অল্প বয়সে চুল পরার সমস্যা?
5 Answers
গৃহ চিকিৎসা ১: গরম তেল মালিশ চুলে তেল দেয়ার সময়, একে আপনি এর জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান দিচ্ছেন। এটি ব্যবহারে একটি উজ্জ্বল ভাব এনে দেয়। ত্বকের কারণে অনেকে নিয়মিত চুলে তেল দিয়ে মালিশ করার অনুভুতি উপভোগ করতে পারেন না। দৈনিক কয়েকবার চুলে তেল না দিয়ে, সহজেই আপনি মাথায় একবার গরম তেল মালিশ করতে পারেন। নারিকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, এবং এমনকি জলপাই তেলও কোন কোন প্রকারের চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার চুলকে পুষ্টি যুগিয়ে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। ফলাফল স্বরূপ, এসকল চুল বৃদ্ধিকারক তেলের কারণে আপনার চুল আরও দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। গৃহ চিকিৎসা ২: আলু আপনি হয়ত বিস্মিত হবেন, “আলু? কিভাবে আলু আমার চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করবে?” বিস্ময়কর মনে হলেও, চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আলু একটি উপযুক্ত উপাদান। এখন, আপনি একটি আলু নিয়ে মাথায় ঘষে সহজেই ফলাফল আশা করতে পারেন না, এটা কার্যকরী হওয়ার জন্য আপনাকে তিনটি আলু নিয়ে জুসারে দিয়ে রস বের করে তা ছেঁকে নিতে হবে। এরপর অবশ্যই এতে একটি ডিমের কুসুম, অল্প একটু পানি, এবং এক চা চামচ মধু যোগ করতে হবে। এই মিশ্রণটি নিয়ে ভেজা চুলে প্রয়োগ করতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে আলতো ভাবে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার করে এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এটা একটি অন্যতম কার্যকরী গৃহ চিকিৎসা এবং করা সহজও বটে। আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পাবেন। গৃহ চিকিৎসা ৩: পিয়াজ! হ্যাঁ, পিয়াজ। এটি অপর একটি খাদ্যপন্য যা আপনার চুলের জন্য উপযুক্ত এবং যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবান হতে সাহায্য করবে। যখন আপনার চুল এর সর্বচ্চো ভাল স্বাস্থ্যে থাকবে, তখন এর কারণে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিপূর্ণ হবে। এটি একটি অন্য প্রকার মিশ্রণ যা চুলে অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে এবং তা প্রতিবার আপনার চুল ধোয়ার সময়। তবে, এ মিশ্রণটি আপনি যদি চুলে রঙ করার সামগ্রী ব্যবহার করেন তবে ব্যবহার করা উচিত হবে না কারণ এতে করে রঙ উঠে যেতে পারে। প্রথমে, ৪ কোষ রসুন, ২ টুকরা দারুচিনি, এবং একটি লাল পিয়াজ নিন। এগুলি নিয়ে সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা হতে দিন। এটি ঠাণ্ডা হলে মিশ্রণটি সমস্ত চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে ১৫ মিনিট বসে থাকতে দিন, তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। এটা করার কারণে আপনার চুল আরও ঘন হবে এবং এর ডগা গুলি ফেটে যাবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদী ভাবে আপনার চুলকে দীর্ঘায়িত করবে। এটি আপনার চুলকে আরও দ্রুত হারে ঘন করে তুলবে। এসকল পুষ্টি উপাদান এবং ভিটামিন চুলকে দিয়ে আপনি একে আরও দ্রুত বাড়তে সাহায্য করতে পারেন এবং এর সাথে এগুলি স্বাস্থ্যবান এবং পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ক্যাস্টর অয়েল কোন অপরিচিত জিনিস নয়, বরং অনেকেই চেনেন। কিন্তু এটা জানেন না যে নতুন চুল গজাতে এই তেল দারুণ উপকারী। ক্যাস্টর অয়েলে আছে রিসিনোলেইক এসিড যা নতুন চুল, ভ্রু, চোখের পাপড়ি গজাতে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়াও চুলের রুক্ষ্মতা দূর করে চুলকে মোলায়েম করে তুলতে সহায়তা করে এই তেল। কীভাবে ব্যবহার করবেন? ক্যাস্টর অয়েল একটানা ব্যবহার করলে হবে না, করতে হবে নিয়ম মেনে। সপ্তাহে একদিন করে টানা ৮ সপ্তাহ ব্যবহার করুন এই তেল। ক্যাস্টর অয়েল মধুর মত ঘন, প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হতেই পারে। ব্যবহার করার পদ্ধতি বেশ সোজা। ক্যাস্টর অয়েল নিন, এতে যোগ করতে পারেন একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতরকার তরল। চুল লম্বা হলে একাধিক ক্যাপসুল দিন। এরপর এত তেল রাতে ঘুমাবার আগে ভালো করে মাথায় মাখুন। বিশেষ করে চুলের গোঁড়ার ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। সারারাত এই তেল চুলে থাকতে দিন। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। কোন বাড়তি কন্ডিশনার লাগবে না।
