কি ওষুধ খাবো?
3 Answers
-আপনার স্বরণ শক্তি বৃদ্ধির জন্য নিচের উপায় গুলো লক্ষ করুন । *আয়ুর্বেদিক উপায়ঃ প্রাচীন আর্য়ুবেদ চিকিত্সায় স্মরণশক্তি বৃদ্ধির বেশ কিছু উপায় রয়েছে। যেমন কচি বেলপাতা খাঁটি ঘিয়ে ভেজে খেলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায় । আবার ব্রাহ্মী শাক এমন একটি ভেষজ উপাদান, যা স্মরণশক্তি বৃদ্ধির নানা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।মস্তিষ্ককে সজীব করার একটি আয়ুর্বেদিক উপায় হলো - দশটি কাঠ বাদাম, দুটি ছোট সাদা এলাচ, দুটি শুকনা খেজুর একটি মাটির পাত্রে আগের দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখুন । পরের দিন সকলে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে, এলাচের দানা বের করে, শুকনো খেজুরের বিচি বের করে এক সাথে ৩০ গ্রাম চিনির সাথে মিহি করে বেটে নিতে হবে । এই মিশ্রণ ২৫ গ্রাম মাখনের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে মস্তিষ্ক সজীব থাকে এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায় । *ব্যায়াম করুনঃ জানেন কি নিয়মিত ব্যায়াম স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে? বিশেষ করে অ্যারোবিকস ব্যায়াম এক্ষেত্রে বেশি সহায়ক। তালে তালে নির্দিষ্টভাবে ব্যায়াম করতে হয় বলে তা মস্তিষ্কের চর্চারও কারণ হয়ে দাঁড়ায় । পদ্ধতি মনে রাখতে মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ হয়, ফলে স্মরণশক্তি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায় । আবার যোগব্যায়ামও স্মরনশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । যোগব্যায়ামের কিছু আসনে মস্তিষ্ক পূর্ণ বিশ্রাম পায় । ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মনে রাখার ক্ষমতা বেড়ে যায় । *পুষ্টিকর খাবার খানঃ পুষ্টিকর খাবার স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে অনেকাংশে সাহায্য করে । মাতৃগর্ভে থাকার সময় শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে বিশেষ কিছু উপাদানের প্রয়োজন হয় । গর্ভবতী মা যদি পুষ্টিকর খাবার খান তাহলে মস্তিষ্ক যথাযথভাবে গঠিত হয় ।আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবার এ ব্যাপারে সাহায্য করে । সয়াবিন, দুধ, যকৃত, বাদাম, মাখন ইত্যাদিতে রয়েছে বিশেষ উপাদান কোলিন । সাইনাপসে তথ্য আদান -প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে কোলিন । খাবার থেকে এই উপাদান পাওয়া যায় বলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে পুষ্টিকর খাবারের যথেষ্ট অবদান রয়েছে । *মনোযোগ দিনঃ কোনো বিষয় মনোযোগ দিয়ে শিখলে বিষয়টি মনে রাখা সহজ হয় । তাই কোনো পড়া বা কাজ শেখার সময় যথেষ্ট পরিমাণে মনোযোগ দিন । মনোযোগ একটি মানসিক প্রক্রিয়া । তাই এর চর্চা করলে সহজেই স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব । *মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিনঃ মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করে বা জোর করে মনে করার চেষ্টা করার পরও যদি কিছু মনে না পড়ে তাহলে মস্তিষ্ককে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিন । অন্য কিছু ভাবুন বা ওই প্রসঙ্গ থেকে একেবারেই সরে আসুন । এতে কিছুক্ষণ পর প্রয়োজনীয় বিষয়টি নিজে থেকেই মনে পড়ে যাবে । কোনো কিছু স্মরণ করার জন্য এ পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর । *শুনুন, পড়ুন এবং লিখুনঃ কোনো কিছু শেখার সময় বিষয়টি অন্যের কাছ থেকে শুনলে মনে রাখা সহজ হয় । এ কারণেই ক্লাসে শিক্ষকের লেকচার শুনলে বিষয়টি সহজেই আত্মস্থ করা যায় এবং মনে রাখা যায় । তাই কোনো কিছু পড়ার সময় জোরে জোরে কয়েকবার পড়ুন, এতে মনে রাখা সহজ হবে । পড়ার পর তা লিখলে আমাদের মস্তিষ্ক তার একটি ছবি তৈরি করে ফেলে । ফলে বিষয়টি তুলনামূলক সহজে মনে পড়ে । তাই কোনো কিছু পড়ার পর তা লেখার অভ্যাস করুন ।
সেনসুরিন ঔষধ খেতে পারেন ডাক্তারের
পরামর্শে, হামদর্দের।
আগে মনে করা হত, বেশি বয়সের মানুষেরাই ভুলে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ দেখা যাচ্ছে, কমবয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। অনেকসময়ে আমাদের জীবনযাত্রার প্রভাবে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে আমাদের। তবে এছাড়াও আরও নানা কারণ রয়েছে।
১.থাইরয়েডের সমস্যা : থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে মনে রাখার ক্ষমতায় তার প্রভাব পড়ে। এমন হয়েছে জানতে পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২.নিদ্রাহীনতা : কম ঘুম বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৩.মাদকে অভ্যস্ত হলে: মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়। খুব সহজেই ভুলে যান তারা।
৪.ক্লান্তি : প্রতিদিনের ক্লান্তি আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে তোলে। শরীর যত ক্লান্ত থাকে, মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে। ফলে সহজেই ভুলে যাই আমরা।
৫.অবসাদ : ক্লান্তির পাশাপাশি অবসাদগ্রস্ততাও একটা সময়ে এসে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব ফেলে। মনে রাখার ক্ষমতা অনেকটা কমিয়ে দেয়
৭.মদ খাওয়া : মদে আসক্তি মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব ফেলে।
৮.বয়স : বেশি বয়সে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ভুলে যাওয়াটা এই বয়সে স্বাভাবিক।
৯.ওষুধ খাওয়া : গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু ওষুধের মারাত্মক প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায় এর ফলে।
১০.অপুষ্টি : অপুষ্টির ফলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায় এবং স্মৃতি দুর্বলতার শিকার হই আমরা।