বিয়ের পূর্বে ছেলেদের প্রস্ততি...?
5 Answers
বিয়ে মানেই নানা ধরনের প্রস্তুতি। আয়োজন চলতে থাকে দিওনের পর দিন। এসব প্রস্তুতির তোড়জোড়ে হয়তো বর—কনের মনের খবর জানার অবকাশ হয় না। অনুষ্ঠান আয়োজন কিংবা আনুষঙ্গিক বিষয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এসবের সঙ্গে যে বর—কনের মানসিক প্রস্তুতির দরকার হয়, তা অনেকেই জানেন না। প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ে আমরা আগেরভাগে প্রস্তুতি নিই। কিন্তু বিয়ের মতো বিষয়ে ছেলেমেয়ের আগাম কোনো মানসিক প্রস্তুতি থাকে না। নানাভাবে বিয়ে হয়। পারিবারিক ভাবে আয়োজিত, যেখানে হয়তো ছেলেমেয়ে পরস্পরকে জানার সুযোগ হয় না। আবার প্রেমের বিয়ে পরবর্তী সময় সেটি হয়তো পরিবারের সম্মতিতেই হয়। এ ধরণের বিয়েতে অভিভাবকেরা মনে করেন, যেহেতু তারা পূর্বপরিচিত, তাই নতুন করে প্রস্তুতির দরকার কী। এ ধারণা ঠিক নয়। যতই চেনাজানা হোক না কেন, বিয়ের পর বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হতে হতে হয়। তখন স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় কারও । তাই বিয়ের আগে থেকে রোমান্টিকতার পাশাপাশি বাস্তবিক চিন্তাগুলোক্ব করতে হবে। মেয়ে বা ছেলে আগে থেকেই বুঝবে না। তাই মা কিংবা কাছের অভিজ্ঞ কেউ তাকে ইতিবাচকভাবে জীবনের বাস্তবতা বুঝিয়ে বলতে পারে। ছেলেমেয়ে দুজনকেই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে। তা হলে দাম্পত্য জীবনে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা যাবে। নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজের স্বভাবের কোনো নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। পারিপার্শ্বিকতার ভিন্নতা থাকে। প্রতিটি পরিবারের আলাদা নিয়মকানুন, আচার-ব্যবহার থাকে। সেসব আগে থেকে একটু জানলে পরবর্তী সময় নতুন সদস্যের বুঝতে সহজ হয়। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে, তা নয়। ছেলেটিকেই বরং সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে। মেয়েটি সব ছেড়ে তাদের পরিবারে আসছে। ছেলেটির পরিবারকে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেকে বোঝাতে হবে সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া না করতে। যেকোনো সমস্যা হলে তারা যেন খোলাখুলি আলোচনা করে নেয়। শাশুড়ি নিয়ে অনেক মেয়ের মন শঙ্কা থাকে। বিয়ের আগে সুযোগ থাকলে মেয়ের সঙ্গে ছেলের পরিবার কথা বলে নিতে পারেন। তবে শুরুতেই মেয়েকে নেতিবাচক কোনো বিষয় বলা উচিত নয়। আসলে মানসিক প্রস্তুতিটা নেওয়া দরকার বিয়ে—পরিবর্তী জীবনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। শুধু মানসিক নয়, শারীরিক প্রস্তুতিটাও নিতে হবে। দাম্পত্য জীবনে শারীরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কাছের কেউ বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে। ছেলের বিয়ের আগেই পরিবারের সদস্যদের মন—মানসিকতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ছেলের স্ত্রিকে নিয়ে তারা যেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হন। এমনকি ছেলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কল্পনা আর বাস্তবতা মিলে যায় না। তখন সমস্যার সৃষ্টি হয়। একটু সচেতন, সহযোগিতাপরায়ণ ও বোঝাপড়া ভালো হলে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হতে বাধ্য। এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
জন্ম ও মৃত্যুকে বাদ দিলে আমাদের মানব জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে বিয়ে। আজকাল ডিভোর্সের হার আশঙ্কাজনক জনক হারে বেড়ে গেলেও বিয়ে আসলে এমন কোন বিষয় নয় যে চাইলেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। বরং একটি বিয়ে ভাঙা বিয়ে করার চাইতেও অনেক বেশি কঠিন একটি কাজ। আর তাই, বিয়ে করার আগে চতুর্দিকে সবকিছু ভালমত ভেবেচিন্তে তবেই করা উচিত। মনে রাখবেন, বিয়ের ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঠিক সময়ে বিয়ে করলে আপনার জীবনটি যেমন হয়ে উঠবে আরও সুন্দর, ঠিক একইভাবে ভুল সময়ে বিয়ে ডেকে আনবে সর্বনাশ। আজ জেনে নিন, জীবনে কোন কাজগুলো করার আগে বিয়ে করাটা একেবারেই উচিত হবে না।
১) অতীতের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছেদ করার আগে
