অল্প বয়সে মাথায় টাক হলে কি করা দরকার?
2 Answers
অল্প বয়সে টাক পড়ার নানা কারণ আছে। পুরুষের ক্ষেত্রে একে অ্যান্ড্রোজেনিক এলোপিসিয়া বলে। এ ধরনের চুল পড়া শুরু হয় কপালের দুই পাশ থেকে, তারপর বাড়তে বাড়তে মাথার সামনের দিকে ও মাঝখানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ ধরনের চুল পড়ার কারণ পুরুষ যৌন হরমোন- টেস্টোস্টেরন ও জেনেটিক প্রভাব। চুলের বৃদ্ধি অনেকাংশে টেস্টোস্টেরনের ওপর নির্ভর করে। চুলের গোড়ায় কিছু রিসেপ্টর থাকে, যেগুলো হরমোনের উপস্থিতিতে চুলের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যক্তিভেদে জিন সাপেক্ষে এই রিসেপ্টরের কাজ নানা রকম। ফলে একই মাত্রার হরমোন থাকা সত্ত্বেও চুলের তারতম্য হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে তাই বয়ঃসন্ধিকালে সামনের চুল কমতে দেখা যায়। অনেকের আবার টাক পড়াও শুরু হয়। অল্প বয়সে চুল পড়ার জন্য থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য, রক্তাল্পতা, ওভারি বা ডিম্বাশয়ের অসুখ কিংবা যেকোনো এন্ডোক্রাইন ডিসঅর্ডার দায়ী হতে পারে। ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত কম খাওয়া চুল পড়ার কারণ হতে পারে। সুষম খাদ্য কিংবা যথেষ্ট প্রোটিন না খাওয়ার কারণেও চুল পড়তে পারে। প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি হলে চুল পড়ে। অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা বা চাকরিজনিত টেনশনে ভোগে। ঢেঁকিছাঁটা চাল, টাটকা শাকসবজি, ফল ইত্যাদি আমরা পাই না এবং খাই না। নানারকম রাসায়নিক উপাদান, প্রিজারভেটিভ, কালারিং এজেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার আমরা হরহামেশাই খাচ্ছি। ফলে সুষম খাদ্য গ্রহণ হচ্ছে না। আবার ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম হয় না। এতে করে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। চুলের গোড়াও নানা প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। আবার রূপচর্চা কেশচর্চার জন্য আমরা অনেকেই চুলে হিট ও কেমিক্যাল প্রয়োগ করে থাকি। চুল ও রূপ সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা থেকেও চুল উঠতে পারে। চুলে মনমতো স্টাইল বজায় রাখতে গিয়ে চুলের ক্ষতি হয়ে যায়। বর্তমানে চুল পড়া রোধে নানা আধুনিক চিকিৎসা এসেছে। অ্যান্ড্রোজেনিক এলোপিসিয়াতে মুখে খাওয়া ওষুধ দেয়া হয়, যা হরমোনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুলকে রক্ষা করে। এসব ওষুধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দীর্ঘ দিন খেতে হয়। আবার চুল গজানোয় কিছু ব্যবহার করা হয়। এটাও নিয়ম মেনে লাগাতে হয়। এলোপিসিয়া এরিয়েটা হলে আবার স্টেরয়েড ড্রপ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। তবে সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং চুল খুশকিমুক্ত পরিষ্কার রাখার পরেও যদি চুল পড়ে, তবে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ মাথায় চুল পাতলা হতে থাকলে চিকিৎসা করে টাক পড়া রোধ করা সম্ভব। কিন্তু পুরোপুরি টাক পড়ে গেলে তার চিকিৎসায় ওষুধ ছাড়াও রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। সংগৃহীত - somewhere in blog (অল্প বয়সে টাক পড়ার কারণ ও প্রতিকার)
নতুন চুল গজাতে ক্যাস্টর অয়েল অনেক উপকারী। ক্যাস্টর অয়েলে আছে রিসিনোলেইক এসিড যা নতুন চুল, ভ্রু, চোখের পাপড়ি গজাতে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়াও চুলের রুক্ষ্মতা দূর করে চুলকে মোলায়েম করে তুলতে সহায়তা করে এই তেল। কীভাবে ব্যবহার করবেন : ক্যাস্টর অয়েল একটানা ব্যবহার করলে হবে না, করতে হবে নিয়ম মেনে। সপ্তাহে একদিন করে টানা ৮ সপ্তাহ ব্যবহার করুন এই তেল। ক্যাস্টর অয়েল মধুর মতো ঘন, প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হতেই পারে। ব্যবহার করার পদ্ধতি বেশ সোজা। ক্যাস্টর অয়েল নিন, এতে যোগ করতে পারেন একটি ভিটামিন’ই ক্যাপসুলের ভেতরকার তরল। চুল লম্বা হলে একাধিক ক্যাপসুল দিন। এরপর এই তেল রাতে ঘুমাবার আগে ভালো করে মাথায় মাখুন। বিশেষ করে চুলের গোঁড়ার ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। সারারাত এই তেল চুলে থাকতে দিন। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। কোনো বাড়তি কন্ডিশনার লাগবে না। যেখানে পাবেন : যে কোনো ফার্মেসীতে ও সুপারশপে ক্যাস্টর অয়েল পাবেন আপনি। দেশি-বিদেশি দুই রকমই পাওয়া যায়। দেশি তেলগুলো দামে বেশ সস্তা। মোটামুটি ১০০ টাকার কমে আপনি এক বোতল পাবেন যা ব্যবহার করতে পারবেন ১ মাস! বিদেশি গুলোর দাম একটু বেশি। মানও একটু ভালো। উল্লেখ্য, যদি আপনার বংশগত কারণে টাক হয়ে থাকে তাহলে কোনো চিকিৎসাই কাজ দেবে না। তবি যদি আপনার চুল স্ট্রেস, যত্নের অভাব, ভুল প্রসাধন ইত্যাদি কারণে পড়ে থাকে; তাহলে ক্যাস্টর অয়েল খুব ভালো কাজে দেবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy