ইসলামে উরস বৈধ কি না?
1 Answers
রঃ ওরস আরবি শব্দ। যার অর্থ বাসর রাতের মিলন।কিছু লোকের পরিভাষায় বলা হয়, কোন অলির মাজারে তার মৃত্যু দিবস পালনের উদ্দেশ্যে তার ভক্ত ও জনগণের সমবেত হওয়া অর্থাৎ একটি মেলার রুপ ধারণ করা।অথচ আমরা মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনী এবং তাঁহার হাদীস অধ্যায়ন করে দেখা যায় যে,আবু বাক্কার, ওমর, উসমান, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমনকি কোন সাহাবীই মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে কোন দিন ওরস পালন করেন নাই।এবং কোন সাহাবীর নামেও কোন ওরস পালন করা হয়না। আর যে বিষয়ে ইসলামের কোন দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়না, তা পালন করাও যায়না।আর ইসলামের নামে নতুন করে কোন কিছু করাটা বিদআত- মহা পাপ।ওরস সহ আরও নানা রকমের বিদআত,কুসংস্কার তখনিই বৃদ্ধি পায় যখন কিছু মুসলিমরা ইসলাম শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায় এবং মুশরিকদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পায় তখন তাদের সহচারযে নামধারী অজ্ঞ মুসলিমদের মধ্যে কিছু মুশরিকী ধ্যান ধারনা ও কার্যাবলী স্থান পায়। বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্নরুপে শিরকের প্রচলন রয়েছে, যা বর্ণনাতীত। ওরস একটি বিদআত- অভিনব অনুষ্ঠান! যা ইসলাম সমর্থন করেনা। তার কারন নিম্নে উল্লেখ করা হল। ওরসে যা হয়ঃ ১। মুশরিক তথা মূর্তি পূজকদের পূজা উপলক্ষে জমে মেলা> তেমনি মাজারে ওরস উপলক্ষে মেলা বসে। ২। মুশরিকরা বাদ্য- বাজনা যোগে ভগবান ও দেব-দেবীর বন্দনা করে থাকে > ওরসের সময় মাজারে ঢোল, বাশি, তবলা দিয়ে কাওয়ালী ও মারেফতি গান হয়ে থাকে। ৩ মুশরিকরা মন্দিরে দেব- দেবীকে বা ব্রাহ্মণকে মাথানত করে প্রণাম করে > তারই দেখাদেখি নামধারী কিছু মুসলিমরা জিন্দা, জীবিত ও মৃত অলি,দরবেশ, ফকির, পীরকে প্রণামরুপী সাজদা করছে!!! ৪ মুশরিকরা মন্দিরে বাৎসরিক পূজার সময় পাঁঠা বলি দেয়। ওগুলো সব মূর্তির নামে উৎসর্গ কৃত পাঁঠা এবং তারা সেগুলো ভক্ষন করে > মুশরিকদের এ কর্মের দেখাদেখি নামধারী কিছু মুসলিমরা মাজারে ওরসের সময় গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উট, দুম্বা ইত্যাদি জীবিত বা মৃত পীর- অলির নামে জবাই করে এবং ধুমধামের সাথে ভক্ষন করে!!! পীর- অলির নামে জবা ও মান্নত করাটাই শিরক ও হারাম। কুরবানি বা জবাই, মান্নত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হতে হবে। (দেখুনঃ সূরা আন'আম, আয়াত নং- ১৬২, সূরা নাহল, আয়াত নং- ৫৬, সূরা বাকারাহ, আয়াত নং- ১৭৩)। ৫। ওরসের নামে চলে শিরক- কুফরি থেকে শুরু করে জঘন্য পাপাচার। নারী- পুরুষের অবাধ মেলামেশা, কাওয়ালী, মারেফতি গান বাজনা, গাঁজা সেবন, জুয়া, পুতুল নাচ, হিজড়া নাচ, যাত্রা- সার্কাস, গাঁজার কল্কি, পুড়িয়া, সিগারেট পাতা প্রভৃতি উপকরণ। মুশরিকরা তাদের পূজায় সোমরস নামক এক প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন করতো। পূজা মন্দিরের এই আচরনটিই দরবারে, খানকায়, আস্তানায় এবং মাজারে ওরস রুপে প্রবেশ করেছে। তাছাড়া উরসের পরে যে টাকা থেকে যায় তা পীর সাহেব ও তার খাদেমদের পকেটে চলে যায়। উরস মূলত আনন্দ উৎসব ও বিনা পূঁজির রমরমা ব্যবসা যার মাধ্যমে অসহায় মুরীদের অর্থ সম্পদ গ্রাস করে একপক্ষ টাকার কুমির বনে যাচ্ছে অপর পক্ষ সর্বস্ব হারাচ্ছে!!! দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমরা মুশরিকদের রীতিনীতি অনুসরন করছি এবং মুহাম্মাদ( সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শ ছেড়ে দিচ্ছি!!! যা মোটেই উচিৎ নয়। আল্লাহ বলেনঃ " দূরে সরে থাকো এইরূপ লোক থেকে যারা নিজেদের দ্বীন (ইসলাম) কে খেল- তামাশা রূপে গ্রহন করেছে।"( সূরা আন'আম, আয়াত নং- ৭০) সুতরাং আমরা কুরআন এর এই আয়াত দ্বারা বুঝতে পারলাম, যারাই ইসলামের সঠিক রুপকে বিকৃত করবে তাদের সাথে কোন রকম সম্পর্ক স্থাপন করা যাবেনা। তাই এই ওরস/ উরস থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। (সংগৃহীত)