অতীত সকলেরই আছে। কিন্তু অতীত সম্পর্কের সকল চিহ্ন নিজের জীবন ও মন থেকে না মুছে বিয়ে করতে যাওয়াটা বোকামি। বিয়ে করলে ভুলে যাব- এই ধরণের মনোভাব রাখাটাও ঠিক নয় আসলে।
২) কারো চাপে নয়, একদম নিজের ইচ্ছা মানসিকভাবে প্রস্তুত হবার আগে
আমাদের সমাজে বিয়ে করার জন্য একটা পারিবারিক চাপ দেয়া হয় সব সময়েই। অনেক ক্ষেত্রে তো রীতিমত ইমোশনাল ব্ল্যাক মেইল করা হয়। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকারাও চাপ প্রয়োগ করেন বিয়ে করার জন্য। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বিয়ে তখনই করবেন যখন আপনার মন বলবে।
৩) লেখাপড়া শেষ না করে
লেখাপড়া শেষ না করে বিয়ে করার কথা ভাববেনও না আজকালকার আধুনিক জীবনে। পরিণত বয়সের জন্য অপেক্ষা করুন।
৪) আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হবার আগে
আপনি নারী হোন বা পুরুষ, বিয়ের আগে নিজের ক্যারিয়ারটা অবশ্যই গড়ে নেবেন। এতে জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হবে।
৫) প্রেমের সম্পর্কে মানুষটিকে ভালো মত জেনে-বুঝে নেয়ার আগে
প্রেম করছেন? খুব ভালো কথা, করুন। তবে মানুষটিকে একদম ভালো করে জেনে ও বুঝে ওঠার আগে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন না মোটেও।
৬) পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো করে খোঁজ খবর না নিয়ে
বিয়ে প্রেমের হোক বা পারিবারিক, পরিবার ও পরিবারের মানুষদের সম্পর্কে খুব ভালোমত খোঁজ নিন।
৭) সংসারের জন্য যথেষ্ট সঞ্চয় না করে
নতুন জীবন গড়তে গেলে অর্থের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। এবং সেটা বেশ ভারী একটা অংক। আর তাই, পর্যাপ্ত পরিমাণ সঞ্চয় না করে বিয়ে করতে যাবেন না।
বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে একজন নারী এবং একজন
পুরুষের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য এক সামাজিক সম্পর্ক
সৃষ্টি হয়। আর এক সময় এই সম্পর্কের
মাধ্যমেই নারী ও পুরুষের ঔরসজাত হয়ে
পৃথিবীর মুখ দেখে নতুন প্রজন্ম। তাই বিয়ের
আগে বর এবং কনে উভয়কেই কিছু ডাক্তারি
পরীক্ষা করিয়ে নিলে সেটা তাদের এবং
আগামী ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও বেশ মঙ্গল
জনক হয়ে থাকে। তার জন্য কি কি করা যেতে
পারে এবং তাতে কি পরিমান উপকার নিহিত রয়েছে -
আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখি।
বিয়ের পূর্বে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা :-
একথা আমরা সকলেই জানি যে, অপ্রাপ্ত বয়সে
বিয়ে করার ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের
স্বাস্থ্যেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা পরবর্তীতে
সন্তানের ওপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার পূর্বে
স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই বয়স ভালো করে যাচাই
করে নেওয়া দরকার। মেয়েদের ক্ষেত্রে
নিয়মিত মাসিক হওয়া, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য সব
ধরনের টিকা দেওয়া আছে কিনা এবং পুরুষদের
ক্ষেত্রে বিড়ি-সিগারেট, মদ ও অন্যান্য
নেশাজাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা তা
আগে থেকেই জেনে নেয়া দরকার। এসব
ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা
পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও এর কুফল পরবর্তী
প্রজন্মের উপরও পড়ে। এছাড়া শারীরিক উচ্চতা,
রক্তচাপ, ওজন এসব দিকও সম গুরুত্বের সাথে
বিবেচনা করা দরকার।
বিয়ের বয়স :-
বিয়ের বিষয়ে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
বেশি বয়সে বিয়ে করার ফলে ছেলেদের
ইনফার্টিলিটি অথবা বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে
হলে সন্তান মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিসহ
প্রতিবন্ধীও হওয়ার ঝুকি রয়েছে। ত্রিশ বছরের
পর মেয়েদের প্রথম সন্তান নেওয়া খুবই
ঝুকিপূর্ণ। তাই এসব দিক বিবেচনা করে বিয়ের
আগে বয়সের দিকটা ভালো করে বিবেচনা
করতে হবে। কেননা এর সাথে আগামী
প্রজন্মের ভাগ্যও জড়িত।
বয়সের দিক ভাবতে গিয়ে অতি অল্পবয়সে
মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কম বয়সে
মেয়েদের গর্ভধারণ মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। অল্প
