সুতরা দেওয়ার নিয়ম বা বিধান?

সুতরা রাখার নিয়ম বা বিধান কি? কোন সলাত আদায়কারী ব্যক্তি যদি সলাত আদায় করার সময় তার সামনে সুতরা না দিয়ে থাকে এবং অন্য ব্যক্তি যদি সলাত আদায়কারী ব্যক্তির সামনে সুতরা দিয়ে চলে যাই তাহলে এর বিধান কি?
3084 views

3 Answers

অন্য ব্যাক্তি দিতে পারবে। সমস্যা নাই।

3084 views Answered

এক মুঠা হাত খাড়া জাতীয় বস্তু নামাজী ব্যক্তির সামনে সেজদা  বরাবর রাখতে হবে। নামাজী বক্তি সুতরা না রাখলেও অন্য কোন ব্যক্তি সুতরা দিয়ে তারপর নামাজরতের সামনে দিয়ে যেতে পারবেন।এটাই নিয়ম

3084 views Answered

 ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ নামাজ আদায়ের সময় সামনে দিয়ে কারও যাতায়াত করা নিষিদ্ধ। নামাজ পড়ার সময় সামনে দিয়ে কারও চলাচলের সম্ভাবনা থাকলে নামাজ শুরুরআগে সুতরা বা উঁচু কিছু সামনে রেখে নামাজে দাঁড়ানো সুন্নত। সুতরা বলে কোনো কিছুর আড়ালকে। কোনো বড় মসজিদে নামাজে দাঁড়ালে সামনে একটি বস্তু (দেয়াল, পিলার, লাঠি ইত্যাদি) রাখা জরুরি।যার ফলে নামাজ অবস্থায় সামনে দিয়ে লোকজন চলাফেরা করতে পারে।

সুতরা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুতরা ছাড়া নামাজ পড় না।’ আবু দাউদ 


 সুতরা হতে হবে মাটি থেকে অল্প উঁচু কোনো বস্তু এবং তা রাখতে হবে সিজদার জায়গার অল্প সামনে। রাসুল (সা.) থেকে অনেক ধরনের সুতরার কথা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের খুঁটিকে, ফাঁকা ময়দানে বর্শা গেড়ে, নিজের সওয়ারি উটকে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে সুতরা বানাতেন। এছাড়াও রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময় উটের পিঠে বসার জিনপোশ, গাছ ও শোয়ার খাটকে সামনে রেখেও নামাজ পড়েছেন। কেউ যদি নামাজির বরাবর সামনে থাকে, তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নামাজের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে এমন করা ঠিক নয়। সুতরা বিষয়ে কয়েকটি মাসয়ালা হলো- 


১. ইমামের সামনে সুতরা থাকলে মুক্তাদিদের জন্য পৃথক সুতরার দরকার নেই। তবে কোনো ইমাম যদি সুতরা না দেন, তাহলে মুক্তাদির সুতরা দিতে হবে।

 ২. সুতরা মাটি থেকে অল্প উঁচুতে হতে হবে। কিছু না পেলে দাগ কেটে দেয়ার প্রচলন আছে, এটা ঠিক নয়। 

৩. জায়নামাজের শেষ প্রান্তকে সুতরা বলে গণ্য করা যাবে না। 

 ৪. বিনা সুতরায় নামাজ পড়লে কেউ সামনে দিয়ে গেলে নামাজ নষ্ট হয় না। কিন্তু নামাজের ক্ষতি হয়। 

৫. মানুষ চলাফেরা করতে পারে, এমন স্থানে সুতরা না রেখে নামাজ পড়া গুনাহের 

কাজ। 


নামাজে সুতরা দেওয়ার গুরুত্ব নিম্নের হাদিস থেকে অনুমেয়___


হযরত ত্বালহা (রাঃ) বলেন,আমরা নামায পড়তাম তখন পশুরা আমাদের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করত।যখন রাসুল(সঃ)কে এই ব্যাপারে অবগত করা হল তখন তিনি বল্লেন,”যদি উটের পাল্কির সমান কোন বস্তুও তোমাদের সামনে থাকে তাহলে সামনে দিয়ে গমনকারীরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।---ইবনে মাজাহ


হযরত আবু জুহাইম (রাঃ) বলেন,রাসূল (সঃ) বলেছেন,যদি নামাযরত ব্যক্তির সম্মুখ দিয়ে গমনকারী ব্যক্তির জানা থাকত যে,তার উপর কি পাপের বোঝা চেপেছে,তবে চল্লিশ পর্যন্ত - দাঁড়িয়ে থাকাকেও কে প্রাধান্ন দিত।হযরত আবু নছর বলেন,আমি জানিনা তিনি চল্লিশ দিন বলেছেন কিংবা মাস অথবা বছর।---বুখারী ও মুসলিম


 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন,রাসুল (সঃ) যখন ঈদের দিন নামাযের জন্য বের হতেন তখন স্বীয় বর্শা সাথে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিতেন এবং তা হুজুর(সঃ)-এর সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত।হুজুর(সঃ) তার দিক হয়ে নামাজ পড়াতেন আর লোকেরা হুজুর(সঃ)-এর পিছনে দাঁড়াতেন। সফরকালেও হুজুর(সঃ) সুতরা ব্যবহার করতেন। ---বুখারী ও মুসলিম

3084 views Answered

Related Questions

Next steps