যৌন অনীহা ও ডিপ্রেশন?
ডিপ্রেশনের কারনে যে যৌন অনীহা আসে, ডিপ্রেশন সমস্যা ভালো হয়ে গেলে কি যৌন চাহিদা আগের মতোই আবার ফিরে আসবে? আমি কয়েক মাস যাবৎ ডিপ্রেশনে ভুগছি। এর কারনে যৌন চাহিদায় খুবই অনীহা ফিল করছি। কেমস যেন যৌন আকর্ষন পাচ্ছি না। কিন্তু লিঙ্গ ঠিকই শক্ত হয়। আমার ডিপ্রেশন সমস্যাটা কেটে গেলে কি আগের মতোই যৌন চাহিদা ফিরে পাবো?
1 Answers
নিজের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে ডিপ্রেশন কে প্রতিহত করতে হবে। ডিপ্রেশন দুর হলে যৌন জীবন ও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মাথা থেকে সব ঝেড়ে ফেলুন। আত্মবিশ্বাসী থাকুন, যে আপনার কোনো সমস্যাই নাই। নিয়মিত খেলাধুলা করুন, ব্যায়াম করুন। বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, আড্ডা দিন মন ফ্রেশ হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
যতো বেশী দুঃচিন্তা করবেন তত বেশী যৌন সমস্যা মনে হবে। তাই স্বাভাবিক থাকুন, প্রয়োজনীয় আরো কাউন্সেলিং এর জন্য একজন মনোবিধের পরামর্শ নিন।
কিছু টিপস অনুসরন করতে পারেনঃ
১. পর্যাপ্ত ঘুম : বিষণ্ণতার প্রথম এবং প্রধান কারণ হল ঘুমের অভাব। আপনাকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। ঘুমের ব্যঘাত শুধু আমাদের শারীরিক ভাবেই ক্ষতি করে না, এটা তৈরি করে মানসিক অবসাদ এবং বিষণ্ণতা। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে বিষণ্ণতা দূর করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
২. সঠিক খাদ্যভ্যাস : সঠিকভাবে খাদ্যগ্রহণ এই রোগ অনেকটা কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উপযুক্ত পরিমানে পুষ্টিকর খাবারের অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে, আর তাই তারা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খেতে বলেন বেশি করে।
৩. হাসি : এটা আমার মতে বিষণ্ণতা দূর করার অন্যতম উপায়। হাসিখুশি থাকুন, যত কষ্টই হোক। মানুষের জীবনে কষ্ট থাকবেই, এমন কাউকে পাবেন না, যার জীবনে কষ্ট নেই। কাজেই হাসুন, বিষণ্ণতাকে দূর করুন।
৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশে দূর হয় বিষণ্ণতা : গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিষণ্ণতা কমে। তাই কেউ আপনাকে সহযোগিতা করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
৫. অগোছালো পরিবেশ পরিহার করুন: যারা অগোছালো, তাদের এই বিষণ্ণতা বেশি হয়, সেটা হতে পারে কর্মক্ষেত্রে, হতে পারে নিজের বাসায়। তাই সব কিছু সাজানো- গোছানো রাখতে চেষ্টা করুন।
৬. গভীরভাবে শ্বাস নিন : এটা অনেকাংশে বিষণ্ণতা দূর করতে সক্ষম। ধীরভাবে দীর্ঘশ্বাস নিন, সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন।
৭. ধ্যান করুন : নিয়ম করে ধ্যান করলে বিষণ্ণতা কমে যায়। গবেষকরা বলেছেন যে, ধ্যান মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, চিন্তা দূর করে।
৮. দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করুন : আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করুন, এবং সেটা দীর্ঘমেয়াদী হতে হবে। আজ থেকে ৫ বছর পড়ে নিজেকে কোথায় দেখতে চান, এবং সেই লক্ষ্য তে পৌঁছতে হলে কি করা উচিৎ, সেগুলা নিয়ে ভাবুন। পরিকল্পনামত এগুলে বিষণ্ণতা গ্রাস করবে না।
৯. খেলাধুলা করুন : কাজের ফাঁকে কিছু সময় বাচ্চাদের সাথে খেলতে পারেন, কিংবা আপনার পোষা প্রাণীর সাথে সময় কাটান, বিষণ্ণতা আপনার কাছে আসবেনা।
১০. ইতিবাচক চিন্তা করুন : সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করবেন, কখনও নেতিবাচক কিছুকে কাছে আসতে দিবেন না।
১১. সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ান : আমরা সামাজিক জীব, বেঁচে থাকতে হলে আমাদের সবার সাথে মিশতে হবে। যারা হাসিখুশি থাকেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান , তাদের বিষণ্ণতা কম হয়। তাহলে আর কোন বিষণ্ণতা নয়, শুরু হোক সুস্থ- স্বাভাবিক জীবন। (সংগৃহীত Proramorsho.com)