পানি চুল পড়ার জন্য দায়ী কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে আপনার শরীরের পানি ঘাটতি বা কম পানি পান করার প্রবণতা। চুল পড়া রোধ করতে চাইলে সবার আগে শরীরকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করুন। আপনার এই ছোট্ট চেষ্টা টুকুই চুল পড়া কমিয়ে তুলবে। তেল ম্যাসাজ চুল পড়া কমাতে আপনার জন্য আরও একটি কার্যকরী টিপস হলো চুলে তেল ম্যাসাজ করা। দিনে কিছুটা সময় নিয়ে আপনার মাথায় এসেন্সিয়াল অয়েল যেমন বাদাম তেল, অলিভ অয়েল বা নারিকেল হালকা ম্যাসাজ করুন। এতে মাথার ত্বক সুস্থ থাকবে ও চুল পড়ার পরিমাণ কমে আসবে। ভেজা চুল না আঁচড়ানো যাদের চুল পড়ার পরিমাণ বেশী তাদের জন্য একটাই পরামর্শ তা হল ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। ভেজা অবস্থায় চুল ভীষণ দুর্বল থাকে আর অল্প একটু টান পড়লেই চুল গোঁড়া থেকে উঠে আসে। তাই চুল আগে ভালভাবে শুকিয়ে তারপর আঁচড়ান। আর চেষ্টা করুন বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের রস চুল পড়া প্রাকৃতিক উপায়ে বন্ধ করতে চাইলে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন এই তিন উপাদানের যে কোন একটি বেছে নিন চুলের যত্ন করার জন্য। আপনি চাইলে শুধুমাত্র পেঁয়াজের রস নিয়ম করে চুলে লাগিয়েই উপকার পেতে পারেন। গ্রিন টি চুল পড়ার বিরুদ্ধে আপনার খুব কাজের অস্ত্র হিসেবে আপনার সাহায্য করতে পারে গ্রিন টি। গ্রিনটির দুইটি টি- ব্যাগ এক কাপ পরিমাণ পানিতে ফুটিয়ে ফুটন্ত পানি ঠাণ্ডা করুন। এরপর এই ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া পানিটুকু আপনার চুলের গোড়াসহ সারা চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং পড়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। মেথি চুল পড়া বন্ধ করতে মেথি আপনার উপকারে আসতে পারে। ১ টেবিল চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে উঠে বেঁটে তা মাথায় লাগান। হালকা ম্যাসাজ করে আধাঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়ার পরিমাণ কমে আসছে। নিমপাতা চুল পড়া বন্ধ করতে নিমপাতার জুড়ি নেই। তাজা নিমপাতা নিয়ে বেঁটে তাতে সামান্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে মাথায় লাগান। কিছুক্ষণ পর হালকা কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়তে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুল পড়া কমে আসবে। কালোজিরা মাথায় নতুন চুল গজাতে কালোজিরার তুলনা হয়না। এখন বাজারে হরহামেশাই কালোজিরার তেল কিনতে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে পারেন আবার ইচ্ছে করলে কালোজিরা খেতে পারেন।
আপনি নিয়মিত "তিব্বত মেডিকেটেড হেয়ার অয়েল" নামের তৈলটি ইউস করুন আশা করি সমাধান পেয়ে যাবেন।
রসুনেই গজাবে চুল! রসুনে আছে উচ্চমাত্রার সালফার, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম এবং হরেক রকম খনিজ উপাদান যারা নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত সহায়ক। রসুনে উপস্থিত কপার নতুন চুল গজায়, চুল কালো করে ও চুলকে ঘন করে। রসুনের ব্যবহারে চুলে কোন সাইড এফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই। আপনাকে করতে হবে দুটি কাজ। এক, রসুনের নির্যাস মেশানো অলিভ অয়েল তৈরি করতে হবে। এটা করার জন্য এক বোতল অলিভ অয়েলে কয়েক কোয়া রসুন ফেলে রাখুন সপ্তাহ খানেক। মোটামুটি ৭ দিন পার হয়ে গেলেই তৈরি আপনার তেল। মাথায় যখনই তেল দেবেন, এই তেলটি ব্যবহার করুন। চুল পড়া রোধ করতে ও মাথায় নতুন চুল গজাতে এই তেলটি অত্যন্ত সহায়ক। গার্লিক অয়েল প্রস্তুত হবার আগ পর্যন্ত চুল যেখানে কম সেখানে রসুনের কোয়া ঘষে পরে অলিভ অয়েল দিতে পারেন।