কানে সমস্যা?
3 Answers
: চিকিৎসক অসুখের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেন। সাধারণ মাত্রায় কানের ড্রপস ও ব্যথানিরোধক প্যারাসিটামলে কাজ হয়। কখনও বা মুখে খাবার অ্যান্টিবায়োটিকস লাগে। প্রতিরোধ : গোসলের পরপর বাচ্চার মাথার পানি অতি শিগগির শুকনো তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নেয়া এবং তারও আগে মাথার পানি যেন কানের ভেতরে না ঢুকে পাশ দিয়ে ঝরে যায়, সে ব্যবস্থা অবলম্বন করা। কান থেকে ১২ ইঞ্চি দূরে রেখে হেয়ার ড্রেসার ব্যবহার করে কান ও পাশের চুল শুকিয়ে নিতে হবে। কখনও যেন কানে কানো বস্তু ঢোকানো না হয় কখনও এ কাজে কটন বাড যেন ব্যবহৃত করা না হয়। দুই. শিশু কানের মোম ইয়ার ওয়াক্স। বলা হয় কানের খৈল। মধ্যকর্ণের বাইরে এটি তৈরি হয়। মেডিকেল নাম সেরুমেন। অনেক দরকারি কাজ সম্পাদন করে। কানের ড্রাম ও কর্ণনালি শুকনো রাখতে তাতে যেন জীবাণু প্রবেশ অবাধ না হয়, ময়লা, ধুলাবালু ভেতরে ঢুকে কর্ণ পর্দায় যেন আঘাত না করে, তাই এ ব্যবস্থা। গোসলের সময় কার্য সমাধা শেষে এ কানের খৈল আপনা আপনি ঝরে বেরিয়ে যায়। এটা বের করে আনার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় না। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর স্নানের জন্য যথেষ্ট। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি মোম ভেতরে আটকে গেলে শিশু কানে ব্যথা, কানে শোনার সমস্যা এসব নিয়ে আসতে পারে। এ অবস্থায় তার চিকিৎসা করাতে হবে। কিউরিটি ও অটোসকোপসংবলিত ব্যবস্থাপনায় এর সহজ সুরাহা হয়ে যায় কয়েক মিনিটে। তবে আপনার শিশু যদি কানে ব্যথার কথা জানায় এবং কানের মোম বাইরে থেকে দেখা যায়, তবে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে তা আপনি বের করে নিয়ে আসতে পারেন। কখনও কটন সোয়াব, আঙুল বা কিছু ঢুকিয়ে তা বের করে আনার চেষ্টা চালাবেন না। এতে করে কানের পর্দা ছিঁড়ে যেতে পারে। শিশু বধির হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া কানের খৈল ভেতরে ঢুকে গিয়ে ইনফেকশন তৈরি করে। অল্প বয়সী শিশু যখন কানে সব সমসয় হাত রাখে, তখন সেটা কানের ব্যথা বা এরকম কোনো সমস্যা নির্দেশ করে। মা-বাবা অনেক সময় এ থেকে লাঘবের জন্য বাইরের প্রচলিত ব্যবস্থা মেনে নেন। কিন্তু সোজাসাপটা পরামর্শ হল, এসব ব্যবস্থা শিশুর কানের জন্য ক্ষতিকর। অতএব পরামর্শ, চিকিৎসক ছাড়া শিশুর কানের জন্য যাতে অন্য কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হয়। লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল