3 Answers

হ্যা মেসি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে তবে আর্জেন্টিনার তারকা মেসি নয়।। অন্য একজন মেসি নামের খেলোয়ার ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে।

12871 views

না কথাটি সত্য নয়।

যদি সত্য হত তাহলে আমরা তার মাঝে ধর্মীয় কিছু দেখতে পেতাম,যেমন- দাড়ি থাকতো, নামাজ পড়তো, এবং যাকাত আদায় করতো, শালীন পোশাক পরিধান করতো ইত্যাদি।

12871 views

না। ঘটনাটি পুরো বানোয়াট। 

বিস্তারিতঃ

‘মেসি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন’ নামে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। ছবিতে লেখা রয়েছে আজেন্টিনার ‘বিরুদ্ধে’ গোল দিয়ে মাঠের মধ্যেই ‘শুকরিয়া নামাজে’ দাঁড়িয়ে গেলেন মেসি। (লিওনেল মেসি একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান) রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত ছবিতে লাইকের পরিমান ১১ হাজার ও শেয়ার ২৫০০।

প্রকৃত ঘটনাটি মোটেও সেরকম নয়। যারা ফুটবল খেলা দেখেন তারা প্রায়ই এই দৃশ্য দেখে থাকেন। ক্লান্ত হয়ে গেলে একজন খেলোয়ার এই ভঙ্গিতে একটু বিশ্রাম নেন। কিন্তু এই ভঙ্গিটি নামাজের রুকুর সাথে মিলে যাওয়ায় পোষ্টদাতা মেসি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে প্রচার করেছেন। ঘটনাটি সত্য না মিথ্য সেটা যাচাই করেন নি বা করতে চাননি। কারণ ১১ হাজার লাইকের একটা বানিজ্যিক মূল্য রয়েছে। তিনি এই মূল্যটি ব্যাবহার করতে চেয়েছেন কিনা জানিনা।

মজার বিষয় হচ্ছে পোষ্টদাতার বা যারা লাইক দিয়েছেন তাদের এই সাধারণ ধারণাটুকু নেই যে মেসি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয় পক্ষে খেলেন। অতএব তার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে গোল দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া তিনি সারা বছর বার্সেলোনা টিমে খেলেন। বার্সেলোনা নিশ্চয়ই আজেন্টিনার বিরুদ্ধে কোন ম্যাচ খেলে না। কারণ বার্সেলোনা একটি ক্লাব ফুটবল টিম, অপরদিকে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলটি একটি রাষ্ট্রীয় দল। যেমন: বাংলাদেশের জাতীয় টিম কখনোই আবহানী বা মোহামেডানের বিপক্ষে খেলবে না। এই ধারণাটুকু যার নাই তার পক্ষে যে কোন কিছু কল্পনা বা বিশ্বাস করাই সম্ভব।

আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে ১১ হাজারের বেশি মানুষ এটাকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এই ১১ হাজার মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুকের বাইরে আরো হাজার মানুষ থাকতে পারেন যারা ফেসবুকে থাকলে এটা লাইক করতেন। বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে এই মানুষগুলোকে কাল্পনিক যে কোন কথা বলে বিশ্বাস করানো যায়। কেউ একজন ইসলাম গ্রহণ করেছেন বা ইসলামের বড় উপকার করেছেন বলে জনসমর্থন তৈরি করা যায় আবার ইসলামের অপমাণ করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা যায়। কারণ সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের নূন্যতম যোগ্যতা হয়তো তারা রাখেন না।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩৪টি বসতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। যারা এই আক্রমণটি করেছে তারা এই ঘটনার সত্যমিথ্যা কিছুই যাচাই করেনি। হয়তো তারা কখনো ঘটনা যাচাইয়ের প্রয়োজনও মনে করেনি। অন্য ধর্মের প্রতি ক্রোধ ও নিজ ধর্মের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস কিছু মানুষকে আরো অন্ধকারে নিয়ে গেছে।

পৃথিবীর কোন প্রান্তে কেউ একজন ইসলাম ধর্মের অপমান করার কথা শুনলে তা নিয়ে আমাদের দেশে শুরু হয়ে যায় আন্দোলন। অতঃপর আন্দোলন রূপ নেয় মারামারিতে।

একটা বিনীত প্রশ্ন, কেউ ক্ষেপানোর চেষ্টা করলেই আপনি কেন ক্ষেপবেন? ঢাকায় বসে কেউ খ্রিষ্টান ধর্মের অপমান করলে কি সমস্ত ইউরোপ জুড়ে রাজপথে প্রতিবাদ হয়? কখনো কি দেখেছেন? আমার মনে হয় না। কারণ ওরা আমাদের এতোটা গুরুত্বই দেয় না। তাই আমাদের করা অপমানে তাদের কিছু যায় আসে না।

ইসলাম ধর্মকে যারা ভালমতো জানেন না, দুর থেকে দেখেন, এই ঘটনায় তাদের কাছে ইসলামের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। বুঝে না বুঝে জেনে বা না জেনে ইসলাম সম্পর্কে নিজের ইচ্ছামতো বর্ণনা করে এর অবমূল্যায়ন করেছেন এই ধরণের  ফেসবুকে পোষ্টদাতা ও লাইকদানকারী।


image

12871 views

Related Questions