মেরুদণ্ড ব্যাথা করে কি করব?
5 Answers
পিঠে ব্যাথা দূর করে মেরুদণ্ড সুস্থ রাখুন ৫ টি সহজ উপায়েঃ
অনেকেই আছেন যারা বেশ অল্প বয়সেই মেরুদন্ডে ব্যথার শিকার হন। হাড়ের দুর্বলতা জনিত কারণে অথবা নিজের অসতর্কতামূলক কাজে বেশীরভাগ মানুষ মেরুদণ্ড ব্যথায় ভুগে থাকেন। কিন্তু এই মেরুদণ্ডের ব্যথা অনেক মারাত্মক পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত অনেকেই একে গুরুত্ব সহকারে দেখেন না। অল্প সময়ের ব্যথা ভেবে চুপচাপ থাকেন এবং ভুল করেন। কারণ এই ব্যথা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে এবং সঠিক পদক্ষেপ না নিলে মেরুরজ্জ ক্ষয় হওয়া এবং মেরুরস শুকিয়ে যাওয়ার মত ভয়াবহ রোগ হতে পারে। তাই আজ জেনে নিন মেরুদণ্ডের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কিছু কাজের তালিকা।
বালিশের দিকে লক্ষ্য রাখুন
ঘুমের সময় মাথায় বালিশ নিয়ে ঘুমানোর সামান্য ত্রুটির কারণেও মেরুদণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বালিশ বেশি উঁচু হলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে। তাই বালিশ এমনভাবে নির্বাচন করুন যাতে শোয়ার সময় মেরুদণ্ড সোজা থাকে। চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে হাঁটুর নিচে আরেকটি বালিশ রাখুন। কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখার চেষ্টা করুন।
সতর্কতার সাথে ব্যায়াম করুনnechache
অনেকেই ব্যায়াম করেন সুস্বাস্থ্যের জন্য। কিন্তু বেশিভাগ সময়েই ব্যায়ামের সঠিক নিয়ম পালন করতে দেখা যায় না অনেককে। ব্যায়াম করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। মেরুদণ্ডে বেশি চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।
একটানা একভাবে বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না
কাজের সময় আমরা একটানা একভাবে বসে কতোক্ষণ সময় পার করি তা আমরা অনেকেই হিসাব করি না। কিন্তু একটানা একভাবে বসে থাকা আমাদের মেরুদণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়াবেন কিংবা খানিকক্ষণ হাঁটবেন। নিতান্তই না পারলে একটু পর পর বসার স্টাইল পরিবর্তন করুন।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডিএর স্বল্পতা হাড়কে করে তোলে ভঙ্গুর। গবেষণায় দেখা যায় যারা মেরুদণ্ডের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান তাদের ৮০% মানুষই ভিটামিন ডি সল্পতার কারণে মেরুদণ্ডের সমস্যায় পড়েন। তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খান এবং সকালের মিষ্টি রোদ গায়ে লাগানোর ব্যবস্থা করুন।
ক্রাঞ্চ করুন
ক্রাঞ্চ প্রায় ৭৫% পর্যন্ত মেরুদণ্ডের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। তাই ব্যায়ামের তালিকায় রাখুন ক্রাঞ্চ। একটি সমতল জায়গায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর মাথার পেছনে দু হাত দিয়ে হাতু ভাঁজ করুন। এই অবস্থায় মাথাসহ দেহের উপরিভাগ উপরে তুলুন। এই ব্যায়ামটি মেরুদণ্ডের জন্য বেশ কার্যকরী একটি ব্যায়াম।
তথ্য সূত্রঃ রুপকেয়ার।
পুরাতন ম্যাট্রেস বদলানো আমাদের ঘুমানোর বিছানাটি যদি আরামদায়ক না হয়, তবে মেরুদণ্ডে ব্যাথা হবেই। খাটে ব্যবহৃত ম্যাট্রেস ৮-১০ বছরের পুরাতন হলে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বেশী সময় পার হয়ে গেলে তা অতিরিক্ত শক্ত বা নরম হয়ে যায়। এতে ম্যাট্রেসটি আপনার দেহের ভার বহনে অনুপযোগী হয়ে যায়। তাই এধরনের ম্যাট্রেস ব্যবহার থেকে বিরত থাকায় ভাল।
ভারী ব্যাগ বহন না করা একটানা ভারী ব্যাগ বহন করার কারনেও মেরুদন্ডে ব্যাথা হতে পারে। বিশেষ করে এক কাধে ভারী ব্যাগ বহন করার অভ্যাস তৈরি হলে, তা আমাদের মেরুদণ্ডের ভারসাম্য নষ্ট করে। মেরুদণ্ডের এ ব্যথার হাত থেকে রেহাই পেতে হালকা ব্যাগ বহন করতে হবে।
একটানা বসে না থাকা সারাদিন যাদের চেয়ারে বসে একটানা কাজ করতে হয়, তাদের পিঠের ব্যাথা হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে অনেকেরই কাজ করতে হয়। ফলে পিঠের মাংসপেশি গুলোতে চাপ পড়ে। এছাড়া বসে থাকলে দাঁড়িয়ে থাকার তুলনায় মেরুদণ্ডে ৫০ ভাগ অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই চেয়ারে বসার সময় ১৩০ ডিগ্রি কোণে হেলান দিয়ে বসে কাজ করা যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমবে। তাছাড়া প্রতি ঘন্টায় ৫-১০ মিনিটের জন্য উঠে হাঁটাহাঁটি করলে মেরুদণ্ড ভালো থাকবে।
মানসিক চাপমুক্ত থাকা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সহজেই ক্ষমা করে দিতে পারে, তাদের মানসিক চাপজনিত রোগে কম হয়।তাদের মাঝে হতাশা, রাগ, শারীরিক ব্যাথাও কম হয়। আমাদের মনের আবেগ আর মানসিক অবস্থার প্রভাব দেহের মাংসপেশিতেও পড়ে। যা থেকে সৃষ্টি হয় পিঠে ব্যাথা। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করতে হলে আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।তাই শারীরিক অবস্থা ভালো রাখতে সুস্থ সুন্দর জীবনধারা মেনে চলা প্রয়োজন।
পিঠের ব্যথা দূরীকরণের ওষুধ আছে আপনার হাতের নাগালেই। এজন্যে আপনাকে যা যা করতে হবে তা হলো: 1. নিজের যত্ন নিজেই করুন: ধরুন, সকাল বেলা বেশ কিছু বাক্সপঁ্যাটরা তুলতে গিয়ে পিঠে ব্যথা শুরু হয়ে গেল। এক্ষেত্রে ইবুপ্রফেন, অ্যাসপিরিন বা এসিটামিনোফেন ট্যাবলেট খেয়ে নিলে বেশ আরাম পাবেন। আর পিঠের ব্যথায় মেঝেতে শুধু একটা মাদুর পেতে শুলেও কাজ দেবে। শোবার সময় দুই হাঁটুর মাঝখানে একটা বালিশ রাখবেন। আর দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে কাজ করবেন না, পিঠের ব্যথা থাকলে ভারী জিনিসও তুলবেন না। এতে পিঠ ব্যথা আরও বেড়ে যাবে। 2. ব্যায়াম: পিঠের ব্যথায় বিছানায় শুয়ে, না ঘুমিয়ে বরং রেগুলার এক্সারসাইজ করুন। এক্ষেত্রে হাঁটা হতে পারে সবচে' ভাল ব্যায়াম। এতে পিঠ এবং পেটের পেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর জিমনাসিয়ামে গেলে ট্রেনারের পরামর্শ মত ব্যায়াম করবেন। 3. রিলাক্সেশন টেকনিক: ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ডাক্তার রিচার্ড ডিয়ো বলেছেন, স্ট্রেসের কারণে শরীর আড়ষ্ট হয়ে ওঠে, পিঠের ব্যথা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রিলাক্সেশন টেকনিক অবলম্বন করলে টেনশন চলে গিয়ে ব্যথার উপশম হতে পারে। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অভ হেলথ-এর বিশেষজ্ঞরা 1995 সালের এক সমীক্ষায় দেখিয়েছেন, ধ্যান এবং সম্মোহন ক্রনিক ব্যথা নিরাময় করে। এটাই হলো রিলাক্সেশন টেকনিক। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এসব টেকনিক বা কৌশল নার্ভাস সিস্টেমকে সতেজ ও সাবলীল করে তোলে। ফলে শরীরের ব্যথা-বেদনাও দূর হয়ে যায়। এ ছাড়া যোগ ব্যায়াম এবং তাই চিও পিঠের বেদনা দূরীকরণের মহৌষধ বলে বিবেচিত। কপিরাইট
সারাদিন এক টানা বসে থাকলে এরকম হয়। আমার ভাই এর এরকম হয়েছিল। আপনি বাসার মধ্যে প্রতি ৩০ মিনিট- ৬০ মিনিট পর পর উঠে ৪-৫ মিনিট একটু হাঁটেন । তাহলে সমস্যা কমবে।
ভাল মানের একটা চেয়ার ব্যাবহার করেন।
নুয়ে থেকে কাজ করবেন না, মেরুদণ্ড সোজা রাখবেন সব সময়।
কোমরের হাড় ক্ষয় হয়ে গেলে এরকমটা হয়। তাই আপনাকে ভিটামিন ডি , বা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে।।
বেক্সিমকো ফার্মার 'ভলিজেল' নামক একটি কার্যকর মলম রয়েছে ৷ সেটি প্যাকের ভেতরের নির্দেশনা অনুযায়ি ব্যাবহার করতে পারেন৷
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy