2 Answers

যেসব তরুণ পিতামাতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখে এবং স্বাধীনভাবে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে নানা কাজে জড়িত হয়, তারা অধিক মাত্রায় ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত ও মদ্যপায়ী হয়ে ওঠে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ। বন্ধুদের হাত ধরেই অধিকাংশ তরুণ ধূমপান, নেশাদ্রব্য ও মদ্যপানের অভ্যাস গড়ে তোলে। আর এ বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেল সাম্প্রতিক এক সমীক্ষাতেও। এতে জানা গেছে, যেসব তরুণ তাদের পিতামাতার নজরদারির বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তাদের মাঝে এসব বদঅভ্যাস গড়ে ওঠে। তাদের অনেকেই মারিজুয়ানার মতো নেশাদ্রবেও একইভাবে প্রভাবিত হয়। গবেষকরা দেখেছেন, যেসব তরুণ খেলাধূলার মতো কর্মকাণ্ডে বেশিমাত্রায় যুক্ত হয় তারা ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণের মতো কাজে কম যুক্ত হয়। অন্যদিকে যেসব তরুণ খণ্ডকালীন কাজ করে তাদের মাঝে ধূমপানের প্রবণতা বেশি হলেও মাদকদ্রব্য গ্রহণের প্রবণতা কম থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করলেও তরুণদের মাঝে মাঝে বিপজ্জনক এ প্রবণতা কমার সম্ভাবনা কম। গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক কেনেথ লি। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পিএইচডি শিক্ষার্থী। লি জানান, নিষিদ্ধ দ্রবের প্রতি তরুণদের আগ্রহী হয়ে ওঠার কারণ নিয়ে তারা গবেষণা করছেন। এতে তারা তরুণদের কিছু কার্যক্রম লিপিবদ্ধ করেছেন, যার মাধ্যমে তরুণরা নিষিদ্ধ দ্রব্য গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণেরা যদি পিতামাতার নজরদারিহীনভাবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে এ সময়েই সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ গ্রহণে আগ্রহী হয়।’ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ অ্যাডোলেসসেন্ট হেলথ-এ।

6250 views

মাদকাসক্তির কারণ: মাদকাসক্তির বড় কারণ মাদকের সহজলভ্যতা, মাদকের প্রতি তরুণ প্রজন্মের কৌতূহল, মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রকৃত ধারণার অভাব, মাদক বিষয়ে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি—পরিবারের ধরন, বাবা-মায়ের মন্দ আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি, বন্ধুদের চাপ প্রভৃতি। পারিপার্শ্বিক কারণ—মাদক নিয়ে স্মার্ট হওয়ার প্রবণতাও অনেককে ঠেলে দেয় মাদকের জগতে। মানসিক সমস্যার কারণেও মাদকাসক্তি ঘটতে পারে। বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কেনাবেচা হয় মাদক। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ বিক্রয় করা হয়, যা মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বন্ধু-বান্ধবের চাপে পড়ে, তাদের সঙ্গ দিতে গিয়ে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকে মাদক গ্রহণে বাধ্য হয় এবং এক পর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়ে। নিজেকে ‘স্মার্ট’ দেখানোর জন্য অনেকে মাদক নেয়। অনেকে প্রথমে কৌতূহলের বশে মাদক গ্রহণ করে, ভাবে সে আসক্ত হবে না; কিন্তু এক পর্যায়ে সেও আসক্ত হয়ে পড়ে। বেকারত্ব, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি, পরীক্ষায় ফেল ইত্যাদি নানা কারণে মাদকের আসক্ত হয় তরুণ-তরুণীরা। ব্যক্তিত্বের কিছু সমস্যা যেমন শৈশব-বিকাশের সমস্যা ও পারিবারিক সমস্যার চাপে পড়েও তরুণরা মাদকে আসক্ত হয়।

6250 views

Related Questions