তাবলিক জামাত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লষন কর।ইসলাম এ সম্পর্ক কি বলে?
3478 views

1 Answers

দাওয়াত ও তাবলিগ: দাওয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহর দীনের দিকে মানুষকে আহ্বান করা। আর তাবলিগ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া।
নবী-রাসূলদের মূল দায়িত্ব ছিল দাওয়াত এবং তাবলিগ। নবুয়তের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আম্বিয়া কেরাম (আ.) বা নবীরা যে কাজ করতেন সে কাজের দায়িত্ব পড়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ওপর। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর একটি বাক্য যদি আমাদের কারো জানা থাকে, তা অন্যদের পৌছে দিতে। রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশ পালন করা সব মুসলমানের জন্য জরুরী। তাবলিগ জামাত এ কাজটিই করছে।

সূরা ইউসুফের ৬৭ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে হে নবী! আপনি জানিয়ে দিন যে, এটিই আমার দায়িত্ব যে, আমি বুঝেশুনে মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিই এবং যারা আমাকে অনুসরণ অনুকরণ করে তাদেরও দায়িত্ব এটি। সূরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে এরশাদ হয়েছে, তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদের বাছাই করা হয়েছে মানবতার কল্যাণের জন্য, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে...। এছাড়াও অসংখ্য আয়াত ও হাদিসের সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে জানা যায়, শেষ নবীর উম্মত হিসেবে আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে সামগ্রিকভাবে দ্বীনের মেহনতের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য এই উম্মত নিজে দ্বীনের ওপর চলবে অন্যকেও দীনের ওপর চালানোর জন্য মেহনত করবে। আল কোরআনের বহু আয়াতের আলোকে এ মেহনতকে দাওয়াত ইল্লাল্লাহ আবার তাবলিগ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি আয়াত হলেও আমার হয়ে তাবলিগ কর। হাদিসটি উল্লেখযোগ্য।
এ মেহনতেরই কাক্সিক্ষত ধারণা ও যোগ্যতা অর্জনের প্রতি এ উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী যে আন্দোলন চলছে সেটিই জনসাধারণের মাঝে তাবলিগ জামাত নামে পরিচিত।

3478 views

Related Questions