2 Answers
বেতর নামাজ তিন রাকাত।
বিতর ( ﻭﺗﺮ ) শব্দটি আরবি। অর্থ হচ্ছে বিজোড়।
এ নামাজ তিন রাকাআত বিধায় এটিকে বিতর বলা হয়।
ইশার নামাজের পরপরই
এ নামাজ পড়া ওয়াজিব। আর
রমজান মাসে তারাবিহ
নামাজ পড়ার পর
জামাআতবদ্ধভাবে ইমামের
সঙ্গে বিতর নামাজ পড়া যায়।
বিতরের নামাজ পড়ার
ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বিশেষ তাগিদ দিয়ে
বরেন, বিতরের নামাজ পড়া
আবশ্যক। যে ব্যক্তি বিতর আদায়
করবে না, আমাদের
জামাআতের সাথে তাঁর
কোনো সম্পর্ক নেই।
বিতর নামাজঃ
অন্যান্য ফরজ নামাজের ন্যায় দুই
রাকাআত নামাজ পড়ে প্রথম
বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়া।
তারপর তৃতীয় রাকআত পড়ার জন্য
উঠে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য
কোনো সুরা বা আয়াত
মিলানো। কিরাআত (সুরা বা
অন্য আয়াত মিলানোর পর) শেষ
করার পর তাকবির বলে দু’হাত
কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবিরে
তাহরিমার মতো হাত বাঁধতে
হয়। তারপর নিঃশব্দে দোয়া কুনুত
পড়া। দোয়া কুনুত পড়ে পূর্বের
ন্যায় রুকু, সিজদার পর শেষ
তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাছুরা
পড়ে ছালাম ফিরানোর
মাধ্যমে বিতরের নামাজ
সমাপ্ত করতে হয়।
তথ্যঃ ইসলামিক সেবা
দলিল ঃ
(বুখারি ইঃফাঃ হাঃ ৯৩৭,৯৩৯,৯৪১, সহিহ ইবনু খুযাইমাহ-২য় খণ্ড ১৪৩ পৃষ্ঠা, মুসলিম ১ম খণ্ড ২৫৩-২৫৬ পৃষ্ঠা , নাসায়ী - ১ম খণ্ড ১৯২,ন্দ,২৪৬,২৪৭ পৃষ্ঠা )
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামায তিন রাকাত পড়তেন, এক রাকাত পড়া প্রমাণিত নয়। তদ্রূপ যেসব রেওয়ায়েতে তিন রাকাতের অধিক, যথা পাঁচ, সাত বা নয় রাকাত পড়ার কথা বলা হয়েছে সেখানেও মূল বিতর তিন রাকাত। বর্ণনাকারী পূর্বের বা পরের রাকাতসমূহ মিলিয়ে সমষ্টিকে ‘বিতর’ বলে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামায তিন রাকাত পড়তেন তা নীচের হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। ১. আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘রমযানুল মুবারকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায কীরূপ হত?’ উম্মুল মুমিনীন বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে ও রমযানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন-এত সুন্দর ও দীর্ঘ সে নামায, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অতঃপর চার রাকাত পড়তেন-এরও দীর্ঘতা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত পড়তেন।’ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻠﻤﺔ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺃﻧﻪ ﺳﺄﻝ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻛﻴﻒ ﻛﺎﻥ ﺻﻼﺓ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ؟ ﻗﺎﻟﺖ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺰﻳﺪ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻻ ﻓﻲ ﻏﻴﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺇﺣﺪﻯ ﻋﺸﺮﺓ ﺭﻛﻌﺔ، ﻳﺼﻠﻲ ﺃﺭﺑﻌﺎ ﻓﻼ ﺗﺴﺄﻝ ﻋﻦ ﺣﺴﻨﻬﻦ ﻭﻃﻮﻟﻬﻦ، ﺛﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﺃﺭﺑﻌﺎ ﻓﻼ ﺗﺴﺄﻝ ﻋﻦ ﺣﺴﻨﻬﻦ ﻭﻃﻮﻟﻬﻦ ﺛﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﺛﻼﺛﺎ . (সহীহ বুখারী ১/১৫৪; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬) ২. সা’দ ইবনে হিশাম বলেন, (উম্মুল মুমিনীন) আয়েশা রা. বলেছেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।’ ﻋﻦ ﺳﻌﺪ ﺑﻦ ﻫﺸﺎﻡ ﺃﻥ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺣﺪﺛﺘﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻮﺗﺮ . (সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮; মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ পৃ. ১৫১) ৩. ইমাম হাকেম রাহ. সা’দ ইবনে হিশামের বিবরণ এভাবে বর্ণনা করেছেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের প্রথম দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।’ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻ ﻳﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ ﺍﻷﻭﻟﻴﻴﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺗﺮ . ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﺍﻟﺸﻴﺨﻴﻦ ﻭﻟﻢ ﻳﺨﺮﺟﺎﻩ (আলমুস্তাদরাক ১/৩০৪) ৪. অন্য সনদে বিবরণটি এভাবেও বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামায তিন রাকাত পড়তেন এবং শুধু শেষ রাকাতে সালাম ফেরাতেন। আমীরুল মু’মিনীন উমর রা. এই নিয়মে বিতর পড়তেন এবং তাঁরই সূত্রে আহ্লে মদীনা এই নিয়ম গ্রহণ করেছে।’ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻮﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ، ﻻ ﻳﺴﻠﻢ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺁﺧﺮﻫﻦ . ﻭﻫﺬﺍ ﻭﺗﺮ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻭﻋﻨﻪ ﺃﺧﺬﻩ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ . (আলমুস্তাদরাক) ৫. মুসনাদে আহমদ কিতাবে (৬/১৫৬) বিবরণটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায আদায় করে ঘরে আসতেন এবং দুই রাকাত নামায পড়তেন। এরপর আরো দুই রাকাত পড়তেন, যা পূর্বের নামাযের চেয়ে দীর্ঘ হত। অতঃপর তিন রাকাত পড়তেন, যা মাঝখানে আলাদা করতেন না। এরপর বসে বসে দুই রাকাত নামায পড়তেন। রুকু-সেজদাও সেভাবেই করতেন। ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﻤﻨﺰﻝ ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ . ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺑﻌﺪﻫﻤﺎ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺃﻃﻮﻝ ﻣﻨﻬﻤﺎ، ﺛﻢ ﺃﻭﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ، ﻻ ﻳﻔﺼﻞ ﺑﻴﻨﻬﻦ ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻭﻫﻮ ﺟﺎﻟﺲ، ﻳﺮﻛﻊ ﻭﻫﻮ ﺟﺎﻟﺲ ﻭﻳﺴﺠﺪ ﻭﻫﻮ ﺟﺎﻟﺲ . ৬. আবদুল্লাহ ইবনে আবু কায়স বলেন, আমি (উম্মুল মু’মিনীন) আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাত বিতর (আদায়) করতেন? উম্মুল মু’মিনীন বললেন, ‘চার ও তিন রাকাত, ছয় ও তিন রাকাত এবং আট ও তিন রাকাত। তিনি তেরো রাকাতের অধিক এবং সাত রাকাতের কম বিতর করতেন না।’ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻗﻴﺲ ﻗﺎﻝ ﺳﺄﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺑﻜﻢ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻮﺗﺮ ﻗﺎﻟﺖ : ﺑﺄﺭﺑﻊ ﻭﺛﻼﺙ، ﻭﺳﺖ ﻭﺛﻼﺙ، ﻭﺛﻤﺎﻥ ﻭﺛﻼﺙ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻳﻮﺗﺮ ﺑﺄﻛﺜﺮ ﻣﻦ ﺛﻼﺙ ﻋﺸﺮﺓ ﻭﻻ ﺃﻧﻘﺺ ﻣﻦ ﺳﺒﻊ . (সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩; শরহু মাআনিল আছার তহাবী ১/১৩৯) উপরোক্ত হাদীসে তাহাজ্জুদ ও বিতরকে একত্রে ‘বিতর’ বলা হয়েছে। এতে মূল বিতর তিন রাকাত, বাকীগুলো তাহাজ্জুদ। ৭. আবদুল আযীয ইবনে জুরাইজ বলেন, ‘আমি (উম্মুল মু’মিনীন) আয়েশা সিদ্দীকা রা.কে জিজ্ঞাস করেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাযে কী কী সূরা পাঠ করতেন? উম্মুল মু’মিনীন বলেছেন, তিনি প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাছ ও ‘মুআওয়াযাতাইন’ (ফালাক ও নাস) পাঠ করতেন।’ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ ﺑﻦ ﺟﺮﻳﺞ ﻗﺎﻝ ﺳﺄﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺑﺄﻱ ﺷﻲﺀ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﺗﺮ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ؟ ﻗﺎﻝ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﺑﺴﺒﺢ ﺍﺳﻢ ﺭﺑﻚ ﺍﻷﻋﻠﻰ، ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﺑﻘﻞ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻭﻥ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ ﺑﻘﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ ﻭﺍﻟﻤﻌﻮﺫﺗﻴﻦ . ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﻋﻴﺴﻰ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﻏﺮﻳﺐ . (সুনানে আবু দাউদ ১/২০১; সুনানে তিরমিযী পৃ. ৬১; সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ৭৩; মুসনাদে আহমদ ৬/২২৭; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮. ‘আমরা বিনতে আবদুর রহমান উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামায তিন রাকাত পড়তেন। প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন।’ ﻋﻦ ﻋﻤﺮﺓ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ . ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻛﻌﺔ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﺑﺴﺒﺢ ﺍﺳﻢ ﺭﺑﻚ ﺍﻷﻋﻠﻰ، ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻗﻞ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻭﻥ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ ﻭﻗﻞ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻔﻠﻖ ﻭﻗﻞ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ . ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﺍﻟﺸﻴﺨﻴﻦ ﻭﻟﻢ ﻳﺨﺮﺟﺎﻩ . ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺬﻫﺒﻲ ﺭﻭﺍﻩ ﺛﻘﺎﺕ ﻋﻨﻪ، ﻭﻫﻮ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﺥ ـ ﻡ . (আলমুসতাদরাক ১/৩০৫) ৯. মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর পিতা আলী ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয্যাত্যাগ করলেন, অতঃপর মিসওয়াক করলেন এবং দুই রাকাত করে ছয় রাকাত নামায আদায় করে শয্যাগ্রহণ করলেন। কিছুক্ষণ পর পুনরায় শয্যাত্যাগ করলেন, মিসওয়াক করলেন এবং দুই রাকাত করে ছয় রাকাত আদায় করলেন। এরপর তিন রাকাত বিতর পড়লেন। এরপর আরো দুই রাকাত (অর্থাৎ ফজরের সুন্নত) আদায় করলেন।’ ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺪﻩ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻓﺎﺳﺘﻦ ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺛﻢ ﻧﺎﻡ ﺛﻢ ﻗﺎﻡ ﻓﺎﺳﺘﻦ ﺛﻢ ﺗﻮﺿﺄ ﻓﺼﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﺻﻠﻰ ﺳﺘﺎ ﺛﻢ ﺃﻭﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ ﻭﺻﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ . (সুনানে নাসায়ী ১/২৪৯) ১০. ইয়াহইয়া ইবনুল জাযযার রাহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে আট রাকাত নামায পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। অতঃপর ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায পড়তেন।’ ﻋﻦ ﻳﺤﻲ ﺑﻦ ﺍﻟﺠﺰﺍﺭ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺛﻤﺎﻥ ﺭﻛﻌﺎﺕ ﻭﻳﻮﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ ﻭﻳﺼﻠﻲ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻗﺒﻞ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ . (সুনানে নাসায়ী ১/২৪৯; শরহু মাআনিল আছার তহাবী ১/১৪০) ১১. সায়ীদ ইবনে জুবাইর রাহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামায তিন রাকাত পড়তেন, প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাছ পড়তেন।’ ﻋﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻮﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﺳﺒﺢ ﺍﺳﻢ ﺭﺑﻚ ﺍﻷﻋﻠﻰ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻗﻞ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻭﻥ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻟﺜﺔ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ . (সুনানে দারেমী ১/৩১১, হাদীস : ১৫৯৭; সুনানে তিরমিযী ১/৬১; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ৮৩; শরহু মাআনিল আছার তহাবী ১/১৪০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১/২৯৯; আল-মুহাল্লা, ইবনে হায্ম ২/৫১) ইমাম নববী ‘খুলাসা’ কিতাবে বলেন, ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ অর্থাৎ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত। (নাসবুর রায়া ২/১১৯) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ছাড়াও বিতরের তিন রাকাতে তিন সূরা পাঠের হাদীস যাঁরা বর্ণনা করেছেন তারা হলেন : ১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবযা রা.। (নাসায়ী ১/২৫১; তহাবী ১/১৪৩; ইবনে আবী শায়বা ২/২৯৮; আবদুর রাযযাক ২/৩৩) ২. হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা.। (নাসায়ী ১/২৪৮; ইবনে আবী শায়বা ২/৩০০) ৩. হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রা.। (তিরমিযী ১/৬১; আবদুর রাযযাক ৩/৩৪; তহাবী ১/১৪২) ৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.। (মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২৪১) ৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। (মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২৪১) ৬. হযরত নু’মান ইবনে বাশীর রা.। (মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২৪১) ৭. হযরত আবু হুরায়রা রা.। (মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২৪১) ৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.। (মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২৪১) ৯. হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রান.। (তহাবী ১/১৪২; ইবনে আবী শায়বা ২/২৯৮; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৪১; কানযুল উম্মাল ১/১৯৬) ১০. আবু খাইছামা রা. তাঁর পিতা হযরত মুয়াবিয়া ইবনে খাদীজ রা. থেকে। (মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৪১) ১১. আমির ইবনে শারাহীল শা’বী রাহ. বলেন,‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের নামায সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলেছেন, ‘তেরো রাকাত নামায পড়তেন। আট রাকাত তাহাজ্জুদ ও তিন রাকাত বিতর। অতঃপর সোবহে সাদেক হওয়ার পর আরো দুই রাকাত পড়তেন।’ ﻋﻦ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﻗﺎﻝ ﺳﺄﻟﺖ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻛﻴﻒ ﻛﺎﻥ ﺻﻼﺓ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍ ﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻓﻘﺎﻻ ﺛﻼﺙ ﻋﺸﺮﺓ ﺭﻛﻌﺔ، ﺛﻤﺎﻥ ﻭﻳﻮﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ، ﻭﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻔﺠﺮ . (তহাবী ১/১৩৬)