1 Answers

জেনে নিন বাসে নামাজ পড়ার বিস্তারিতঃ

আযীযুল্লাহ আশরাফ : নামাজে সমস্যা হতে পারে এমন সময় গাড়িতে উঠা ঠিক নয়, তবে প্রয়োজনে রওনা করতে হলে যেন নামাজ কাযা না হয় এ ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে।

কখনো যথা সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে নামাজ পড়া সম্ভব না হলে গাড়ি থামিয়ে অজু করে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবেন। তা সত্ত্বেও যথাযথ পদ্ধতিতে অর্থাৎ অজু করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে তায়াম্মুম করে ছিটে বসে হলেও নামাজ পড়ে নিবেন। অন্যথায় তায়াম্মুম করা ছাড়াই নামাজির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে। তবে সর্বাবস্থায় ওই নামাজ পুণরায় পড়ে নিতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চলন্ত জাহাজ, উড়ন্ত বিমান এবং চলন্ত বাস ও ট্রেনে নামাজ আদায় করার বিধান কী?

চলন্ত জাহাজ, বিমান ও ট্রেনে দাঁড়িয়ে রুকু সিজদার সাথে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে কিবলার দিক ঠিক করে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ দ্রুত ফরয নামাজ আদায় করে নিবে। এক্ষেত্রে নামাজের মধ্যে বাহন ঘুরে গেলে নামাজীও কিবলার দিকে ঘুরে যাবে। এভাবে নামাজ পড়তে পারলে পরবর্তীতে এ নামাজ আর কাযা পড়তে হবে না। কিন্তু এসকল অবস্থায় কারো দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা কষ্টসাধ্য হলে সে বসে বা যেভাবে সম্ভব সেভাবেই নামাজ আদায় করে নিবে এবং পরবর্তীতে এ নামাজ কাযা করে নিবে।


আর বাসে যেহেতু দাঁড়িয়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা যায় না তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস থেকে নেমে নামাজ আদায় করতে হবে। যেমন-ঢাকার ভিতরেই মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ি, সাভার থেকে ঢাকা ইত্যাদি যাতায়াতের সময় গন্তব্যস্থলে পৌঁছে নামাজের সময় থাকবে না মনে হলে স্বভাবিক অবস্থায় পথিমধ্যে নেমে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। কিন্তু দূরদূরান্তের সফর যেখানে পথিমধ্যে বাস ছেড়ে নামাজের জন্য নেমে গেলে অসুবিধায় পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে এবং বাস তার জন্য অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত নয় সেক্ষেত্রে এ অবস্থায় সম্ভব হলে দুদিকের সিটের মাঝে কেবলামুখী হয়ে রুকু সেজদাসহ পূর্ণাঙ্গরূপেই নামাজ আদায় করতে হবে।

অবশ্য এতে যদি দাঁড়ানো থেকে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে কিছুতে হেলান দিয়ে বা হাতে ধরেও অবস্থান করা যাবে এবং প্রয়োজনে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধা বা রুকু অবস্থায় হাঁটুতে হাত রাখা না গেলেও অসুবিধা নেই।

আর যদি কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পূর্ণরূপে রুকু সেজদা করা না যায়, যেমন গাড়ি দক্ষিণমুখী বা উত্তরমুখী হয় তাহলেও কেবলামুখী দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে এবং যথারীতি রুকু করে সিজদার সময় পেছনের সিটে বসে সামনের সিটে সিজদা করবে। এক্ষেত্রে সামনের সিটে সিজদার সুযোগ না থাকলে বসে ইশারায় সিজদা করবে।

আর যদি পেছনের সিটে বসার সুযোগ না থাকে তাহলে শুরু থেকেই পুরো নামাজ নিজের সিটে কেবলমুখী বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে আদায় করবে। এ ছাড়া কেবলামুখী হওয়া বা দাঁড়ানো যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে সম্ভব সেভাবেই আদায় করে নিবে।

উল্লেখ্য, যে অবস্থায় দাঁড়ানো বা কেবলামুখী হওয়া সম্ভব না হয় সে অবস্থার নামাজ পুনরায় পরবর্তীতে কাযা করে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে, বাসের মালিক/চালকগণ যেন নামাজের সময়গুলোতে কোনো মসজিদে অন্তত ফরয পড়ার জন্য নিয়মিত বিরতি দেয় সে ব্যাপারে যাত্রীদের সচেতন হওয়া আবশ্যক। মাআরিফুস সুনান ৩/৩৯৪-৯৬; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৮৮. ১/২৯১; রদ্দুল মুহতার ২/১০২

2949 views

Related Questions