বয়সে সন্তান ধারণের ফলে আমাদের দেশে
অনেক মেয়ের অকালমৃত্যু ঘটছে। এছাড়া
ছেলে-মেয়ের বয়সের পার্থক্যের দিকটিও
সমানভাবে নজড় দিতে হবে। ছেলে ও মেয়ের
বয়সের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পরবর্তীতে
সংসার জীবনে একে অপরের বোঝাপড়াটা
ঠিকমতো হয় না। যার ফলে সংসারের নানা ধরনের
অশান্তি লেগেই থাকে। তাই সবদিক বিবেচনা করে
বিয়ের আগে এই বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে
পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
রক্তরোগ ঝুকি :-
একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে
রোগ জীবাণু ছড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম
হচ্ছে রক্ত। এটির মাধ্যমে সহজেই রোগজীবাণু
একাধিক দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিয়ের আগে
নারী ও পুরুষ উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে
নেওয়া ভালো। সাধারণত যাদের রক্তে আরএইচ
(RH) ফ্যাক্টর নেই তারা নেগেটিভ গ্রুপের
রক্তধারী। যেমন- এ নেগেটিভ, এবি নেগেটিভ।
পজিটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের সাথে যদি
এই নেগেটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের
বিয়ে হয় তাহলে সন্তান জন্মদানের সময় দুর্ঘটনার
আশংকা সৃষ্টি হয়। যেমন- অকাল গর্ভপাত হওয়া, শিশুর
মৃত্যু হওয়া, জন্মগ্রহণকারী শিশুর হিমোফিলিয়া,
থ্যালাসেমিয়া দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। এসব
অনাহুত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয়
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধ্যাত্ব সমস্যা :-
আমাদের দেশে অসংখ্য নারী ও
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নামক এক ধরনের রোগে আক্রান্ত
হন। এনিয়ে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কারও
রয়েছে। যৌন অক্ষমতা, অ্যাজোসপারমিয়া এবং সন্তান
ধারণে অক্ষমতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বন্ধ্যাত্ব পুরুষ ও নারী উভয়েরই হতে পারে। এ
ধরনের সমস্যা পরবর্তীতে সংসার জীবনে নানা
ধরনের অশান্তির সৃষ্টি করে। আমাদের বর্তমান
সমাজ জীবনে বিয়ের আগে এই ধরনের
কোনো পরীক্ষা করার ব্যবস্থা না থাকলে
আপাতদৃষ্টিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা
পাওয়ার জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
বংশগত রোগ :-
রোগের জীবাণু বহনকারী পুরুষ ও মহিলার
ঔরসজাত সন্তানও জন্মের সময় মায়ের গর্ভ
থেকেই সেই রোগের জীবাণু নিজের
শরীরে বহন করে নিয়ে আসে। যা
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার মাঝে প্রকাশ
পেতে থাকে। সাধারণত মা-বাবা দুজনের অথবা যে
কোনো একজনের জীন থেকে সন্তান এই
রোগের ধারক হন। বংশগত রোগগুলোর মধ্যে
রয়েছে – মৃগী, ডিপ্রেশন, কার্ডিওভাসকুলার
ডিজেস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক
ধরনের ক্যান্সার যেমন – ফুসফুসের ক্যান্সার,
কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ডাযাবেটিস,
আর্থাইট্রিস, গ্লুকোমা, ওবেসিটি,
অস্টিওপোরেসিস, অ্যাজমা, মানসিক অসুস্থতা, প্রভৃতি।
সবক্ষেত্রে বংশগত রোগ শারীরিকভাবে প্রকাশ
নাও পেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে
শারীরিকভাবে প্রকাশ হয় না সেসব রোগের
জন্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই গোত্রের
ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ে হলে বিয়ের
আগে শারীরিক পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু
কিছু ক্ষেত্রে বংশগত রোগ দ্বারা সন্তানদের
আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়।
যেমন – হিমোফেলিয়ার বা রক্ত জমাট বাধার সমস্যা,
কালার ব্লাইন্ডনেস প্রভৃতি রোগ সাধারণত
মায়েদের থেকে ছেলে সন্তানদের উপর
প্রভাব বিস্তার করে। এসব রোগ দ্বারা কন্যা
সন্তানদের প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা
নেই। এ ধরনের রোগ মহিলাদের মধ্যে পরিবাহিত
হলেও তাদের নিজ দেহে তা প্রকাশ পায় না।
পরবর্তীতে তা তার ছেলে সন্তানের দেহে
প্রকাশ পায়। তাই বিয়ের পূর্বে রক্ত ও টিস্যু নিয়ে
ডিএনএ পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াই
ভালো।
যৌন-সংক্রান্ত রোগ :-
নারী বা পুরুষের পূর্বে কোনো যৌন রোগ
থাকলে বিয়ের পর তাদের শারীরিক সম্পর্কের
ফলে ঐই রোগের জীবাণু একজনের শরীর
থেকে আরেকজনের শরীরে মিশে যায়।
সিফিলিস, গনোরিয়া, শ্যানক্রয়েড, জেনিটাল হারপিস সহ
মরনঘাতী এইডসও এই পক্রিয়ায় একজনের শরীর
থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়।
পরবর্তীতে এসব রোগের প্রভাব পরবর্তী
প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ের পূর্বে
এসকল বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলে
অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তবে ডাক্তারি পরীক্ষার ফলাফল যাই আসুক না কেন
সেটির উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে কীভাবে
সেই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় সেই চেষ্টা
করে সামনের দিকে এগুনোটাই হবে বুদ্ধিমানের
কাজ। তাছাড়া আমাদের বর্তমান সামাজিক
কাঠামোয় কতজন এই পদ্ধতি মেনে চলবেন সে
বিষয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। তবে
বিষয়গুলো মেনে চললে আমাদের সকলেরই
উপকার ছাড়া কোনো অপকার হবে না এ বিষয়ে
অন্তত আমাদের সাথে একমত হবেন আশা করি।
সংগৃহীত: Bissoy Answers
বিয়ে করার পূবে এই বিষয় গুলোর প্রতি আবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে । তাহলে বিয়ের পর অনাকাঙ্ক্ষিত কলহ- বিবাদ ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। বিয়ে করার পূর্বে নিজেকে একজন আসামী বানিয়ে নিজের মনের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে নিচের বিষয়গুলো জিজ্ঞাসা করবেন: আমি কি আসলেই আমার জীবনটা অন্য কারো সাথে ভাগাভাড়ি করতে প্রস্তুত? আমার কি এখনই পরিবার গঠন ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার সময় হয়েছে? বিয়ে পরবর্তী সময়ে আমি কি পারবো পরিবারের হাল ধরতে? আমি কি আমার জীবন সঙ্গীনীর সাথে সব বিষয় ঠিকঠাকমত মানিয়ে নিতে পারবো? উপরোক্ত বিষয়গুলোতে আপনার মন থেকে আপনা আপনি যে উত্তর আসবে সে মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রতিটি মানুষের জন্যই ভালো। মতের বিরুদ্ধে কোনো কাজই জীবনে সুখকর হয় না। বিয়ে পরবর্তী সময়ের কিছু গরুত্বপূর্ণ দিক দুজন অপরিচিত ছেলে-মেয়ে একসাথে থাকার অভিপ্রায়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মাধ্যমে দুটি পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় আত্মীয়তার সেতু বন্ধন। তাই বিয়ের পর ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই দুই পরিবারের সাথে মানিয়ে নিতে হয়। মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনোরকম ব্যতয় ঘটলে উভয় পরিবারে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাই বিয়ের পর এই বিষয়টি ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে।
বিয়ের আগে বব্লাড গগ্রুপ মমেপে নিন।। স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, তাহলে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। অর্থাৎ একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারী কেবলই একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষকে বিয়ে করাই নিরাপদ। বিশেষ কোন রোগ আছে কি না আমাদের সমাজে এর তেমন প্রচলন না-হলেও বিয়ের আগেই ছেলে এবং মেয়ের মেডিক্যাল টেস্ট করা জরুরি। এইডস, হেপাটাইটিস বা কোনও যৌন রোগ আছে কি না, তা জানা খুবই দরকার। যাতে তাঁর সঙ্গী সেই রোগে আক্রান্ত না-হয়। তাই বিয়ের আগে অবশ্যই মেডিক্যাল টেস্ট করান। নিজর কোনও রোগ থাকেলে ঔষুধ খাবেন।। ভয় পেলে চলবে না।।বডি ল্যাঙ্গুয়েজেটাকে ভাল রাখবেন।। আর বিয়ের আগে কোন কর্মে জরিত থাকা উচিত।।ভাল বড় ধরনের একটা বিয়েতে মহারনা সহ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে।।
বিয়ের পিড়ি তে বসার আগে ভেবে দেখুন, আপনি এত বড় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন কিনা। বিয়ে কোন ছেলে খেলা নয়। একজন মানুষের সুখ-দুঃখের সম্পূর্ন ভাগীদার হতে হবে আপনাকে। চাইলেই অবহেলা করে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। ঘরের কাজ হোক বা বাইরের, একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। বসে বসে আদেশ করলেই হবে না; নিজের ইচ্ছা খুশি মত চলা যাবে না।
আপনি আর্থিকভাবে সচ্ছল তো?
সুস্থ সুন্দর বৈবাহিক জীবনের জন্য ভালোবাসার কোন বিকল্প নেই, তাই বলে টাকার কোন প্রয়োজন নেই এটা চিন্তা করা বোকামি। এতে কোন ভাল ফল আসবে না। সাংসারিক জীবনে টাকা বা আর্থিক সচ্ছলতার গুরুত্ব অনেক। বিয়ের প্রস্তুতি নেয়ার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো আর্থিক সচ্ছলতা আনায়ন।
দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া আছে তো?
যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন তার সাথে আপনার বোঝাপড়া কেমন সেটা লক্ষ্য রাখুন। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা না করলে সে সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
দুজনের পছন্দ-অপছন্দ, কথা-বার্তা সব একই হতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে দুজন একসাথে করতে পছন্দ করে এমন কিছু না থাকলে সাংসারিক জীবন নিস্তেজ হয়ে পরে। স্ত্রী চাকরি করবেন কিনা, সে যৌথ পরিবারে থাকতে চায় কিনা, স্বামীর কোন ব্যাপারে স্ত্রীর অভিযোগ আছে কিনা সব কিছু আলোচনা করে নেয়া ভাল।
পরিবারকে প্রাধান্য দিন !
অনেকে ভাবেন বিয়ে তো আমাদের দুজনের মধ্যে। আমাদের বাবা-মার তাতে কোন সমস্যা থাকার কথা না। সারা জীবন আমাদের দুই জনকে একসাথে থাকতে হবে। আমাদের বাবা-মার তো আর থাকতে হবে না।
এটা সত্যি যে সারা জীবন আপনাদের দুজনকেই একসাথে থাকতে হবে, কিন্তু তার মানে এই না যে আপনার পরিবার এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। আপনি যতটা ভাবছেন, তার থেকেও প্রায় কয়েক গুণ বেশি সম্পৃক্ততা তাদের আছে। সুতরাং পরিবার পরিজনদের অবহেলা করে বিয়ে করা উচিৎ হবে না।
কবে বাচ্চা নেবেন?
বিয়ের কয় বছরের মধ্যে সন্তান নিতে চান এবং কয়টি সন্তান নিতে চান, বিয়ের প্রস্তুতি হিসেবে সে সব বিষয়ে আলোচনা করে রাখা ভাল। অনেক ছেলে মেয়ে খুব বেশি মাত্রায় ক্যারিয়ার সচেতন হয়ে থাকে। তাই একটা পর্যায়ে না পৌঁছে তারা সন্তান নিতে চায় না। আবার কিছু মানুষ আছে যারা বিয়ের ২-১ বছরের মধ্যেই সন্তানের বাবা মা হতে চায়। সন্তান নেয়ার সময়ের ব্যাপারে আপনারা এক মত তো? আলোচনা করে নিন।
বিয়ের পর কোথায় থাকবেন?
বিয়ের পর কোথায় বাস করবেন সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ভাল। চাকরির বা অন্য কোন কারণে দুজনের দুই স্থানে থাকতে হলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুধু কেনাকাটা করাই বিয়ের প্রস্তুতি নয়। বিয়ের আগে মানসিক ও আর্থিকভাবেও প্রস্তুত থাকাটা জরুরী। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও রেষারেষি এড়াতে আগে থেকেই এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দেয়া জরুরী।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy