3 Answers
মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে বিদ্যুত্ চমকায় এবং কম্পনের সৃষ্টি হয় (যেহেতু মেঘের কণা বা পানিগুলো থাকে কঠিন অবস্থায়) । আর এই কম্পন থেকেই আওয়াজ বা শব্দের সৃষ্টি হয় ।
আসলে বিদ্যুৎ চমকানোর কারনে আওয়াজ হয় না। দেখে তা মনে হলে আসলে যা ঘটে তা হলো যে মেঘের অংশ বিশেষের মধ্যে যখন সংঘর্ষ হয় তখন শব্দ আর ঘর্ষন বিদ্যুৎ এক সাথেই উৎপন্ন হয় কিন্তু আলো শব্দের চেয়ে বেশি গতি সম্পন্ন হয় তা আগে দেখা যায় এবং একটু পরে শোনা যায়। এভাবে মনে হয় যে আলোই শব্দে তৈরী করছে।
মেঘের ভেতরের পানি ও বরফকণার ঘর্ষণ এবং অন্যান্য কারণে মেঘের নিচের দিকে ঋণাত্মক ও ওপরের দিকে ধনাত্মক বিদ্যুৎ চার্জের সমাবেশ ঘটে। দুই বিপরীতধর্মী চার্জের পারস্পরিক আকর্ষণে মেঘের দুই পিঠের মধ্যে একটি বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি হয়। সৃষ্ট বিদ্যুৎক্ষেত্র বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠলে মেঘের এপিঠ-ওপিঠের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এটা একই মেঘের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু অন্যদিকে মেঘের নিচের দিকের ঋণাত্মক বিদ্যুৎ চার্জের আকর্ষণে মাটিতে ধনাত্মক চার্জের সমাবেশ ঘটে এবং এ দুয়ের মধ্যেও একটি বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি হয়। বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী হওয়ায় মেঘের বিদ্যুৎ মাটিতে আসতে পারে না। তবে মেঘে অনেক বেশি চার্জ জমা হলে একপর্যায়ে মাঝখানের বাতাসের বাধা অতিক্রম করে ঋণাত্মক বিদ্যুৎ চার্জ মাটিতে সঞ্চিত ধনাত্মক বিদ্যুতের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য একটি প্রবাহ লাইন সৃষ্টি করে। প্রথমে মেঘের কিছু বিদ্যুৎ চার্জ নিচে নামতে শুরু করে। একে বলে ‘স্টেপড লিডার’। আঁকাবাঁকা পথে ধাপে ধাপে এই বিদ্যুৎ নিচে নামতে থাকে। প্রতিটি ধাপ প্রায় ৫০ গজ দীর্ঘ এবং এগুলো এক সেকেন্ডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ সময় স্থায়ী হয়। স্টেপড লিডারে কয়েক টন ঋণাত্মক বিদ্যুৎ থাকে। এরা ধাপে ধাপে নামতে থাকলে এর প্রভাবে মাটি থেকে ধনাত্মক বিদ্যুৎ উঁচু গাছ, ঘরবাড়ি বা টাওয়ার বেয়ে ওপরের দিকে উঠে ওদের সঙ্গে মিলিত হয়। এভাবেই ঊর্ধ্বমুখী ধনাত্মক চার্জের প্রবাহ ও নিম্নমুখী ঋণাত্মক চার্জের সম্মিলনে শক্তিশালী বিদ্যুৎ প্রবাহ লাইন সৃষ্টি হয়। তখনই বিদ্যুৎ চমকায় ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত ঘটে।