একজন মানুষের কখন, কোথায়, কার সাথে বিয়ে হবে, এটা কি আল্লাহ্‌ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন?

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com 3333
19908 views

6 Answers

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ‏[ ٧٨ : ٨
আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি, {সূরা নাবা-৮}
সুতরাং বুঝা গেল জীবনসঙ্গী কে হবে? তা আল্লাহ তাআলা জানেন। কিন্তু বান্দা জানে না। তাই বান্দা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভাল পাত্রি/পাত্র দেখে বিবাহ করতে। এটি তাকদীরের বিষয়। এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাসূল সাঃ নিষেধ করেছেন।
19908 views Answered

হ্যাঁ, আল্লাহ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন,

তবে এটা ভুলে গেলে হবে না যে আল্লাহ আমাদের

স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছেন। মানুষের কর্মের

উপর ভিত্তি করে আল্লাহ ভাগ্য নির্ধারিত করেন।

কোনো অপকর্ম করলে আল্লাহ করিয়েছেন এটা

ভাবাও বোকামি। আমাদের জীবন একটা

পরীক্ষা, তিনি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।

আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে করতে

পারতেন মুমিন এবং দুর করতে পারতেন সব

অপকর্ম, কিন্তু এটা করলে তো আর পরীক্ষা

থাকলো না, এ কারণেই আল্লাহ আমাদের

স্বাধীনতা দিয়েছেন। 

আপনার প্রশ্নের উত্তর এক কথায়: হ্যাঁ, আল্লাহ

পূর্ব থেকেই কার সাথে বিয়ে হবে তা নির্ধারিত,

তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ বান্দার কর্মের উপর

ভিত্তি করে ভাগ্য নির্ধারিত করেন।

তাছাড়া, যে কোনো বিষয়ে পূর্ব থেকে নির্ধারিত

হয়ে থাকলেও বান্দার প্রার্থনা, কর্মকান্ড বিবেচনা

করে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

তিনি সর্বশক্তিমান ও মহান। 

19908 views Answered

মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবস্তুটি আগে থেকেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কেননা, তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের (স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যের সাথী হিসেবেই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া প্রবিষ্ট করে দিয়েছেন।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত নং ২১)। উক্ত আয়াত দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন, 'যদি পুরুষ ও নারী আলাদা আলাদা বস্তু হতে সৃষ্টি হত, যেমনঃ যদি কোন নর-নারী জ্বিন অথবা চতুষ্পদ জন্তু থেকে সৃষ্টি হত, তাহলে তাদের উভয়ের একই বস্তু হতে সৃষ্টি হওয়াতে যে সুখ-শান্তি পাওয়া যায় তা কখনই পাওয়া সম্ভব হত না। বরং এক অপরকে অপছন্দ করত ও জন্তু-জানোয়ারের ন্যায় ব্যবহার করত। সুতরাং, মানুষের প্রতি আল্লাহর অশেষ দয়া যে, তিনি মানুষের জুড়ি ও সঙ্গিনী মানুষকেই বানিয়েছেন। এ সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, "আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন মালাইকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞেস করেনঃ পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান, না দুর্ভাগা? রিয্‌ক ও বয়স কত? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তার মাতৃগর্ভে থাকতেই সকল কিছু লিখে দেয়া হয়। (৩৩৩৩, ৬৫৯৫; মুসলিম ৪৬/১, হাঃ ২৬৪৬), (আ.প্র. ৩০৭, ই.ফা. ৩১২), (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩১৮) তাই, উক্ত আয়াতের ও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী বলা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা একজন মানুষের কখন, কোথায়, কার সাথে বিয়ে হবে, এটা পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।

19908 views Answered
একজন মানুষের কখন! কোথায়!! কার সাথে বিয়ে হবে এটা আল্লাহ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।

যদি তোমাদের নিকট উহূদ পাহাড় পরিমাণ বা উহূদ পাহাড়ের মত সোনা থাকতো এবং তুমি তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে থাকো, তবে তোমার সেই দান কবূল করা হবে না, যাবৎ না তুমি তাকদীরের উপর ঈমান আনো। অতএব তুমি জেনে রেখো! যা কিছু তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা তোমার উপর আপতিত হতে কখনো ভুল হতো না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না তা ভুলেও কখনো তোমার উপর আপতিত হবে না।

অতএব তুমি জেনে রাখো! তোমার উপর যা কিছু আপতিত হওয়ার আছে তা তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা কখনো ভুলেও এড়িয়ে যেত না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না, তা তোমার উপর ভুলেও কখনো আপতিত হত না।

তাকদীর ভাগ্যলিপির বর্ণনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে সমর্থিতঃ তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি কার্যক্রম এভাবে অগ্রসর হয় যে, তার মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত শুক্ররূপে জমা রাখা হয়, তারপর অনুরূপ সময়ে তা জমাট রক্ত পিন্ডের রূপ ধারণ করে, তারপর অনুরূপ সময়ে তা গোশত পিন্ডের রূপ ধারণ করে, তারপর আল্লাহ তাআলা তার নিকট একজন ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয় লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। অতএব তিনি বলেন, তার কার্যকলাপ, তার আয়ুষ্কাল, তার রিযিক এবং সে দুর্ভাগা না ভাগ্যবান তা লিখে দাও। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ!

আর এই রিযিক শুধু খাবার এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আল্লাহ বলেনঃ পবিত্র তিনি, যিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে। (সূরা ইয়াসীনঃ ৩৬)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা যারিআতঃ ৪৯)

সুতরাং একথাও প্রমাণ করে সৃষ্টিজগতের সবই জোড়া জোড়া। বেজোড় কেবলমাত্র একজন তিনি হলেন আল্লাহ তাআলা।
19908 views Answered

হ্যাঁ, এগুলো সবই আল্লাহ তাআলা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন৷ তবে মানুষের চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তন সম্ভব৷

বিশ্বজগতে আমরা যা কিছু দেখি, এবং যা কিছু চিন্তা করতে পারি, সবকিছুর দুটি দিক থাকে। একটি অংশ পূর্ব থেকে নির্ধারিত, এবং অন্য একটি অংশ পরিবর্তনশীল।

যেমন ধরুন, ফেইসবুকে আপনার যা ইচ্ছা তা পড়তে পারেন ও লিখতে পারেন। কিন্তু, ইচ্ছা করলেই মার্ক জুকারবার্গ ফেইসবুককে আপনি গুগল+ বানিয়ে ফেলতে পারবেন না। মার্ক জুকারবার্গ যে পদ্ধতিতে ফেইসবুক সাজিয়েছে, আপনাকে সে পদ্ধতি মেনে নিয়েই ফেইসবুক ব্যবহার করতে হবে।

বিশ্বের সবকিছুর এমন দুটি দিক আছে। সবকিছুর ক্ষেত্রেই একটু স্বাধীনতা দেয়া আছে, আবার পূর্ব নির্ধারিত একটি ফর্মুলাও দেয়া রয়েছে।

আমাদের জীবনের একটি ইচ্ছা শক্তি আছে, আবার আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। আমাদের ইচ্ছা শক্তি অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে, আবার অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না। মানুষ কি পরিবর্তন করতে পারবে, এবং কতটুকু পরিবর্তন করতে পারবে, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। এই নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টাকে বিশ্বাস করার নাম-ই তাকদীর।

এবার মূল প্রশ্নে আসি– তাকদীর বা ভাগ্য কি পূর্ব নির্ধারিত না পরিবর্তনশীল?

এই প্রশ্নটির মাঝে একটি শব্দ হলো – ‘পূর্ব’। ‘পূর্ব’ শব্দের অর্থ অতীত। মানে, ভাগ্য কি অতীত থেকে নির্ধারিত থাকে?

‘অতীত’ শব্দটি সময়ের সাথে সম্পর্কিত। সময়কে মানুষ সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করে – অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। মানুষ সময়ের অধীন। সময়ের মাত্রা-জ্ঞান ব্যতীত মানুষ কোনো কিছু কল্পনা করতে পারে না। তাই, মানুষ প্রশ্ন করে, ভাগ্য কি ‘পূর্ব’ থেকে নির্ধারিত? কিন্তু, আল্লাহ সময়ের অধীন নয়, তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলছেন –

وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো চোখের পলকের ন্যায়, অথবা তার চাইতেও দ্রুত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর কাদীর বা শক্তিমান। [সূরা ১৬ /নাহল – ৭৭]

তাকদীর বোঝার জন্যে এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই আয়াতে তাকদীর সম্পর্কে বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্ত রয়েছে। যেমন,

অনুসিদ্ধান্ত – এক।
আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিনে সবকিছুর গায়েব জানেন। এখানে গায়েব জানার অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা ভবিষ্যতের বিষয়াবলীকে ঠিক সেভাবেই জানেন, যেভাবে তিনি অতীতের বিষয়াবলীকে জানেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালার নিকট অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

অনুসিদ্ধান্ত – দুই।
আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নয়, তিনি সময়ের অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর কাছে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব একই। ফলে, পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এই সময়টা মানুষের কাছে হাজার হাজার মিলিয়ন বছর হলেও আল্লাহর কাছে একটি চোখের পলকের চেয়েও কম সময়। অর্থাৎ, আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এগুলো নেই।

বিষয়টা আরেকটু বিস্তারিত বলি।

দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতার মত ‘সময়’ও একটি মাত্রা। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা ব্যতীত যেমন কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না, তেমনি সময় ব্যতীতও কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না। মানুষ যখন পৃথিবীতে আকৃতি লাভ করে, তখন সে একটি সময়ে প্রবেশ করে; আবার যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন এই সময় থেকে বের হয়ে যায়। তাই, মানুষ সময়ের অধীন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার জন্ম ও মৃত্যু নেই, শুরু বা শেষ নেই।[সূত্র আল কোর’আন, ৫৭:৩]। তাই আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নয়, বরং সময়-ই আল্লাহ তায়ালার অধীন। মানুষের বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কাল আছে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। মানুষ সময়ের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে সব কালই বর্তমান কাল।

অনুসিদ্ধান্ত – তিন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিজগতের সবাইকে কিছু কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু সকল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের মালিক তিনি।

এ তিনটি অনুসিদ্ধান্তের পর আমরা বলতে পারি,

“আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের ভাগ্য ‘পূর্ব’ নির্ধারিত” –এ কথাটা কেবল মানুষের জন্যে প্রযোজ্য। আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, মানুষের জন্যে যা অতীত, আল্লাহর জন্যে তা ‘অতীত’ নয়; আবার, মানুষের জন্যে যা ভবিষ্যৎ, তাও আল্লাহর জন্যে ‘ভবিষ্যৎ’ নয়। আল্লাহর নিকট অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবি এক। তিনি ভবিষ্যতকে অতীতের মতই জানেন। তিনি যখন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, তখন অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বলে কোনো কিছু থাকে না। কিন্তু মানুষেরা যেহেতু অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে থাকে, তাই মানুষকে বোঝানোর জন্যে রাসূল (স) বলেছেন যে, মানুষের ভাগ্য ‘অতীত’ বা ‘পূর্ব’ থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।

এবার, কোর’আন থেকে উদাহরণ দেয়া যাক।

কোর’আনের উদাহরণ

নিচের দুটি আয়াত দেখুন। প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের উপর যে বিপদ আসে তা আগেই লিপিবদ্ধ করা থাকে। কিন্তু, দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের কৃতকর্মের কারণেই তার উপর বিপদ আসে।

مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِى كِتَـٰبٍۢ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَآ ۚ إِنَّ ذَ‌ٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ

পৃথিবীতে এবং তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ। [ সূরা ৫৭/হাদীদ – ২২]

وَمَآ أَصَـٰبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍۢ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا۟ عَن كَثِيرٍۢ

তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। এবং তোমাদের অনেক গোনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন। [ সূরা ৪২/শূরা – ৩০]

দেখে মনে হয়, আয়াত দুটি কি পরস্পর বিপরীত? উত্তর – না। একটু লক্ষ্য করলেই দেখব, মানুষ যখন কোনো কাজ করে, তখন সে কাজের একটি অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ থাকে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল একই।

তাই দেখুন, বিপদের ব্যাপারটা যখন আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন – বিপদ আসার আগেই তা আল্লাহ নিকট লেখা থাকে, এবং এটি আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ একটি কাজ। কিন্তু, বিপদের ব্যাপারটা যখন মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন আল্লাহ বলছেন – মানুষের কৃতকর্মের ফলেই বিপদ আসে। আল্লাহর ক্ষেত্রে সময় এবং মানুষের সময়, – দুটি বিষয়ের পার্থক্য মাথায় রাখলে আয়াত দুটির মাঝে কোনো বৈপরীত্য আর থাকে না।

এখন, মানুষ আল্লাহর নিয়ামত গ্রহণ করবে নাকি বর্জন করবে, এটা আল্লাহর পক্ষে আগ থেকেই জানা সম্ভব। কারণ, মানুষের যেমন অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল আছে, আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে এমন কোনো অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল নেই। মানুষের অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল আল্লাহর জন্যে একই। তাই, মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আগ থেকেই জানেন।

বিষয়টি আরো সহজভাবে বলার জন্যে সর্বশেষ একটি উদাহরণ দিচ্ছি।

ধরুন, তাজা ঘাসে পরিপূর্ণ একটি মাঠ। একজন রাখাল একটি গরুর গলায় রশি লাগিয়ে তাকে ঐ মাঠে ছেড়ে দিল। মাঠের নির্দিষ্ট অংশে ইচ্ছামত বিচরণ করার ক্ষমতা গরুটির আছে, যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে খাবারের সুযোগও তার আছে। কিন্তু গরুর গলার রশি যতদূর যায়, তার বাইরে গিয়ে ঘাস খাওয়ার সুযোগ গরুটিকে দেয়া হয়নি। এখন, গরুটি ইচ্ছা করলে মাঠের নির্দিষ্ট অংশের তাজা ঘাসগুলো খেয়ে নিজের পেট পূর্ণ করতে পারে, অথবা কিছু না খেয়ে উপাস থাকতে পারে। রাখাল জোর করে ঐ গরুটিকে ঘাস খাইয়ে দিবে না।

এভাবে, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কিছু নেয়ামত আগ থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে আল্লাহর ঐ নিয়ামত অর্জন করতে পারব; আর চেষ্টা না করলে, ঐ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হব।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। রাখাল যেহেতু মানুষ, তাই সে সময়ের দ্বারা অবদ্ধ। গরুটি ঘাস খাবে কি খাবে না, এটা রাখাল আগ থেকে জানে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যেহেতু সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি আগ থেকে জানেন, মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া নেয়ামত গ্রহণ করবে কি করবে না।

অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন বলে, মানুষ যদি ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের আশা ত্যাগ করে, তাহলে মানুষ ভবিষ্যতকে হারিয়ে ফেলবে। এটাই আল্লাহ তায়ালার সুন্নত। এবং এটার নামই তাকদীর।

সুতরাং, তাকদীর বা ভাগ্য হলো এমন একটি বিষয় যা আল্লাহর সামগ্রিক ইচ্ছা এবং মানুষের সীমাবদ্ধ ইচ্ছার দ্বারা পরিবর্তনশীল। এখানে আল্লাহর ইচ্ছা সময়ের অধীন নয়, কিন্তু মানুষের সময়ের অধীন৷

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন৷

19908 views Answered

একজন মহিলার যে জায়গায় বিয়ে হবে সেটা আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন! এবং যে জায়গায় ঐ মহিলার বিয়ে হবে আল্লাহ তায়ালা সেই জায়গার মাটি দিয়ে মহিলাদেরকে সৃষ্টি করেছেন!

19908 views Answered

Related Questions

Next steps