথায় লাগালে মাথার খুশকি কমে যাবে এবং চুল পড়াও কমে যাবে। চুল পড়া বন্ধ করতে নিজে সচেতন হোন। অল্প থাকতেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মাথা টাক হওয়া থেকে বাঁচুন এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করে নিজেকে সুন্দর করে সাজান। ডা. তাসলিমা আক্তার আয়ুর্বেদিক স্কিন হেলথ অ্যান্ড হেয়ার ট্রিটমেন্ট সেন্টার হারবালিস্ট অ্যান্ড বিউটি কনসালট্যান্ট
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy