প্রশ্নের বিবরন টা একটু বেশি বড়... সময় থাকলে পড়ে একটা সমাধান দেয়ার চেস্টা করবেন... আমি যখন গ্রামে ছিলাম মানে পড়ালেখা করতাম... ক্লাস। সেভেন এ যখন ছিলাম তখন থেকে একটা ছেলে আমাকে ভালবাসতো... ছেলেটা খুব ভালো ছিলো... কোন খারাপ অভ্যাস ছিলনা। মানে ভালো একটা ছেলের যা গুনাবলি কিন্তু সে আমার জন্য থাকা দরকার তার সব কিছুই ছিলো... আমি কখনই রাজি ছিলাম না, কারন আমার ফ্যামিলি এটা সাপোর্ট করতনা... তারপরেও ছেলেটা প্রত্যেক দিন আমার জন্য অপেক্ষা করত... কিন্তুকি জানেনা, ছেলেটা আমার সাথে কখনই কথা বলতনা, ভয়ে থাকতো। যদি আমি কিছু বলি... কয়েকদিন আমার সামনে এসে আমাকে বলতো, এই যে শুনছেন? আমি কখনই দাড়াতাম না। তারপর ছেলেটা কস্ট পেয়ে চলে যেত। যে ছেলেটা সকাল ১০টা ছাড়া ঘুম থেকে উঠত না সে কিনা প্রত্যেক দিন সকাল ৫. ৩০ টায় উঠে দকামের সামনে অপেক্ষা করত কারন সকাল ছয় টা আমি প্রাইভেটে যাই সেইজন্য। বিষয় গুল আমারও ভাল লাগত... এভাবেই কেটে গেল চার বছর... যখন আমি ক্লাস টেন এ উঠি তখন সে বাইক এক্সিডেন্ট করে... প্রায় দুই মাস তাকে দেখছিনা... মনটা কেন জানি তার জন্য ছয়ফট করতো... এদিক ওদিক তাকাতাম। মুলত তখন থেকেই তাকে আমি ভালবেসে ফেলেছি... তারপর সে ভাল হওয়ার পর আমার সাম্নে সাহস করে আসলো... তারপর থেকেই মুলত যোগাযোগ টা শুরু হয়... ছেলেটা আমাকে অনেক ভালোবাসে... সত্যি বলতে কি ল, আমাদের রিলেশন এর বয়স ৫ বছর কিন্তু প্রায় সাড়ে চার বছর সে আমাকে দেখেনি, মানে আমার চেহারা দেখেনি... কারন আমি মাদ্রাসার স্টুডেন্ট ছিলাম... এর পর ঢাকায় আসলাম।। আসার পর তার সাথে আমার প্রথম সরাসরি দেখা হয়, সে আমাকে প্রথম বারের মত দেখে... ওহ সে এসএসসি দিতে পারেনি তার একটা প্রবলেম এর কারনে। তবে কিছুদিনের মধে সে বাইরে চলে যাবে কারন তার বাবার বিজনেস আছে... সে আমাকে বার বার বলত, এমন কোন কাজ করনা যেটা আমি সয্য করতে পারবনা... তুমি আর যাই হও চেঞ্জ মানে পরিবর্তন হইও না... সে আমাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে... ঢাকায় আসার কিছুদিন পর, অনেক ছেলেই আমার সাথে কথা বলতে চাইত, প্রথম দিকে আমার ভাললাগত না। একটি ছেলে প্রায় প্রত্তেক দিন একি জায়গায় আমার জন্য অপেক্ষা করত। আমার সাথে কথা বলতে চাইত। আমার প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও ধিরে ধিরে ভাল লাগতে শুরু করল। তারপর ফোন নাম্বার দিল ছেলেটা। তারপর যোগাযোগ। বুঝলাম ছেলেটা আমাকে ভালবাসে। আমার ও ভালোলাগে ছেলেটা কে... এর পর গ্রামের ছেলেটা সাথে যোগাযোগ কমে যায়। ও যদি জিজ্ঞেস করত বলতাম আফু বা দুলাভাই আমাকে সন্দেহ করতেছে... ফোন নিয়ে নিছে... সে কখনই আমি কল দেয়া ছাড়া আমার মোবাইলে কল দিতনা... আমি যাই বলি সে বিশ্বাস করে... দ্বিতিয় ছেলেটাও খারাপ না ভালই... ভার্সিটিতে পরে, কিছুদিন পর জব করবে... তার প্রতিও একটা ফিলিংস কাজ করে... আমি জানি আমাকে প্রথম জন তার জীবনের ছেয়েও বেশি ভালবাসে... আমিও তাকে ভালবাসি... কিন্তু দ্বিতিয় জন আসার পর তার প্রতিও আমার একটা ফিলিংস কাজ করে... তাই বলে আমাকে খারাপ ভাববেন না... প্রথম ছেলেটা হয়ত এসব সত্যি জানার পর সে হয়তবা আত্মহত্য করবে. #আমার প্রশ্ন হল: এখন আমি কি করবো?
3583 views

1 Answers

2য় কাউকে পেলে 1ম জনের গুরুত্ব কমে জাবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম আর আপনার ঘটনাটাও খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। প্রথম ছেলেটা হয়ত এসব সত্যি জানার পর সে হয়তবা আত্মহত্য করবে এটা সম্পুর্ন ভূল ধারনা। আত্মহত্যা কঠিন কাজগুলোর মধ্যে একটি যেটা স্বাভাবিক কোন মানুষ করতে পারে না, আর জীবন কোন এটা ঘটনার জন্য থেমে থাকে না। তবে এখানে নৈতিকতার একটা বিষয় আছে, আজকে যে কারনে 1ম জনের গুরুত্ব কমে গিয়েছে আপনার কাছে ঠিক একই ভাবে ভবিষ্যতে 3য়জন পেলে 2য় জনের গুরুত্বও কমে জাবে। তাই নিজের নৈতিকতা আর আত্মাকে বিসর্জন দিয়ে কোন কাজ করা ঠিক না। মানুষের কাছে ওয়াদা করে তা পালন না করা মহাপাপ তেমনি একজনের বিশ্বাস ভঙ্গ করাও মহাপাপ। মনে রাখবেন যে আপনাকে ভালবাসে তাকে বিয়ে করলে যতটা সুখী হবেন, যাকে আপনি ভালবাসেন তাকে বিয়ে করলে ততটা সুখী হবেন না। তারপরও জীবনটা আপনার, যদি এখনই বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস সিন্ধান্ত নিতে চান তাহলে ভেবে চিন্তে তারপর নির্ধারন করুন কারন শুধু ভালবাসায় জীবন চলে না সাথে অনেক কিছু লাগে। যদি 2য় জনকেই আপনার জন্য যোগ্য মনে করেন তাহলে 1ম জনকে সেটা কৌশলে জানিয়ে দিন, নিজে না পারলে অপরের মাধ্যমে চেষ্টা করুন, তাকে বাস্তবতা বোঝাতে পারলে সে সবকিছু মেনে নিবে এটা নিশ্চিত।

3583 views

Related Questions