যুবক বয়সে ইবাদতে মন আসে না কেন? অমুক ফ্রেন্ড চাকরি করতাছে, তমুক ফ্রেন্ড বেশি টাকা ইনকাম করতাছে এইগুলা মনে হয়ে নিজেরে ছোট মনে হয়... দুনিয়ার প্রতি লোভ বেশি আসে, যুবক বয়সে ইবাদতে মন আনার উপায় কি? যুবক বয়সের ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার হুকুম কি? রাসূল(সল্লালাহু আলাইহি অসাল্লাম) এর তরিকা কি? দলিল সহ জানতে চাই।
3331 views

2 Answers

একজন মানুষ যে কোন বয়সে ইবাদত করতে পারে,
তবে অাল্লাহ যুবক বয়সের ইবাদতকে বেশি গুরুত্ব দিয়ছেন,

এই বয়সে ইবাদত করলে অাল্লাহ বেশি খুশি হন,
অার এই জন্যই একজন মানুষের ইবাদত করার উপযুক্ত সময়
যুবক কালে,
কেন এই বয়সে ইবাদত মনে অাসে না,
কারন অামরা ইসলাম সম্পকে তেমন বুঝি না বা বুঝার চেষ্টা 
ও করি না,কেউ বুঝলে ও অামল করি না,
কারন এই বয়সটা এমন একটা বয়স, অামারা যা মন চাই তাই করি
কাউকে বা কিছু কে ভয় করি না,
অার লোভ লালসা বেশি কাজ করে, অহংকার এইগুলা বেশি,
কিন্তু অামার যখন বুড়ো হয়ই তখন মরনে চিন্তা করি,
কিন্তু না অামাদের টাকা পয়েসা সব ক্ষনিকের জন্য অাপনাকে মনে মনে রাখতে হবে, প্রতি দিন অন্তত তিন বার মরনের কথা ভাবতে
হবে যুবকদের,
অার অাপনি ইসলামি বই পড়ুন, ইসলাম কি জানুন, ইসলাম কেন অবতরন করছে বঝুন, মানে ইসলামি জ্ঞান অর্জন করুন,
অাপনার মধ্যে যদি সত্যি ইসলাম কি জিনিস একবার ঢুকে
বা বুঝেন, তাহলে অাপনি যে বয়সই হোক না কেন, অাল্লাহ ভয়
অাপনার ভিতরে কাজ করবে,এবং ইবাদত করতে অাগ্রহি হবেন
যদি ও হয়ে থাকেন যুবক। জ্ঞান অর্জন করুন,ইসলামি জ্ঞান অর্জন
করা ফরয।
3331 views

আপনাকে প্রথমেই আল্লাহর বড়ত্বের প্রতি খাটি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে, নামাজকে আকড়ে ধরতে হবে, আল্লাহর বড়ত্বের কথা স্পষ্টভাবে জেনে অন্যকে জানাতে এবং বুঝাতে হবে, এতে আপনার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হবে, আপনার কথা দ্বারা বুঝা যায় আপনি ঈমান হারিয়েছেন তাই এটি ফিরে পেতে আপনাকে মসজিদে বেশি বেশি সময় দিতে হবে ভালো কিছু হাদিসের বই পড়তে হবে, ভাই চেষ্টা করলে সবি সম্ভব, আপনি অন্তত নামাজটা আদায় করুন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করুন যাতে আপনাকে পূর্ণাঙ্গ হেদায়েত দান করে। ইসলামের দৃষ্টিতে তারুণ্য ও যৌবন আল্লাহর নেয়ামত এবং একটি আমানতও বটে। মানব জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায় যৌবন। এর ওপরই গোটা জীবনের সফলতার ভিত্তি। এ জন্য যৌবনকালের যথাযথ মূল্যায়ন, সুষ্ঠু পরিচর্যা ও সঠিক পথনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, পাঁচটি জিনিসকে মূল্যায়ন কর। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বার্ধক্যের পূর্বে তারুণ্য ও যৌবনের মূল্যায়ন করা। মানুষের যৌবন খুবই ক্ষণস্থায়ী ও পতনশীল। যৌবন ও তারুণ্য আল্লাহর প্রিয়। যৌবন বয়সের ইবাদত ও সাধনা আল্লাহ খুবই মূল্যায়ন করেন। কিয়ামতের মহাবিভীষিকাময় দিনে আল্লাহ সাত শ্রেণীর মানুষকে তার আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন। এর একটি হচ্ছে ‘এমন যুবক যারা তাদের যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করেছে।’ যৌবনকালকে আল্লাহ তায়ালার পবিত্র এক আমানত মনে করতে হবে। এই আমানতকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। যুব সমাজ আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে এই নেয়ামতের মূল্যায়ন করলে তাতে বরকত আসবে। তেমনি যৌবনের অপব্যবহার করলে সারাজীবন পস্তাতে হবে। এছাড়া কিয়ামতের দিন প্রত্যেককেই আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যৌবনের হিসাব দিতে হবে। যুবকরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তাই যুবকদের মর্যাদা ও গুরুত্ব যেমন বেশি, তাদের দায়িত্ব- কর্তব্যও অনেক। ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ যুবক সেই, যিনি দেশ, জাতি ও ধর্মের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেন। মানুষকে ভালোবেসে মানুষের জন্য কাজ করতে উদগ্রীব থাকেন। নিজের শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। সব ধরনের অন্যায় ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে যুবকদের। নিজের প্রবৃত্তির সঙ্গে লড়াই করে সঠিক পথে টিকে থাকতে পারলে এর প্রতিদানও আল্লাহ যুবককে দান করবেন। বৃদ্ধের চেয়ে একজন যুবকের ইবাদত ও সাধনা আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। এ জন্য ইসলাম শিশুকাল থেকেই ধর্মীয় আদর্শে গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে। যুবসমাজের যখন অধঃপতন ঘটে, তখন গোটা সমাজে পচন ধরে। এ জন্য যুবসমাজকে রক্ষা করা, বিপথগামী হওয়া থেকে বাঁচানো সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান একটি যুবসমাজ দেশ, জাতি ও ধর্ম-গোত্রের জন্য বড় সম্পদ।

3331 views

Related Questions