2 Answers

আওলিয়া কেরামের স্তরসমূহেরমধ্যে একটি স্তরের নাম হল গাউছুল আজম।যার অর্থ মহান সাহায্যকারী। এটা আল্লাহরগুণবাচক নামসমূহের অর্ন্তভুক্ত নয়। পবিত্রকোরআনউল করিম ও হাদিস শরীফেরকোথাও এটা যে আল্লাহর জন্য র্নিদিষ্ট আরকারো জন্য ব্যবহৃত হবে না তার কোনপ্রমাণ নেই, বরং এটা আল্লাহর ওলীরগুণবাচক নাম। হুজুর গাউছে পাকেরউপাধী হল গাউছে আজম, স্বয়ং আল্লাহরাব্বুল আলামীন ইলহামের মাধ্যমে এনামে হুজুর গাউছেপাক কে আহবানকরেছেন। যেমন হুজুর গাউসে পাকেররচিত কিতাব রেসালতে গাউছুল আজম তারপ্রমাণ। উক্ত কিতাবে দেখা যায় যখনইআল্লাহ তায়ালা তাকে কোনবিষয়ে ইলহামের মাধ্যমে আহবানকরেছেন তখনই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদকরেছেন ইয়া গাউছুল আজম।কোরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা এরশাদকরেন- “ওয়াল্লাহুল আসমাউল হুসনা ফাদয়ুহু বিহা”অর্থাত্, আল্লাহর বহু সুন্দর গুণবাচক নামআছে সেই নামগুলো দিয়ে তাকে আহবান কর। উক্তআয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিস শরীফে উল্লেখআছে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু থেকে বর্ণীত, নবী করিমসাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদকরেছেন আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামরয়েছে তোমরা ঐ নামগুলো শিখে নাও।যে ব্যক্তি ঐ ৯৯ নাম শিখে নিবে অবশ্যসে বেহেশতে প্রবেশ করবে। এগুণবাচক ৯৯ নামগুলোর মধ্যে গাউছুল আজমনামটির উল্লেখ নেই। সুতারাং এটা আল্লাহরজন্য র্নিদিষ্ট আর কারো জন্য ব্যবহৃতহতে পারে না বলা মূর্খতা ও অজ্ঞতা।হুজুর গাউছে পাককে গাউছুল আজম বলা বা তারবরকতমন্ড়িত নামের সাথে উক্তউপাধি ব্যবহার করা কখনো শিরক নয়।এবং এটাকে শিরক বলা শিরকের অর্থসম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার প্রমাণ। গাউছুল আজমআল্লাহর বান্দাদের মধ্যে বিশেষ নিদিষ্টবান্দার উপাধি। তবে যে কেউ গাউছে আজমদাবী করতে পারে না। গাউছে আজমপদবীর জন্য যে যোগ্যতা আবশ্যকীয়তা ছাড়া গাউছে আজম উপাধি প্রয়োগকরা মূলত দ্বীনের ও জাতিরসাথে ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। আর গাউছুলআজম এর অর্থ হল-আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষক্ষমতা বলে আল্লাহর পক্ষ হতে তারসৃষ্টিজগত ও মাখলোকের প্রতি দয়া ও সাহায্যপ্রদানকারী বিশেষ নির্ধারিত ব্যক্তি।[সূত্রঃ মাজহারে জামালে মোস্তাফায়ী,কৃতজ্ঞতায় সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহঃ), ওতাফরিহুল খাতিরীল ফাতিল ফি মানাকিবে শাইখআব্দুল কাদির, হযরতমোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ) ইত্যাদি]“গাউসে আ’যম” শিরিকী শব্দ।(নাউযুবিল্লাহ)। ওহাবীদেরপত্রিকা ‘আহলে হাদীস’ অম্রিতস্বর এ লিখা হয়েছে:-“গাউসে আ’যম” শিরিকী শব্দ,(নাউযুবিল্লাহ)।“আহলে হাদীস” অম্রিতস্বর,পাতা-১৩, ১৭ সেপ্টম্বর, ১৯৩৭ইরেজী সংখ্যা। সম্মানিত পাঠকগন, হাস্যকর বিষয় এই যে,ওহাবীদের এ উক্তি দ্বারা ইসমাঈল দেহলভী, আশরাফআলী থানভী, রশীদ আহমদ গাংগুহী, হাজী এমদাদুল্লাহমুহাজিরে মক্কী, মৌলভী সানাউল্লাহঅম্রিতস্বরী এবং মিয়া নযীর হোসাঈন দেহলভী ও শিরিকথেকে রক্ষা পায়নি। কেননা, তারা তাদেরকিতাবে “গাউসে আ’যম” শব্দটি হযরত শায়খ আবদুল ক্বাদেরজীলানী ক্বদ্দিসা সিররুহুন নুরানী সম্বন্ধে ও লিখেছে।নিশ্চিত হবার জন্য দেখুন- সেরাতে মুস্তাক্বীম(ফার্সী),পাতা- ৫৬, ১৩২, ১৪১, ফোতোয়া-এ-আশরাফিয়াহ্, ১মখন্ড, পাতা-৯, দাওয়াতে আবদিয়াত, ৫ম খন্ড, পাতা-১৭,ফোতোয়া-এ-নযীরিয়াহ্, ১ম খন্ঠ, পাতা-২৩ ইত্যাদি।

3129 views

গাউসে আযম অর্থ সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী। মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের সংশয়পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। অনেক বড় বড় উলামায়ে কেরাম মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তন্মধ্য হতে সমকালীন বিশ্বে হাদীস শাস্ত্রের প্রাণ পুরুষ শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবুগুদ্দাহ রহ. অন্যতম। উপরন্তু, সাধারণ মানুষ অতি ভক্তির কারণে মৃত আব্দুল কাদির জিলানী রহ.কেও ত্রাণকর্তা ও সাহায্যকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে। যেটা স্পষ্ট শিরক। সুতরাং তাঁর ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার এ ধরনের শিরকী বিশ্বাসের প্রতি আরো উৎসাহ ও সমর্থন সৃষ্টি করে। তাই গাউসুল আযম, দস্তগীর (ত্রাণকর্তা) এ ধরনের সংশয়পূর্ণ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়।

3129 views

Related Questions