1 Answers

।। কাছে আসা... ভালোবাসা ।।




জীবনে ভালোবাসার অনেক গল্প, উপন্যাস পড়লেও নিজের জীবনে এমনি করে নিজেরই অজান্তে ভালোবাসা এসে বাসা বাঁধবে কখনো ভাবতেও পারিনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনেক আনন্দে দিন কাটতে লাগলো। সবই নতুন মুখ।আমার কোনো পুরোনো বন্ধুই এখানে আমার সাথে নেই।শুরুতেই একটা গ্রুপ করা প্রয়োজন হলো পড়াশোনার জন্য।একদিন আমি আর আমার এক নতুন বান্ধবী ক্লাস থেকে বের হয়ে নিচে নামতেই ক্লাসেরই দুটি ছেলের সামনে পরলাম। তারাও গ্রুপ করার ব্যাপারে কথা বলতে চায়।এদের আগে কখনো খেয়াল করিনি।আজই প্রথম পরিচয়। নাম জানার পালা শেষ হলো, পরিচয় হলো সেই মানুষটির সাথে যাকে আজ আমি অনেক ভালবাসি,জয় ।আমার বান্ধবীটি আর জয়ের পাশে দাড়ানো তার বন্ধুটিই কথা বলছিল বেশি। মুখোমুখি দাড়িয়ে আমরা দুজন...কথা শুনছিলাম আর মাঝে মাঝে চোখ তুলে একজন আরেকজন কে দেখছিলাম।


একটা অ্যাসাইনমেন্টের প্রয়োজনে প্রথম যেদিন জয় আমাকে ফোন দিল সেদিন ২ মিনিটের বেশি কথা হয়নি। কিন্তু মনের মাঝে একটা ভালোলাগা তৈরি হতে লাগলো।ক্লাসে ওর সাথে আমি কথাই বলতে পারতাম না। কেমন একটা লজ্জা ঘিরে ধরতো আমাকে।ওর চোখে চোখ পড়লে চোখ নামিয়ে নিতে হতো।মনে হতো ওই চোখে কি যেন আছে...আমাকে কি যেন বলতে চায়।বন্ধুদের ছাড়া একা ওর সাথে কথা বলার সাহস তখনো হয়নি। সবাই একসাথে থাকলে কথা বলতে পারতাম, ঝগড়া করতাম আর একজন আরেকজন কে পচাতাম।ধীরে ধীরে শুরু হলো রাত জেগে কথা বলা।প্রথম দিকে আমি ওর ফোনের জন্য অপেক্ষা করতাম, আমি ফোন করলে জয় সেটা কিভাবে নেয় তা ভেবেই ফোন করা হতোনা। ও আমাকে ফোন করতো আর আমরা দুজন হারিয়ে যেতাম এক অজানা দেশে।অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলতো জয়।হাজার হাজার নাম দিত আমার আর সেইসব নামে ডাকতো। পৃথিবীর যত ভালোলাগা এসে ভর করতো আমাদের দুজনকে।এ এক অন্য রকম ভালোলাগা, যেখানে কোন চাওয়া পাওয়া নেই। অনেক ইচ্ছে হত ওর সাথে ক্লাসের ফাকে কিছুটা সময় কাটাই কিন্তু তখনো হয়ে ওঠেনি।


দেখতে দেখতে প্রায় ৭/৮ মাস কেটে গেল। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে একদিন রাতে জয় আমাকে বললো ও আমার সাথে দেখা করতে চায়।আর আমিও রাজি হয়ে গেলাম। সেদিন ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। সকাল ১০ টায় আমাদের দেখা করার কথা কিন্তু ওর কিছু কাজ ছিল বলে আসতে একটু দেরি হয়েছিল।আমি ওর বন্ধু নাকি অন্য কিছু সেই প্রশ্ন সেদিন মাথায় আসেনি। আমি শুধু প্রতিটি মুহুর্ত হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলাম।ওর পাশে বসে বৃষ্টি দেখার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের...আর হঠাৎ সেদিন আমার সেই সুযোগটাও হয়ে গিয়েছিল।বৃষ্টি দেখা, গল্প করা আর একজন আরেকজনের হাতে আঁকাআকি করে কখন যে বিকেল হয়ে গেছে টেরই পাইনি।ততদিনে জয় আমার বাসার কাছাকাছি একটা বাসা ভাড়া নিয়েছে। তাই সেদিন একসাথে রিকশা করে বাসায় ফিরলাম দুজনে।কিন্তু মনটা খুবই খারাপ হল...কালই জয় গ্রামের বাড়ি চলে যাবে। ভালোলাগার মুহুর্তগুলো এত তাড়াতাড়ি কেন শেষ হয়ে যায়? সেই ঈদটা আমাদের খুবই ভাল কাটলো।সারাক্ষণ আমরা ফোনে কথা বলেছি আর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।এতদিন আমরা 'তুই' সম্বোধনে কথা বলতাম।কিন্তু একসময় বুঝতে পারলাম মনের অজান্তে আমরা 'তুমি' তে চলে এসেছি।আমি জয়কে যখন প্রশ্ন করলাম আমরা কেন 'তুমি' করে বলছি তখন ও মন খারাপ করে বললো তোমার খারাপ লাগলে বলতে হবেনা।সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি জয়কে তুমি সম্বোধন করছি।





ছুটির পরে প্রথম দিন ক্লাস শেষ করে দুজনে একসাথে বাসায় ফিরলাম।বাসায় ঢুকতেই জয় আমাকে ফোন দিয়ে বললো বের হতে। প্রথমে না করলেও শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গেলাম।সেইদিন প্রথম আমরা ধানমন্ডি লেকে গেলাম, দুজনে বোটে করে বেশ খানিকটা সময় কাটালাম।একটা খাবারের দোকানে ঢুকলাম কিন্তু ওর একটাই কথা খাইয়ে দিতে হবে নইলে খাবেনা। কি আর করা একটুখানি মুখে তুলে দিলাম।এরপর প্রায়ই আমরা ক্লাস শেষে কখনো লেকে, কখনো বসুন্ধরায় কখনো অন্য কোথাও ঘুরতে যেতাম. এভাবেই কেটে যেতে লাগলো দিন।কিন্তু নিজের আবেগ কখোনই জয়ের কাছে প্রকাশ করতে চাইতাম না।ওর সব প্রশ্নের একটাই উত্তর ছিল আমার কাছে...আমি ওর খুব ভালো বন্ধু যে সব সময় ওর পাশে থাকবে। তবুও আস্তে আস্তে এ কোন মায়ার বাঁধনে জড়াতে লাগলাম নিজেও জানিনা।বৃষ্টির দিনে রিকশায় করে দুজনে ভিজতে ভিজতে চলে যেতাম লেকে, রংধনু আর প্রজাপতির রঙ্গিন পাখার রং দিয়ে রাঙ্গাতে লাগলাম জীবন।কথা, গান আর কত মান অভিমানে বাঁধা পরতে লাগলাম আমরা। আমার ওপরে জয়ের অধিকার তাই দিন দিন বেড়েই চলেছে। বন্ধুত্ব কি তবে ভালোবাসায় রূপ নিচ্ছে? কিন্তু জয়ের এই ভালবাসার ডাকে আমি সাড়াও দিতে পারছিলাম না।


অন্য সবার মত স্বাভাবিক জীবন আমার নয়। আমি একটু অসুস্থ্য...থ্যালাসিমিয়া আছে আমার..এক কথায় জটিল অসুখ। সেই কথা অবশ্য এতদিনে জয় কে বলা হয়ে গেছে। তাই একথা ও আর শুনতে রাজি নয়। এতদিন আমি যে স্বপ্নরাজ্যে ভেসে বেড়াচ্ছিলাম তার থেকে বাস্তব জীবন অনেক কঠিন। কিন্তু জয়কে আমি কিছুত

2715 views

Related Questions