1 Answers

#9 সাইফ আল দ্বীন মুস্তাফা পেশায় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, বয়স এখন ৫৯। এই মিসরীয় একসময় সাইপ্রাসে বাস করতেন। স্ত্রী সেখানকারই। এখন সাবেক। পাঁচ ছেলেমেয়ে তাঁদের। সাইফ সাইপ্রাস ছাড়েন ১৯৯৫ সালে। তারপর আর স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না। কয়েক মাস থেকেই সেই যোগাযোগ আবারও শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। পারেননি। সাইপ্রাসে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষমেষ মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে উড়াল দেওয়ার পর ৬৩ আরোহীসহ বিমানটিই ছিনতাই করে সাইপ্রাসে নিয়ে যান তিনি। ভয় দেখান, সঙ্গে বোমা আছে। আরোহীদের মুক্তির শর্ত দেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে হবে। অবশেষে সেই নারী বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার পর আত্মসমর্পণ করেন সাইফ। 

এর মধ্যেই অন্তত ছয় ঘণ্টা টানটান উত্তেজনা আর আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে। মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার পথে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ইজিপ্টএয়ারের ফ্লাইট এমএস ১৮১ বিমানটি ছিনতাই করেন সাইফ। তিনি বিস্ফোরকের বেল্ট পরে আছেন বলে ভয় দেখান এবং পাইলটকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিমানটিকে সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য করেন। তাত্ক্ষণিকভাবে ইজিপ্ট এয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক ব্যক্তি বিমানটি ছিনতাই করেছেন। তাঁর কাছে বিস্ফোরক আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা আরো জানায়, লারনাকা বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের একপর্যায়ে সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে একজন ক্রু ও চারজন বিদেশি যাত্রী বাদে সবাইকে ছেড়ে দিয়েছেন ছিনতাইকারী। তাঁর মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। 

ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন বিমানটি থেকে নেমে একটি বাসে উঠছে। মিসরের নিরাপত্তা সূত্রে জানায়, বিমানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন ও যুক্তরাজ্যের আটজন নাগরিক ছিল। ঘটনার পর লারনাকা বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি যাত্রী ও বিমানকর্মীদের ছেড়ে দিলেও চারজন বিমানকর্মী আর চারজন বিদেশি যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ বিমানটিতে আটকে রাখেন ছিনতাইকারী। সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে নামার পর বিমানটির ধারেকাছেই ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি সাইপ্রাসের পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীদের। ছিনতাইকারী সাইফ হুমকি দেন, তাঁরা ধারেকাছে এলেই বোমা বা বিস্ফোরক দিয়ে বিমানটি উড়িয়ে দেওয়া হবে। 

এ সময় সাইফ শর্তের কথাও জানান, তিনি সাইপ্রাসে বসবাসকারী তাঁর সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান এবং ওই দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। একই শর্তের কথা তিনি উল্লেখ করেন বিমানের ককপিটের জানালা থেকে ফেলে দেওয়া আরবিতে লেখা এক চিঠিতেও। এ ছাড়া তিনি মিসরের কারাগারের নারী বন্দিদের মুক্তি চেয়েছেন। তাঁর সাবেক স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে বিমানবন্দরে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। 

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস বলেছেন, এই ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৌতুক করে বলেন, ‘সব ঘটনার পেছনেই একজন নারী থাকেন। এখানেও আছেন।’ 

এর পরই আত্মসমর্পণ করেন সাইফ। টিভিতে তাঁর বিমান থেকে নেমে আসা এবং দুই হাত ওপরে তুলে আত্মসমর্পণ করার দৃশ্য প্রচার করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে মাটিতে শুইয়ে পরীক্ষা করে। তাঁর গায়ে বোমা লাগানোর বেল্ট থাকলেও কোনো বিস্ফোরক ছিল না। বিমানেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

6917 views

Related Questions