5 Answers

না। আপনি পারবেন না। ইসলামী আইন অনুযায়ী, কেউ আপনার কিছু চুরি করে ধরা পড়লে প্রথমে তার বিচার হবে। বিচারে যদি প্রমানিত হয় যে সত্যিই সে চুরি করেছে, তবে তার রাষ্ট্র তার হাত কাটা বা অন্য কোন শাস্তির প্রয়োজন হলে দিবে। কাউকে ব্যাক্তিগত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি শাস্তি দেওয়ার। এমন কি কোন গোষ্ঠি বা পাড়া-মহল্লার প্রধানদেরও নয়। ইসলাম কখনও কারো উপর জুলুম চাপিয়ে দেয়না।

3057 views

ইসলামী বিধান অনুযায়ী চোরের চুরি করা প্রমাণিত হলে তার হাত কেটে ফেলা বা চোখ উপরে ফেলতে হয়| কিন্তু আপনি এটা ভুলে যাবেননা যে বাংলাদেশ একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং কুরআন এর বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধান করা হয়নি| তাই বাংলাদেশে থেকে এই কাজ করলে সেটি আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ হবে| তাই আপনি তাকে শাস্তি দিতে পারেননা|

3057 views

না ভাই এমনটা করতে যাবেন না, তবে আপনি তাকে তার ভূল দেখিয়ে দিবেন, তাকে তিব্রভাবে অপমান করতে পারেন সবার সন্মুকে, তাহলে সে প্রচন্ড আঘাত পাবে, সেটা চিরদিন স্মরন রাখবে। শাস্তি যদি দিতে চান আপনি একা সিদ্ধান্ত নিবেন না, আপনার সাথে থাকা লোকজনের পরামর্শ নিবেন, তাকে কি করতে হবে এমন অবস্তায়।

3057 views

আপনি এটি করতে পারবেন না। ইসলামী রাষ্ট্রীয় আইনে এই বিধান রয়েছে। যদি সর্বসম্মতিকক্রমে বিচারক তার এক হাত ও এক পা কাটেন তবে তা ইসলামী আইন অনুযায়ী হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে এই অধিকার ইসলাম দেয়নি।

3057 views

চুরির অপরাধে সর্বক্ষেত্রে হাত কাটার বিধান ইসলামে নেই আর চোখ উপরে ফেলাতো বর্বরতার নমুনা মাত্র।
অনেকেই বুঝে-নাবুঝে কোরানের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেন।

কোরান অনুযায়ী যে কোন প্রকার শস্তি অপরাধের গুরুত্ব অনুরূপ হইবে, এ বিষয়ে কোরানের বক্তব্যঃ

(৫:৪৫) এবং তাহার মধ্যে আমরা তাহাদের জন্য বিধান দিয়াছি: প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাসিকার বিনিময়ে নাসিকা, কর্ণের বিনিময়ে কর্ণ, দন্তের বিনিময়ে দন্ত, এবং ক্ষতের প্রতিশোধে (সমান) ক্ষত। কিন্তু যে ইহা (দানের উদ্দেশ্যে) ক্ষমা করে, তাহার জন্য ইহা (পূর্বকৃত পাপের) প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ হইবে। যাহারা আল্লাহর প্রদর্শিত পথ অনুযায়ী বিচার না করে তাহারা অন্যায়কারী রূপে সাব্যস্ত হইবে।

আমরা যদি কোরানের বিধান মানি যে, শাস্তি অপরাধের তুল্য হইবে, তাহা হইলে আমরা চোরের হস্তচ্ছেদ করিতে পারি না, কারণ হৃত সম্পদ এবং হস্তহানি সমান নহে। সুতরাং যে সকল আয়াত এই বিষয়ে নির্দেশ দেয় সেগুলি আমাদেরকে খুবই সতর্কতার সহিত পর্যালোচনা করিতে হইবে। এই শাস্তির বিধান (৫:৩৮,৩৯) আয়াতে দেওয়া হইয়াছে। ৩৮ নং আয়াতে ব্যবহৃত ‘ইয়াদ’ শব্দ আক্ষরিক ভাবে অনুবাদ করা হইয়াছে ‘হস্ত’। ইহা ব্যতীত ইয়াদ শব্দের অন্যান্য অর্থ হস্তের শক্তি, ক্ষমতা, সম্পত্তি, সম্পদ, আশীর্বাদ, বাধ্যতা, সমর্থন ইত্যাদি। বহু আরবী শব্দ এইরূপ একাধিক অর্থ জ্ঞাপন করে, এবং ইহা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে উপযুক্ত অর্থ কি প্রসঙ্গে শব্দটি ব্যবহৃত হইতেছে তাহার উপর নির্ভর করিবে। এক্ষেত্রে প্রসঙ্গ হইল সম্পদ অপহরণ। সে জন্য অপরাধের যোগ্য শাস্তি হওয়া উচিৎ সম্পদের বিনিময়ে সম্পদ, সম্পদের বিনিময়ে হস্ত নহে। অতএব চোরের এমন শাস্তি দেওয়া উচিৎ যাহাতে সে সম্পদ পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হয়, যাহার দ্বারা সম্পদহৃত ব্যক্তির ক্ষতি পূরণ হয়। অতএব, মরহুম আহমেদ আলী খান জুলন্দরিকৃত গ্রন্থ ‘কোরানের অনুবাদ ও তফসির’-এ বর্ণিত আয়াতটির নিম্নলিখিত অর্থই সঠিক ।

(৫:৩৮) চোর পুরুষ বা স্ত্রীলোক হউক, তাহার আয়ের উৎস ও অনুগ্রহের পথ বন্ধ করিয়া দাও, তাহার সম্পদ ও সঞ্চিত বস্তু ক্রোক কর, এবং তাহার হস্ত ও শক্তিকে কর্মে নিয়োগ কর (যে ব্যক্তির সম্পদ সে চুরি করিয়াছে তাহার মূল্য এবং কিছু জরিমানা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত), আল্লাহর পক্ষ হইতে তাহাদের গুরুতর অপরাধের ইহা একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আল্লাহ্ ক্ষমতাবান, মহা শক্তিশালী, মহাজ্ঞানী ও সর্বোত্তম সমাধানকারী ।

3057 views

Related Questions