2 Answers
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা খৃষ্টান নাকি মুসলমান? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই। কারণ তাঁকে কোনো ধর্মের অনুসরণ করতে দেখা যায়নি। সত্যিই কি তিনি নিজের ধর্ম-পরিচয় লুকাতে চাচ্ছেন? আর তাই অনেকেই প্রশ্ন করেছেন তিনি কি অধার্মিক বাবা মায়ের ধার্মিক সন্তান? নাকি তিনি সবসময় একজন খ্রিস্টান ছিলেন কিংবা সবসময় মুসলিম ছিলেন? নাকি তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবিত কোনো ধর্ম রয়েছে? নাকি তিনি একই সঙ্গে একজন খ্রিস্টান, আবার মুসলিমও? যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমস এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে নিয়ে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজের ধর্মজীবন নিয়ে প্রকৃতপক্ষে একজন ঘোর ‘মিথ্যাবাদীর মতো’ আচরণ করেন। ২০০৪ সালে ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কী খ্রিস্টান? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার মায়ের কাছে লালিত-পালিত হয়েছি। আমার মা খ্রিস্টান ছিলেন।’ আবার ওবামা ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা দেন, ‘কেবল বাবার দিক থেকেই আমার ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তবে আমি কখনও ইসলামের চর্চা করিনি ‘ ২০০৯ সালে এসে ওবামা আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেন। ওবামা বলেন, ‘আমি কোনো বিশেষ ধার্মিক পরিবারে বেড়ে উঠিনি। আমার বাবা ছিলেন একজন মুসলমান। আমার দাদা-দাদী ছিলেন ব্যাপটিস্ট। শিকাগোতে আসার আগে আমি খ্রিস্টান ছিলাম না।’ ২০১০ সালে এসে তিনি আবার বলেন, ‘আমি সবশেষে খ্রিস্টান ধর্মকেই গ্রহণ করে নিয়েছি।’ এতো কিছুর কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বারাক ওবামা সত্যিই কি নিজের ধর্ম পরিচয় লুকাতে চাচ্ছেন? কিংবা তিনি কি সবসময় একজন খ্রিস্টান ছিলেন বা সবসময় মুসলিম ছিলেন? তার মানে তিনি কী একই সঙ্গে একজন খ্রিস্টান, আবার মুসলিমও? ফ্রেন্ডসব্লগ ডট নেট- এর উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’ বইটির ৪০৭ পৃষ্ঠায় ওবামার দাদার ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে তার (দাদার) একটি লম্বা উক্তিও তুলে ধরেন। তার দাদার কথাটি ছিলো এমন, ‘খ্রিস্টান ধর্মকে আমার কাছে মনে হয়েছে এক ধরণের বোকামি। কেবল নারীদের জন্যই এটি গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এজন্যই তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন’। ওবামা তার এই বইয়ের ১০৪ পৃষ্ঠায় এমনও বলেছেন, যখন কেও তাকে (ওবামাকে) বলতেন, তুমি কি মুসলিম? তার উত্তরে তিনি বলতেন আমার দাদা মুসলমান ছিলেন।’ সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ধর্ম নিয়ে সত্যিই এক ধোয়াশা রয়ে গেছে। এই ধোয়াশার জট কবে খুলবে তা কেও বলতে পারে না।