সারা শরীরের ত্বক খসখসে?
3 Answers
প্রবণতা শীতকালে বেশি দেখা যায়। শুষ্কতার কারণে ত্বক ফেটে যায় ও আঁশের মতো উঠতে থাকে। বেশি শুকনো হলে ত্বক লালচে হয়। অনেক সময় ত্বক ফেটে রক্ত বের হয়। আবার কখনো কখনো এর থেকে চুলকানি, ত্বকের প্রদাহও হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে গেলে সবার ত্বকই কমবেশি শুকনো হয়। তবে অনেকেই আছেন, যারা জন্মসূত্রে শুকনো ত্বক লাভ করেন। ইকথায়োসিসের ফলে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। মাছের আঁশের মতো বড় বড় ত্বকের টুকরো ওঠে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকেরই এ রোগ অনেকাংশে কমে যায়। শুষ্কতার কারণ : বহির্ত¡কের একবারে বাইরের স্তর বা কেরাটিন স্তরের অভ্যন্তরে পানির পরিমাণ কমে গেলে ত্বক শুকনো হয়ে যায়। আবার বেশি বেশি সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের ওপরের স্বাভাবিক ময়শ্চারাইজার আবরণ নষ্ট হয় এবং ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ডিটারজেন্ট বা সমজাতীয় কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে বহির্ত্বকের কোষের মধ্যকার লিপিড স্তর বা চর্বি স্তর গলে যায়। ফলে কোষ আলগা হয়ে পড়ে। কোনো কারণে কেউ বেশিদিন অপুষ্টিতে ভুগলেও ত্বক শুকনো হতে পারে। অপুষ্টি হলে ত্বকের ফ্যাট অংশে টান পড়ে। বিশেষ করে লাইনোলেইক এসিড নামে ফ্যাটি এসিড শরীরে কমে গেলে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়। খাবারে লইনোলেইক এসিড না থাকলে ত্বক শুকনো হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিকার : বাতাসে যখন আর্দ্রতা কমে যায়, বিশেষ করে শীতকালে তখন তেল ও পানির একটি প্রলেপ ত্বকে মাখতে হবে। সেটি হতে পারে অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল। বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের ময়শ্চারাইজার পাওয়া যায়, যা শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। গ্লিসারিনও একটি ভালো মশ্চারাইজার। এটা পানির সঙ্গে মিশ্রণ করে ত্বকে মাখতে হয়। গোসল সেরে ওঠা মাত্রই টাওয়াল দিয়ে চেপে পানিটুকু তুলে নিতে হবে। তারপর পানি আর গ্লিসারিনের মিশ্রণ শরীরে মেখে দিতে হয়। তবে ত্বকের ভাঁজযুক্ত স্থানে গ্লিসারিন বা ময়শ্চারাইজার না মাখাই ভালো। কারণ ওইসব এলাকা ফাঙ্গাসের উর্বর ক্ষেত্র। সেখানে গ্লিসারিন বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক ভেজা থাকবে এবং ফাঙ্গাসের জন্ম হবে। লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজী হাসপাতাল ফার্মগেট, ঢাকা।
ত্বক ভালো রাখার একমাত্র উপাদান হল পানি। প্রচুর পানি খেলে শরীর এর টক্সিন বের হয়ে যায়। রুক্ষতা থাকে না। ত্বক সতেজ থাকে। ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক নানা জিনিস ই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। ফলের রস, শরবতের মতো তরল জাতীয় খাবার বেশি খাবেন। কোন ধরনের দুশ্চিন্তা করবেন না। ক্রিমঃ শুষ্ক ত্বকের খসখসে ভাব দূর করার জন্য এবং বলিরেখা পড়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সবসময় ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। অবশ্য ক্রিমের বদলে বেবি লোশনও ব্যবহার করতে পারেন। তবে গরমের দিনে ক্রিম হতে হবে তেলবিহীন। নতুবা ক্রিমের অতিরিক্ত তেল গরমে আরো বেশি সমস্যা তৈরি করবে।
বাতাসে এখন বসন্তের সুর। আর এ সময়ে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে শুরুকরে। হাত ও পায়ের ত্বকও ময়েশ্চারের অভাবে বুড়িয়ে যেতে থাকে। এই সময়ে তাই ত্বকের বিশেষ যতœ নেয়া প্রয়োজন। প্রথমেই প্রয়োজন ত্বকের ট্রিটমেন্টÑযা গোসলের মাধ্যমে করতে পারেন।গোসল ও ত্বকের ট্রিটমেন্ট : গোসলের আগে সারা শরীরে ভাল করে তেল ম্যাসাজ করুন। তিল তেল ব্যবহার করতে পারলে ভাল হয়। তিল তেলের বদলে আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, ম্যাসাজ করার আগে একটু গরম করে নেবেন। গোসলের আগে লেমন টারমারিক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এই ক্রিম শুধু ত্বক নরম করে না, সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কালোভাব, সানট্যানের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। সাবান ও ক্লোরিনযুক্ত পানি ব্যবহারের ফলে ত্বকের যা ক্ষতি হয়, তা থেকে ত্বককে রক্ষা করতেও এই ক্রিম সাহায্য করে। হলুদের এ্যান্টিসেপটিক উপাদান ত্বকে ইনফেকশন প্রতিরোধ করে।বাড়িতে প্রি-বাথ ট্রিটমেন্টের জন্য বেসন, সামান্য দুধ বা দই হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। হাত, পা, গলা ও ঘাড়ে ভাল করে এই পেস্ট লাগান।২০ মিনিট পর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষতে থাকুন। গোসলের সময় পুরো পেস্টটা ধুয়ে ফেলুন। বেসন, হলুদের এই পেস্ট ক্লেনজারের কাজ করে। সাবান না ব্যবহার করলেও চলে। শীতের সময় সোপ ফ্রি শাওয়ার জেল ব্যবহার করুন। মাইল্ড গ্লিসারিন সাবানও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাবান ব্যবহার না করতে পারলেই ভাল। এতে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। গোসলের পরেই বডি লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। ভিজে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে সহজে এ্যাবজর্ব করবে।ত্বকের মসৃণ ভাব বজায় রাখার জন্য নিমপাতা বেটে নারিকেল তেল ও কর্পুরের সঙ্গে মিশিয়ে মাখলে উপকার পাবেন।ত্বক খসখসে হয়ে গেলে দুই চা-চামচ মাখন ও মধু মিশিয়ে প্যাকটা মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। তারপর ঠা-া পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।বাড়ি থেকে বের হবার আগে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। কারণ সূর্যের রশ্মির প্রভাবে অনেক সময় ত্বক ময়েশ্চার হারিয়ে ফেলে।মধু ব্যবহার করতে পারলে ত্বক ভাল থাকবে। মধু ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। মধুর সঙ্গে অল্প আমন্ড অয়েল অথবা ডিমের কুসুম মিশিয়ে প্রতিদিন মুখে লাগান ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।তৈলাক্ত ত্বকপাতিলেবুর রস, নিমপাতার রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে পুরো মুখে লাগান। আধাঘণ্টা পর ঠা-া পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।কাচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে গেলে গোলাপজল দিয়ে মুছে নিন।কমলালেবুর খোসা বাটা, চালের গুঁড়ো সমপরিমাণ মিশিয়ে লাগান। প্যাক আধা শুকনো হলে প্রথমে দুধ লাগিয়ে স্ক্রাব করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।নির্জীব ত্বকত্বকের ক্লান্তিভাব দূর করতে মুসুর ডালের পেস্ট ও ধনেপাতার রস মিশিয়েমুখে আধ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। পরে ঠা-া পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।ডাবের পানি, গোলাপ জল, পাতিলেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। আধঘণ্টা পর ধুয়ে ক্রিম লাগান।মুখের ছোপ দূর করতে টমাটো জুস, কাঁচা হলুদের রস ভুসিসমেত আটা মিশিয়ে মুখে, গলায় লাগান। গোলাপজল দিয়ে মুছে নিন।কমলালেবুর রস ও ওটমিল সমপরিমাণে মিশিয়ে লাগান।পাকা পেঁপে চটকে মধু মিশিয়ে মুখে, হাতে, গলায় লাগান। বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।গোলাপের পাপড়ি, দুধের সর বাটা, মধু মিশিয়ে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বক নরম ও মসৃণ হবে।ত্বকে বলিরেখার সমস্যাসারারাত কিশমিশ, কাজু আধকাপ দুধে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন বেটে মধু ও কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন। বিশ মিনিট পরশসার রস দিয়ে মুছে নিন।ত্বক মসৃণ করতে ও ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখতে বিউলির ডাল বাটা মধু মিশিয়ে লাগান।আমন্ড অয়েল, দুধের সর মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন।হাতের ত্বক নরম রাখতেজামাকাপড়, বাসন পরিষ্কার করার সময় হাতে গ্লাভস পরুন। ওষুধের দোকান থেকে সার্জিক্যাল গ্লাভস কিনে নিন।ধোয়ার কাজ হয়ে গেলে গ্লাভস খুলে হাতে ক্রিম ম্যাসাজ করে নিন। নখের চারপাশের অংশেও ক্রিম ম্যাসাজ করবেন।দুই টেবিল চামচ সানফ্লাওয়ার অয়েল, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ৩ টেবিল চামচ মোটা দানার চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে হাতের ওপরে ও নিচের অংশে ঘষুণ। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার এই পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারেন। অতিরিক্ত শুষ্ক ও কালো ত্বকের জন্য এই পেস্ট উপকারী।হাতের শুষ্ক ভাব কমানোর জন্য ৫০ মিলি গোলাপ জলের মধ্যে ১ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে লোশন তৈরি করে রাখুন। হাতে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।পায়ের যতেœশীতকালে ঠা-া আবহাওয়ার কারণে ত্বকে ময়েশ্চারের অভাব দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনও ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায়পায়ের গোড়ালির ত্বক রুক্ষ ও ফেটে যায়। ডেড সেল জমতে শুরু করে।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সামান্য গরম পানিতে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পা ডোবানোর আগে পানিতে কোর্স সল্ট ও শ্যাম্পু মেশান। স্ক্রাবারের সাহায্যে গোড়ালি ঘষে ডেড সেল ঝরিয়ে ফেলুন। মেটাল স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না। পা পরিষ্কার করার পরে ক্রিম ম্যাসাজ করুন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy