রমযান কি আসলেই ৩ভাগে বিভক্ত?
1 Answers
রমযান মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করার রহস্য সম্পর্কে শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ. বলেন, মানুষও তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম প্রকারের মানুষ যাদের মাথায় কোন পাপের বোঝা নেই। তারা রমযানের শুরু থেকেই আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত হতে থাকে। দ্বিতীয় প্রকারের মানুষ, যাদের হালকা ধরণের পাপ আছে, তারা দশ দিন সিয়াম পালন করার পর মাগফেরাতের প্রত্যাশা করতে পারে। তৃতীয় প্রকারের মানুষ যারা অধিক পাপিষ্ট। তারা অনেক দিন সিয়াম পালন করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়। এই হিসাবে প্রথম প্রকারের মানুষ রমযানের শুরু থেকেই রহমতপ্রাপ্ত হন এবং তাদের উপর রমযানের শেষ পর্যন্ত রহমতের ভান্ডার বর্ষিত হতে থাকে।
রমযান মাসে উম্মতে মুহাম্মাদীকে পাঁচটি পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- ‘রমযান মাসে আমার উম্মতকে পাঁচটি বস্ত্ত দেয়া হয়েছে, ইতিপূর্বের উম্মতকে যা দেয়া হয়নি। এক. সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশক আম্বরের চাইতেও অধিক পছন্দনীয়। দুই. সিয়াম পালনকারীর জন্য ইফতার করা পর্যন্ত ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। তিন. রমযানে প্রতিদিন সিয়াম পালনকারীর জন্য জান্নাত সুসজ্জিত করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন, আমার নেককার বান্দারা দুনিয়ার ক্লেশ যাতনা দূরে নিক্ষেপ করে অতি শীঘ্রই তোমার নিকট (অর্থাৎ জান্নাতের নিকট) আগমন করবে। চার. রমযান মাসে দুর্বৃত্ত শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। যদ্দরুন সে ঐসব পাপ করাতে পারে না, যা অন্য মাসে করানো সম্ভব। পাঁচ. রমযান মাসের শেষ রাত্রে সিয়াম পালনকারীদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ক্ষমা কি লাইলাতুল কদরে হয়ে থাকে? হুজুর সা. বললেন, না। বরং শ্রমিক যখন তার শ্রম পূর্ণ করে, অবশ্যই তার পারিশ্রমিক পরিপূর্ণভাবে দেয়া হয়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস-৭৫৭৬} অর্থাৎ রমযানের প্রতি রাতেই সিয়াম পালনকারীকে ক্ষমা করা হয়।